০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোচিংয়ের পথে মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে কোচিং বাণিজ্য বোনকে কোচিংয়ে রেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল হামিদুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের পীরগাছায় ছোট বোনকে কোচিং সেন্টারে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেল ১৫ বছরের স্কুলছাত্র মো. হামিদুলের। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার সাতদরগা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হামিদুল কৃষক মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে ছোট বোনকে কোচিং সেন্টারে পৌঁছে দিতে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিল সে। বোনকে রেখে ফেরার পথেই দুর্ঘটনার শিকার হয় হামিদুল।
এই মৃত্যুর পর নতুন করে সামনে এসেছে শিক্ষার্থীদের কোচিংনির্ভরতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় স্কুলের পাঠদানের পাশাপাশি কোচিংকে প্রায় অপরিহার্য করে তোলা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে পড়তে চাপ দেন। এমনকি কোচিং না করলে পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিভাবকদের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য যদি প্রতিদিন অতিরিক্ত সময় ও পথ পাড়ি দিতে হয়, তাহলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হলে এর দায় কে নেবে?
কোচিং সেন্টারগুলোর বৈধতা যাচাই, অনিয়মের তদন্ত এবং আইনবহির্ভূত কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের কোচিংনির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
সচেতন মহলের মতে, হামিদুলের মৃত্যুকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের কেন এত ভোরে ও সকালে কোচিংয়ে যেতে হচ্ছে, কোচিং সেন্টারগুলো কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা জরুরি।
তাঁদের দাবি, তদন্তে কোনো কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা আইনভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অনুমোদন ও নিয়মনীতি মেনে কোচিং পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
হামিদুলের মৃত্যু যেন আরেকটি পরিসংখ্যান হয়ে না থাকে—এ জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকেরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

কোচিংয়ের পথে মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে কোচিং বাণিজ্য বোনকে কোচিংয়ে রেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল হামিদুলের

Update Time : ০৪:৪১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরের পীরগাছায় ছোট বোনকে কোচিং সেন্টারে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেল ১৫ বছরের স্কুলছাত্র মো. হামিদুলের। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার সাতদরগা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হামিদুল কৃষক মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে ছোট বোনকে কোচিং সেন্টারে পৌঁছে দিতে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিল সে। বোনকে রেখে ফেরার পথেই দুর্ঘটনার শিকার হয় হামিদুল।
এই মৃত্যুর পর নতুন করে সামনে এসেছে শিক্ষার্থীদের কোচিংনির্ভরতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় স্কুলের পাঠদানের পাশাপাশি কোচিংকে প্রায় অপরিহার্য করে তোলা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে পড়তে চাপ দেন। এমনকি কোচিং না করলে পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিভাবকদের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য যদি প্রতিদিন অতিরিক্ত সময় ও পথ পাড়ি দিতে হয়, তাহলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হলে এর দায় কে নেবে?
কোচিং সেন্টারগুলোর বৈধতা যাচাই, অনিয়মের তদন্ত এবং আইনবহির্ভূত কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের কোচিংনির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
সচেতন মহলের মতে, হামিদুলের মৃত্যুকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের কেন এত ভোরে ও সকালে কোচিংয়ে যেতে হচ্ছে, কোচিং সেন্টারগুলো কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা জরুরি।
তাঁদের দাবি, তদন্তে কোনো কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা আইনভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অনুমোদন ও নিয়মনীতি মেনে কোচিং পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
হামিদুলের মৃত্যু যেন আরেকটি পরিসংখ্যান হয়ে না থাকে—এ জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকেরা।