০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিকরগাছার পানিসারায় প্রতিবন্ধী না হয়েও প্রতিবন্ধীর টাকা উত্তোলন

ঝিকরগাছা প্রতিনিধি।। যশোরের ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়নে প্রতিবন্ধি না হয়েও একই পরিবারের তিন সদস্য জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বানিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও সামাজিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর সব চিত্র।

​সরে জমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, পানিসারা ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড মোহিনিকাঠি গ্রামের সৈয়দ গাজীর পুত্র শাহাজাহান, শাহজাহানের কন্যা সুমাইয়া, ইসমাইল মোড়লের কন্যা সুফিয়া বেগম, নবু মোড়লের কন্যা ফাতেমা বেগম, আব্দুল গফুরের পুত্র উকিল মিয়া, উকিল মিয়ার ভাগ্নে সাগর হোসেন, মোসলেম গাজীর দুই ছেলে এনামুল ও মনিরুল, মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম এবং এই দম্পতির ছেলে রাফিদ সহ আরও অনেকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন।

​ভাতা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল জানান, তার পায়ের গোড়ালিতে একটি ঘায়ের দাগ দেখিয়ে তিনি ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে এনামুলের ছোট ভাই মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম বলেন, তিনি পড়ে গিয়ে মাজায় ব্যথা পেয়েছিলেন। এছাড়া তার স্বামীর মাজায় এবং ছেলের হাতে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেন। শাহাজাহানের মা ও সুমাইয়ার দাদী সখিনা বেগম বলেন, তার ছেলের চোখে সামান্য একটু সমস্যা আছে এবং সুমাইয়া ছোটবেলায় ঠিকমতো হাঁটতে পারতো না, তাই তাদের জন্য ভাতার আবেদন করা হয়েছিল। এছাড়া উকিল মিয়ার ভাইয়ের স্ত্রী ও সাগরের মামি মর্জিনা বেগম দাবি করেন, তাদের দুজনের চোখে সামান্য সমস্যা থাকার কারণে তারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। মর্জিনার স্বামী সোনা মিয়াও প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগী।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগে অনেকেই এরকম ভাবে প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা নিচ্ছেন। আমরা এ ধরণের অনিয়মের খবর পেলে যথাযথ তদন্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। প্রতিবন্ধী না হলে তার ভাতা বাতিল করা হবে বলে তিনি জানান।

​এভাবে সামান্য অজুহাত ও জালিয়াতির মাধ্যমে সুস্থ মানুষেরা ভাতা ভোগ করায় এবং প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। সচেতন মহল অবিলম্বে ভুয়া সুবিধাভোগীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ঝিকরগাছার পানিসারায় প্রতিবন্ধী না হয়েও প্রতিবন্ধীর টাকা উত্তোলন

Update Time : ০৬:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝিকরগাছা প্রতিনিধি।। যশোরের ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়নে প্রতিবন্ধি না হয়েও একই পরিবারের তিন সদস্য জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বানিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও সামাজিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর সব চিত্র।

​সরে জমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, পানিসারা ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড মোহিনিকাঠি গ্রামের সৈয়দ গাজীর পুত্র শাহাজাহান, শাহজাহানের কন্যা সুমাইয়া, ইসমাইল মোড়লের কন্যা সুফিয়া বেগম, নবু মোড়লের কন্যা ফাতেমা বেগম, আব্দুল গফুরের পুত্র উকিল মিয়া, উকিল মিয়ার ভাগ্নে সাগর হোসেন, মোসলেম গাজীর দুই ছেলে এনামুল ও মনিরুল, মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম এবং এই দম্পতির ছেলে রাফিদ সহ আরও অনেকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন।

​ভাতা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল জানান, তার পায়ের গোড়ালিতে একটি ঘায়ের দাগ দেখিয়ে তিনি ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে এনামুলের ছোট ভাই মনিরুলের স্ত্রী জেসমিন বেগম বলেন, তিনি পড়ে গিয়ে মাজায় ব্যথা পেয়েছিলেন। এছাড়া তার স্বামীর মাজায় এবং ছেলের হাতে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেন। শাহাজাহানের মা ও সুমাইয়ার দাদী সখিনা বেগম বলেন, তার ছেলের চোখে সামান্য একটু সমস্যা আছে এবং সুমাইয়া ছোটবেলায় ঠিকমতো হাঁটতে পারতো না, তাই তাদের জন্য ভাতার আবেদন করা হয়েছিল। এছাড়া উকিল মিয়ার ভাইয়ের স্ত্রী ও সাগরের মামি মর্জিনা বেগম দাবি করেন, তাদের দুজনের চোখে সামান্য সমস্যা থাকার কারণে তারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। মর্জিনার স্বামী সোনা মিয়াও প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগী।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগে অনেকেই এরকম ভাবে প্রতিবন্ধী না হয়েও ভাতা নিচ্ছেন। আমরা এ ধরণের অনিয়মের খবর পেলে যথাযথ তদন্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। প্রতিবন্ধী না হলে তার ভাতা বাতিল করা হবে বলে তিনি জানান।

​এভাবে সামান্য অজুহাত ও জালিয়াতির মাধ্যমে সুস্থ মানুষেরা ভাতা ভোগ করায় এবং প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। সচেতন মহল অবিলম্বে ভুয়া সুবিধাভোগীদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।