১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহিরপুরে ইজারাবীহিন শান্তিপুর- মাহরাম নদী থেকে ১১ মাসে অর্ধ কোটি টাকা বালু লুট

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর দুই শাখা–মাহারাম ও শান্তিপুর নদী থেকে গত ১১ মাসে ৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বালু অবৈধভাবে তুলে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। ইজারাবিহীন এই দুই নদী থেকে লাগাতার বালু তোলায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নদীর তীরবর্তী এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী দুটি ইজারাভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী চক্র দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আশপাশের এলাকায় স্তূপ করে রাখছে। এতে নদী তীরবর্তী বসতবাড়িগুলো ভাঙনের চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে কিছু নৌকা ও শ্রমিক আটক করলেও মূল কারবারিরা সব সময় অধরাই থেকে যাচ্ছে। গত দুই মাস ধরে বড় ধরনের কোনো অভিযান না হওয়ায় বালুখেকো চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এমনকি শান্তিপুর নদী থেকে তোলা অবৈধ বালু এনে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনেও স্তূপ করে রাখা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শনিবার সকালে ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক অভিযান চালিয়ে সেই বালু জব্দ করেন। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযানকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ ও যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শান্তিপুর ও মাহারাম নদীতে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। সংগৃহীত বালু ট্রলারে করে মধ্যনগর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়। প্রশাসনের নাকের ডগায় ইউএনও কার্যালয়ের সামনে জব্দ হওয়া বালুর খবরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী দুটি থেকে বালু তোলা বন্ধে আলোচনা, কমিটি গঠন ও বাঁশের বেড়া দেওয়া হলেও প্রভাবশালী চক্রকে রোখা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে শিগগিরই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

তাহিরপুরে ইজারাবীহিন শান্তিপুর- মাহরাম নদী থেকে ১১ মাসে অর্ধ কোটি টাকা বালু লুট

Update Time : ১০:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর দুই শাখা–মাহারাম ও শান্তিপুর নদী থেকে গত ১১ মাসে ৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বালু অবৈধভাবে তুলে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। ইজারাবিহীন এই দুই নদী থেকে লাগাতার বালু তোলায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নদীর তীরবর্তী এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী দুটি ইজারাভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী চক্র দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আশপাশের এলাকায় স্তূপ করে রাখছে। এতে নদী তীরবর্তী বসতবাড়িগুলো ভাঙনের চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে কিছু নৌকা ও শ্রমিক আটক করলেও মূল কারবারিরা সব সময় অধরাই থেকে যাচ্ছে। গত দুই মাস ধরে বড় ধরনের কোনো অভিযান না হওয়ায় বালুখেকো চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এমনকি শান্তিপুর নদী থেকে তোলা অবৈধ বালু এনে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনেও স্তূপ করে রাখা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শনিবার সকালে ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক অভিযান চালিয়ে সেই বালু জব্দ করেন। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযানকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ ও যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের শান্তিপুর ও মাহারাম নদীতে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। সংগৃহীত বালু ট্রলারে করে মধ্যনগর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়। প্রশাসনের নাকের ডগায় ইউএনও কার্যালয়ের সামনে জব্দ হওয়া বালুর খবরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী দুটি থেকে বালু তোলা বন্ধে আলোচনা, কমিটি গঠন ও বাঁশের বেড়া দেওয়া হলেও প্রভাবশালী চক্রকে রোখা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে শিগগিরই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।