০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন বছরেও জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্যারালাইসিসে অচল শরীর,অনাহারে-অর্ধাহারে কাটে জীবন

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি : শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে পড়ে আছে প্রায় তিন বছর। নেই কাজ করার সামর্থ্য,নেই চিকিৎসার টাকা। স্ত্রী মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে চার সদস্যের সংসার। সহায়-সম্বল বলতে বাড়ির ১০ শতাংশ জমি। এমন অসহায় অবস্থার মধ্যেও তিন বছর ধরে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের অপেক্ষায় দিন কাটছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সুরেশ চন্দ্র পালের। সুরেশ চন্দ্র পাল উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মরহুম কালীপদ পালের ছেলে। স্ত্রী শ্রীমতি চায়না রানী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার। একসময় মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন সুরেশ। কিন্তু প্রায় তিন বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকেই কর্মহীন হয়ে ঘরে পড়েন তিনি।
সংসারের হাল ধরেছেন স্ত্রী চায়না রানী। নিজ হাতে মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে সেগুলো বিক্রি করে যে সামান্য টাকা পান, তা দিয়ে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে কখনো অনাহারে,কখনো অর্ধাহারে দিন কাটছে পরিবারটির। অর্থের অভাবে সুরেশের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পাওয়ার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন সুরেশ। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্ড পাননি। সরকারি কোনো সহায়তাও জোটেনি তাঁর ভাগ্যে। অসুস্থ,কর্মক্ষমতাহীন ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল একজন মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে এত দীর্ঘ সময় লাগছে কেন—এ প্রশ্নই এখন স্থানীয় সচেতন মহলের।
সুরেশ চন্দ্র পাল বলেন, “শরীরের এক পাশ অচল। কোনো কাজ করতে পারি না। সংসারে অভাব,চিকিৎসার টাকাও নেই। অনেক আগে ভাতার জন্য আবেদন করেছি। এখন সরকার যদি একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেয়, তাহলে পরিবারটি অন্তত বাঁচার একটা অবলম্বন পাবে।”
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সানজা ইসলাম সানীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

তিন বছরেও জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্যারালাইসিসে অচল শরীর,অনাহারে-অর্ধাহারে কাটে জীবন

Update Time : ০৪:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি : শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে পড়ে আছে প্রায় তিন বছর। নেই কাজ করার সামর্থ্য,নেই চিকিৎসার টাকা। স্ত্রী মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে চার সদস্যের সংসার। সহায়-সম্বল বলতে বাড়ির ১০ শতাংশ জমি। এমন অসহায় অবস্থার মধ্যেও তিন বছর ধরে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের অপেক্ষায় দিন কাটছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর সুরেশ চন্দ্র পালের। সুরেশ চন্দ্র পাল উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মরহুম কালীপদ পালের ছেলে। স্ত্রী শ্রীমতি চায়না রানী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার। একসময় মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন সুরেশ। কিন্তু প্রায় তিন বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকেই কর্মহীন হয়ে ঘরে পড়েন তিনি।
সংসারের হাল ধরেছেন স্ত্রী চায়না রানী। নিজ হাতে মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে সেগুলো বিক্রি করে যে সামান্য টাকা পান, তা দিয়ে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে কখনো অনাহারে,কখনো অর্ধাহারে দিন কাটছে পরিবারটির। অর্থের অভাবে সুরেশের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পাওয়ার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেছিলেন সুরেশ। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্ড পাননি। সরকারি কোনো সহায়তাও জোটেনি তাঁর ভাগ্যে। অসুস্থ,কর্মক্ষমতাহীন ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল একজন মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে এত দীর্ঘ সময় লাগছে কেন—এ প্রশ্নই এখন স্থানীয় সচেতন মহলের।
সুরেশ চন্দ্র পাল বলেন, “শরীরের এক পাশ অচল। কোনো কাজ করতে পারি না। সংসারে অভাব,চিকিৎসার টাকাও নেই। অনেক আগে ভাতার জন্য আবেদন করেছি। এখন সরকার যদি একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেয়, তাহলে পরিবারটি অন্তত বাঁচার একটা অবলম্বন পাবে।”
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সানজা ইসলাম সানীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।