০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় গ্রিড টাওয়ারের পাশে নিষেধাক্কা সত্বেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন,ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ গ্রিট

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চরে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন যমুনা নদীতে পুনরায় শুরু হয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক অভিযানের পরও একটি সংঘবদ্ধ চক্র ৪টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে প্রতিদিন শতাধিক বাল্কহেডে বালু উত্তোলন ও পাচার করছে, যার আর্থিক পরিমাণ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাওয়ার সংলগ্ন নদী তলদেশে ব্যাপক খননের ফলে জাতীয় গ্রিড অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের কয়েকশ বসতবাড়িও ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হয়ে টাওয়ারের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, আলোকদিয়া চরের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই বালু উত্তোলন চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের সহায়তায় টাঙ্গাইল এলাকার একটি সশস্ত্র চক্র ঘটনাস্থলে অবস্থান করে ড্রেজার কার্যক্রম পাহারা দিচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, “বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০”-এর ৬২ ধারায় সংরক্ষিত এলাকা—বিশেষত রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও জনবসতির নিকটবর্তী নদী এলাকায়—যে কোনো ধরনের বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের কার্যক্রম শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ রয়েছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা বলেন, “জাতীয় গ্রিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ড্রেজার জব্দ এবং স্থায়ীভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায়, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা অবকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

জাতীয় গ্রিড টাওয়ারের পাশে নিষেধাক্কা সত্বেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন,ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ গ্রিট

Update Time : ০৩:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চরে জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন যমুনা নদীতে পুনরায় শুরু হয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক অভিযানের পরও একটি সংঘবদ্ধ চক্র ৪টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে প্রতিদিন শতাধিক বাল্কহেডে বালু উত্তোলন ও পাচার করছে, যার আর্থিক পরিমাণ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাওয়ার সংলগ্ন নদী তলদেশে ব্যাপক খননের ফলে জাতীয় গ্রিড অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের কয়েকশ বসতবাড়িও ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হয়ে টাওয়ারের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, আলোকদিয়া চরের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই বালু উত্তোলন চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের সহায়তায় টাঙ্গাইল এলাকার একটি সশস্ত্র চক্র ঘটনাস্থলে অবস্থান করে ড্রেজার কার্যক্রম পাহারা দিচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, “বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০”-এর ৬২ ধারায় সংরক্ষিত এলাকা—বিশেষত রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও জনবসতির নিকটবর্তী নদী এলাকায়—যে কোনো ধরনের বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের কার্যক্রম শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ রয়েছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা বলেন, “জাতীয় গ্রিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ড্রেজার জব্দ এবং স্থায়ীভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায়, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা অবকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।