০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরার রইচপুরে প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঈদুল ফিতর উদযাপিত

 

মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন সাতক্ষীরা।।
সাতক্ষীরা পৌর সভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রইচপুরে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় রইচপুর উত্তরপাড়া জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রইচপুর ঈদগাহ ময়দানে নামাজ হওয়ার কথা থাকলেও ভোর থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আয়োজক কমিটি স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ঈদগাহের পরিবর্তে উত্তরপাড়া জামে মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সী ধর্মপ্রাণ মানুষ নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে ঈদের নামাজে শামিল হন।

নামাজ পূর্ববর্তী আলোচনায় বক্তারা বলেন, “ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই শুদ্ধতার জয়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আল্লাহ তাআলা আমাদের এই সুন্দর দিনটি উপহার দিয়েছেন। আবহাওয়ার বৈরিতায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও আল্লাহর ঘরে সমবেত হতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। এই আনন্দ যেন আমরা সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে পারি।”

নামাজে ইমামতি করেন রইচপুর উত্তরপাড়া মসজিদের ইমাম আব্দুর রহিম। নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। পরিশেষে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের চিরন্তন ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করেন।

আজ এক পরম আনন্দের দিন। দীর্ঘ এক মাসের আত্মশুদ্ধির লড়াই শেষে আমরা মিলিত হয়েছি এক মহামিলনের মোহনায়। যদিও প্রকৃতি আজ কিছুটা বৈরী, তবুও আমাদের হৃদয়ে আজ খুশির জোয়ার। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে আমরা আজ ঈদগাহে যেতে পারিনি ঠিকই, কিন্তু মসজিদে আমরা যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছি, এটাই ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য। ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড় ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আসুন আজ থেকে আমরা এক নতুন ভ্রাতৃত্বের সূচনা করি। ঈদ মোবারক!”

মোনাজাত বলেন”হে আল্লাহ, হে পরম করুণাময়!
আজকের এই পবিত্র ঈদের সকালে আমরা আপনার দরবারে হাত তুলেছি। আমরা সারাদিন রোজা রেখে আপনার সন্তুষ্টি খুঁজেছি, আজ সেই ত্যাগের বিনিময়ে আপনি আমাদের খুশির দিন উপহার দিয়েছেন। আমাদের এই নামাজ এবং ইবাদত কবুল করে নিন। হে আল্লাহ, আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও আপনার মেহেরবানিতে আমরা আজ একত্রিত হতে পেরেছি। আমাদের মাঝে থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দিন। এই জনপদের প্রতিটি ঘরে সুখ আর শান্তি বর্ষণ করুন। আমাদের দেশ ও সমাজকে সকল বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সাতক্ষীরার রইচপুরে প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঈদুল ফিতর উদযাপিত

Update Time : ০৫:১৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

 

মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন সাতক্ষীরা।।
সাতক্ষীরা পৌর সভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রইচপুরে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় রইচপুর উত্তরপাড়া জামে মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রইচপুর ঈদগাহ ময়দানে নামাজ হওয়ার কথা থাকলেও ভোর থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আয়োজক কমিটি স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ঈদগাহের পরিবর্তে উত্তরপাড়া জামে মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সী ধর্মপ্রাণ মানুষ নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে ঈদের নামাজে শামিল হন।

নামাজ পূর্ববর্তী আলোচনায় বক্তারা বলেন, “ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই শুদ্ধতার জয়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আল্লাহ তাআলা আমাদের এই সুন্দর দিনটি উপহার দিয়েছেন। আবহাওয়ার বৈরিতায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও আল্লাহর ঘরে সমবেত হতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। এই আনন্দ যেন আমরা সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে পারি।”

নামাজে ইমামতি করেন রইচপুর উত্তরপাড়া মসজিদের ইমাম আব্দুর রহিম। নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। পরিশেষে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের চিরন্তন ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করেন।

আজ এক পরম আনন্দের দিন। দীর্ঘ এক মাসের আত্মশুদ্ধির লড়াই শেষে আমরা মিলিত হয়েছি এক মহামিলনের মোহনায়। যদিও প্রকৃতি আজ কিছুটা বৈরী, তবুও আমাদের হৃদয়ে আজ খুশির জোয়ার। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে আমরা আজ ঈদগাহে যেতে পারিনি ঠিকই, কিন্তু মসজিদে আমরা যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছি, এটাই ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য। ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড় ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আসুন আজ থেকে আমরা এক নতুন ভ্রাতৃত্বের সূচনা করি। ঈদ মোবারক!”

মোনাজাত বলেন”হে আল্লাহ, হে পরম করুণাময়!
আজকের এই পবিত্র ঈদের সকালে আমরা আপনার দরবারে হাত তুলেছি। আমরা সারাদিন রোজা রেখে আপনার সন্তুষ্টি খুঁজেছি, আজ সেই ত্যাগের বিনিময়ে আপনি আমাদের খুশির দিন উপহার দিয়েছেন। আমাদের এই নামাজ এবং ইবাদত কবুল করে নিন। হে আল্লাহ, আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও আপনার মেহেরবানিতে আমরা আজ একত্রিত হতে পেরেছি। আমাদের মাঝে থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দিন। এই জনপদের প্রতিটি ঘরে সুখ আর শান্তি বর্ষণ করুন। আমাদের দেশ ও সমাজকে সকল বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।