০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমি বিবাদ: আপন ভাইয়ের কুড়ালের কোপে হাসপাতালে জামাল উদ্দিন

 

​মামুনুর রশিদ মামুন, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় কোনো ছেলেসন্তান না থাকার সুযোগে এক ব্যক্তির পৈতৃক জমি ও বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে আপন ভাই ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত মোঃ জামাল উদ্দিন (৫০) বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​গত ২৬ জুন (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর বিসকা ইউনিয়নের বিসকা পূর্ব পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বিবাহিত কন্যা রুনা আক্তার রূপা (২৭) বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ:
​অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আহত জামাল উদ্দিনের কোনো ছেলেসন্তান নেই। তার দুই কন্যাসন্তানই বিবাহিত। ছেলে না থাকায় জামাল উদ্দিনের বসতবাড়িসহ পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক আত্মসাৎ ও বেদখল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিল তার আপন ছোট ভাই মোঃ আলতাফ হোসেন (৪৮) ও তার পরিবার।

​গত শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে জামাল উদ্দিনের বিবাহিত মেয়ে রুনা আক্তার রূপা বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। দুপুরের দিকে জামাল উদ্দিন জুমার নামাজে যাওয়ার পূর্বে বাড়ির পাশের পতিত জমি থেকে নিজের গরু আনতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার ওপর চড়াও হন বিবাদীরা।

​লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ নম্বর বিবাদী আলতাফ হোসেন হত্যার উদ্দেশ্যে তার বড় ভাই জামাল উদ্দিনের মাথায় কুড়াল দিয়ে উপর্যুপরি কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। জামাল উদ্দিনের চিৎকার শুনে তার মেয়ে রুনা আক্তার ও প্রতিবেশী ভাতিজা (২ নম্বর সাক্ষী) বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। আলতাফ হোসেনের স্ত্রী সালমা আক্তার (৪৫) ও মেয়ে শারমিন নাহার আশা (২৬) বাঁশের লাঠি দিয়ে জামাল উদ্দিন ও তার মেয়েকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর নীলাফোলা জখম করেন।

​হুমকিতে পরিবার, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী: ​আশপাশের লোকজন ও প্রতিবেশীরা লাঠিসোটা ও কুড়ালের আঘাতের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা রক্তাক্ত জামাল উদ্দিনকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ‘খুন করে হলেও জমি দখল করা হবে’ মর্মে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

​পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় জামাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

​বাদী রুনা আক্তার রূপা জানান, “আমাদের কোনো ভাই না থাকায় এবং বাবার চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ জানাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। হামলাকারীরা এখনো আমাদের হুমকি দিচ্ছে, আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

​প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি: ​এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ছেলেসন্তান না থাকায় জামাল উদ্দিনের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছিল। এই সুযোগে আপন ভাইয়ের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

জমি বিবাদ: আপন ভাইয়ের কুড়ালের কোপে হাসপাতালে জামাল উদ্দিন

Update Time : ০৬:৪০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

 

​মামুনুর রশিদ মামুন, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় কোনো ছেলেসন্তান না থাকার সুযোগে এক ব্যক্তির পৈতৃক জমি ও বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে আপন ভাই ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত মোঃ জামাল উদ্দিন (৫০) বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​গত ২৬ জুন (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর বিসকা ইউনিয়নের বিসকা পূর্ব পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বিবাহিত কন্যা রুনা আক্তার রূপা (২৭) বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ:
​অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আহত জামাল উদ্দিনের কোনো ছেলেসন্তান নেই। তার দুই কন্যাসন্তানই বিবাহিত। ছেলে না থাকায় জামাল উদ্দিনের বসতবাড়িসহ পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক আত্মসাৎ ও বেদখল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিল তার আপন ছোট ভাই মোঃ আলতাফ হোসেন (৪৮) ও তার পরিবার।

​গত শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে জামাল উদ্দিনের বিবাহিত মেয়ে রুনা আক্তার রূপা বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। দুপুরের দিকে জামাল উদ্দিন জুমার নামাজে যাওয়ার পূর্বে বাড়ির পাশের পতিত জমি থেকে নিজের গরু আনতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার ওপর চড়াও হন বিবাদীরা।

​লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ নম্বর বিবাদী আলতাফ হোসেন হত্যার উদ্দেশ্যে তার বড় ভাই জামাল উদ্দিনের মাথায় কুড়াল দিয়ে উপর্যুপরি কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। জামাল উদ্দিনের চিৎকার শুনে তার মেয়ে রুনা আক্তার ও প্রতিবেশী ভাতিজা (২ নম্বর সাক্ষী) বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। আলতাফ হোসেনের স্ত্রী সালমা আক্তার (৪৫) ও মেয়ে শারমিন নাহার আশা (২৬) বাঁশের লাঠি দিয়ে জামাল উদ্দিন ও তার মেয়েকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর নীলাফোলা জখম করেন।

​হুমকিতে পরিবার, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী: ​আশপাশের লোকজন ও প্রতিবেশীরা লাঠিসোটা ও কুড়ালের আঘাতের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা রক্তাক্ত জামাল উদ্দিনকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ‘খুন করে হলেও জমি দখল করা হবে’ মর্মে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

​পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় জামাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

​বাদী রুনা আক্তার রূপা জানান, “আমাদের কোনো ভাই না থাকায় এবং বাবার চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ জানাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। হামলাকারীরা এখনো আমাদের হুমকি দিচ্ছে, আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

​প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি: ​এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ছেলেসন্তান না থাকায় জামাল উদ্দিনের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছিল। এই সুযোগে আপন ভাইয়ের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।