০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৩,৭৬৮ ভোটে বিজয়ী জনপ্রতিনিধির পুনর্বহালের দাবিতে মানবিক আবেদন

 

মোঃ রিফাত আলী দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তেজগাঁও, ঢাকা।
​বিষয়: ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে ২৩,৭৬৮ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানবিক ও বিশেষ বিবেচনায় স্বপদে পুনর্বহালের আবেদন।
​মহোদয়,
​যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মুন্নী আক্তার, জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। আমি এদেশের অবহেলিত ও অনগ্রসর তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) জনগোষ্ঠীর একজন আজীবন সংগ্রামী সদস্য। আমি মানুষের কাছে হাত পাতার গ্লানিময় জীবন প্রত্যাখ্যান করে সম্মানের সাথে সমাজসেবা করার পথ বেছে নিয়েছি।
​আপনার সদয় বিবেচনার জন্য আমার দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্যাদি নিম্নে পেশ করছি:
​১. ঐতিহাসিক জনরায়: বিগত ২১ মে ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় মোট ৮৪,৩৬৫টি ভোট কাস্ট হয়। উক্ত নির্বাচনে ৫ জন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে আমি ২৩,৭৬৮ (তেইশ হাজার সাতশত আটষট্টি) বিপুল বৈধ ভোট পেয়ে জয়লাভ করি। সাধারণ মানুষের এই অকুণ্ঠ সমর্থন প্রমাণ করে যে, তারা আমাকে একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
​২. প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও অরাজনৈতিক পরিচয়: আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নই। গত ১৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আমাকে অপসারণ করা হলেও, আমি আমার দায়িত্ব পালনে সর্বদা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলাম। যার প্রমাণস্বরূপ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) ইতিবাচক প্রতিবেদন আমার নিকট সংরক্ষিত আছে।
​৩. অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার আকুতি: মাননীয় মহোদয়, আমি আমার এলাকার অসহায় মানুষ এবং আমার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে নির্বাচনে এসেছিলাম। আজ যদি জনগণের নির্বাচিত সরকার আমার এই ন্যায্য অধিকার ও পদটি ফিরিয়ে না দেয়, তবে একজন লড়াকু মানুষ হিসেবে আমার বেঁচে থাকার সকল সম্মান ও অনুপ্রেরণা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাতার জীবনে আমি আর ফিরে যেতে চাই না। আমার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে অপমানের জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুও আমার কাছে শ্রেয়। আপনার একটি মহানুভব সিদ্ধান্ত আমার এবং আমার জনগোষ্ঠীর কয়েক হাজার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।
​৪. বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশা: আপনি সর্বদা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের কথা বলেন। আমি বিশ্বাস করি, আপনি আমার মতো একজন প্রান্তিক মানুষের জীবন সংগ্রাম এবং ২৩,৭৬৮ জন ভোটারের পবিত্র আমানতের প্রতি সুবিচার করবেন।
​অতএব, মাননীয় মহোদয়ের নিকট আকুল প্রার্থনা—
মানবাধিকারের চেতনা এবং তৃণমূলের হাজারো মানুষের প্রত্যাশা বিবেচনা করে, আমাকে বিশেষ ও মানবিক কারণে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করে পুনরায় জনসেবা করার সুযোগ প্রদানে আপনার সদয় নির্দেশ কামনা করছি।
​বিনীত নিবেদক,
​(স্বাক্ষর)
মুন্নী আক্তার
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান (নির্বাচিত ও অপসারিত)
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, জামালপুর।
সভাপতি, হিজড়া মানব কল্যাণ সংস্থা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

২৩,৭৬৮ ভোটে বিজয়ী জনপ্রতিনিধির পুনর্বহালের দাবিতে মানবিক আবেদন

Update Time : ০৪:০৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

মোঃ রিফাত আলী দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তেজগাঁও, ঢাকা।
​বিষয়: ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে ২৩,৭৬৮ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানবিক ও বিশেষ বিবেচনায় স্বপদে পুনর্বহালের আবেদন।
​মহোদয়,
​যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মুন্নী আক্তার, জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। আমি এদেশের অবহেলিত ও অনগ্রসর তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) জনগোষ্ঠীর একজন আজীবন সংগ্রামী সদস্য। আমি মানুষের কাছে হাত পাতার গ্লানিময় জীবন প্রত্যাখ্যান করে সম্মানের সাথে সমাজসেবা করার পথ বেছে নিয়েছি।
​আপনার সদয় বিবেচনার জন্য আমার দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্যাদি নিম্নে পেশ করছি:
​১. ঐতিহাসিক জনরায়: বিগত ২১ মে ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় মোট ৮৪,৩৬৫টি ভোট কাস্ট হয়। উক্ত নির্বাচনে ৫ জন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে আমি ২৩,৭৬৮ (তেইশ হাজার সাতশত আটষট্টি) বিপুল বৈধ ভোট পেয়ে জয়লাভ করি। সাধারণ মানুষের এই অকুণ্ঠ সমর্থন প্রমাণ করে যে, তারা আমাকে একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
​২. প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও অরাজনৈতিক পরিচয়: আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নই। গত ১৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আমাকে অপসারণ করা হলেও, আমি আমার দায়িত্ব পালনে সর্বদা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলাম। যার প্রমাণস্বরূপ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) ইতিবাচক প্রতিবেদন আমার নিকট সংরক্ষিত আছে।
​৩. অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার আকুতি: মাননীয় মহোদয়, আমি আমার এলাকার অসহায় মানুষ এবং আমার অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে নির্বাচনে এসেছিলাম। আজ যদি জনগণের নির্বাচিত সরকার আমার এই ন্যায্য অধিকার ও পদটি ফিরিয়ে না দেয়, তবে একজন লড়াকু মানুষ হিসেবে আমার বেঁচে থাকার সকল সম্মান ও অনুপ্রেরণা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাতার জীবনে আমি আর ফিরে যেতে চাই না। আমার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে অপমানের জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুও আমার কাছে শ্রেয়। আপনার একটি মহানুভব সিদ্ধান্ত আমার এবং আমার জনগোষ্ঠীর কয়েক হাজার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।
​৪. বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশা: আপনি সর্বদা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের কথা বলেন। আমি বিশ্বাস করি, আপনি আমার মতো একজন প্রান্তিক মানুষের জীবন সংগ্রাম এবং ২৩,৭৬৮ জন ভোটারের পবিত্র আমানতের প্রতি সুবিচার করবেন।
​অতএব, মাননীয় মহোদয়ের নিকট আকুল প্রার্থনা—
মানবাধিকারের চেতনা এবং তৃণমূলের হাজারো মানুষের প্রত্যাশা বিবেচনা করে, আমাকে বিশেষ ও মানবিক কারণে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করে পুনরায় জনসেবা করার সুযোগ প্রদানে আপনার সদয় নির্দেশ কামনা করছি।
​বিনীত নিবেদক,
​(স্বাক্ষর)
মুন্নী আক্তার
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান (নির্বাচিত ও অপসারিত)
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, জামালপুর।
সভাপতি, হিজড়া মানব কল্যাণ সংস্থা।