০৪:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবুজে ঘেরা পদ্মনগরে নান্দনিক স্থাপত্যে রাজসিক ‘ইজারা পদ্মনগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’

বাগেরহাট প্রতিনিধি : মো: মুন্না শেখ
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পদ্মনগর। সবুজে ঘেরা শান্ত এই গ্রামে গেলেই চোখে পড়ে সাদা গম্বুজওয়ালা দৃষ্টিনন্দন এক মসজিদ। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও মুসলিম ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা ‘ইজারা পদ্মনগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’ প্রতিদিনই দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের আকর্ষণ করছে।
২০২২ সালে নির্মিত দ্বিতল এই মসজিদটি সাদামাটা নকশায় হলেও রয়েছে রাজসিক আবহ। প্রধান গম্বুজটি দূর থেকেই নজর কাড়ে। প্রশস্ত প্রবেশপথ ও পরিমিত নকশার দেয়াল ভবনটিকে দিয়েছে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ সৌন্দর্য। ভেতরে মার্বেল পাথরের মেঝে এবং তিন পাশে লোহার গ্রিলের মাধ্যমে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা থাকায় নামাজের সময় তৈরি হয় প্রশান্ত ও নির্মল পরিবেশ।
মসজিদের মেহরাব নির্মাণ করা হয়েছে পবিত্র কাবার আদলে, যা মুসল্লিদের মনে বাড়তি আবেগ ও একাগ্রতা সৃষ্টি করে। সামনে রয়েছে প্রশস্ত খোলা প্রাঙ্গণ, যেখানে অতিরিক্ত মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারেন। পূর্ব ও উত্তর পাশে সড়ক, পশ্চিমে পদ্মনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এবং দক্ষিণে কবরস্থান—চারপাশের উন্মুক্ত পরিবেশ মসজিদের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পূর্ব পাশে রয়েছে ইসলামী পাঠাগার ও অজুখানা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আশপাশে এমন পরিকল্পিত ও নান্দনিক মসজিদ না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে জুমা ও রমজান মাসে মুসল্লিদের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেকে নামাজের পাশাপাশি মসজিদের সৌন্দর্য উপভোগ করতেও আসেন।
পদ্মনগর গ্রামের ব্যবসায়ী সরদার জাহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত অর্থায়নে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। ২০১৮ সালে পুরনো ও জরাজীর্ণ মসজিদের পরিবর্তে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি। প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিকের তিন বছরের প্রচেষ্টায় ২০২২ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা ইমরান হোসাইন বলেন, “এই মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আশপাশের এলাকায় এমন সুন্দর মসজিদ না থাকায় অনেকেই এখানে এসে নামাজ আদায় করেন।”
সব মিলিয়ে পদ্মনগরের এই রাজসিক মসজিদটি এখন কচুয়া উপজেলার ধর্মীয় ও নান্দনিক স্থাপনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সবুজে ঘেরা পদ্মনগরে নান্দনিক স্থাপত্যে রাজসিক ‘ইজারা পদ্মনগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’

Update Time : ০১:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাগেরহাট প্রতিনিধি : মো: মুন্না শেখ
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পদ্মনগর। সবুজে ঘেরা শান্ত এই গ্রামে গেলেই চোখে পড়ে সাদা গম্বুজওয়ালা দৃষ্টিনন্দন এক মসজিদ। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও মুসলিম ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা ‘ইজারা পদ্মনগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’ প্রতিদিনই দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের আকর্ষণ করছে।
২০২২ সালে নির্মিত দ্বিতল এই মসজিদটি সাদামাটা নকশায় হলেও রয়েছে রাজসিক আবহ। প্রধান গম্বুজটি দূর থেকেই নজর কাড়ে। প্রশস্ত প্রবেশপথ ও পরিমিত নকশার দেয়াল ভবনটিকে দিয়েছে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ সৌন্দর্য। ভেতরে মার্বেল পাথরের মেঝে এবং তিন পাশে লোহার গ্রিলের মাধ্যমে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা থাকায় নামাজের সময় তৈরি হয় প্রশান্ত ও নির্মল পরিবেশ।
মসজিদের মেহরাব নির্মাণ করা হয়েছে পবিত্র কাবার আদলে, যা মুসল্লিদের মনে বাড়তি আবেগ ও একাগ্রতা সৃষ্টি করে। সামনে রয়েছে প্রশস্ত খোলা প্রাঙ্গণ, যেখানে অতিরিক্ত মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারেন। পূর্ব ও উত্তর পাশে সড়ক, পশ্চিমে পদ্মনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এবং দক্ষিণে কবরস্থান—চারপাশের উন্মুক্ত পরিবেশ মসজিদের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পূর্ব পাশে রয়েছে ইসলামী পাঠাগার ও অজুখানা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আশপাশে এমন পরিকল্পিত ও নান্দনিক মসজিদ না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে জুমা ও রমজান মাসে মুসল্লিদের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেকে নামাজের পাশাপাশি মসজিদের সৌন্দর্য উপভোগ করতেও আসেন।
পদ্মনগর গ্রামের ব্যবসায়ী সরদার জাহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত অর্থায়নে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। ২০১৮ সালে পুরনো ও জরাজীর্ণ মসজিদের পরিবর্তে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি। প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিকের তিন বছরের প্রচেষ্টায় ২০২২ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা ইমরান হোসাইন বলেন, “এই মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আশপাশের এলাকায় এমন সুন্দর মসজিদ না থাকায় অনেকেই এখানে এসে নামাজ আদায় করেন।”
সব মিলিয়ে পদ্মনগরের এই রাজসিক মসজিদটি এখন কচুয়া উপজেলার ধর্মীয় ও নান্দনিক স্থাপনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।