০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীর মনোহরদীতে ডিমের পিক-আপ ডাকাতির সময় গ্রেফতার-৫

 

মোঃ মোবারক হোসেন নাদিিম
নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং রোজ রবিবার নরসিংদীর মনোহরদীতে ডিমবোঝাই পিক-আপ গাড়ি ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত পিক-আপ গাড়ি, ৯৮টি ডিমের খালি ক্যারেট ও ডিম বিক্রির ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিক-আপ, দেশীয় অস্ত্র ও মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে এবং পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার নোয়াখালী থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বড়নগর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে ইমন (২৮), একই গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে রিফাত হৃদয় (২৮), কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুন্না ওরফে রুমান (২৭), কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ভূঁইয়ারপাড় গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে রহমত আলী ওরফে জিল্লুর এবং নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভার আবু তাহেরের ছেলে জসিম উদ্দিন (৬০)।

রোববার দুপুর ১২টায় মনোহরদী থানার হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিবপুর সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান সরকার। এ সময় মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, এসআই শহীদুজ্জামান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ সড়কের একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের চঙ্গভান্ডা এলাকায় ইসমাইল হোসেনের বাড়ির সামনে ডিমবোঝাই পিক-আপটি আটকে দেয় ডাকাতরা। দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গাড়ির চালক ও তার সহযোগীর হাত-পা বেঁধে ডাকাতদের ব্যবহৃত পিক-আপে তুলে নেয় তারা। পরে হেতেমদী-সাগরদী বাইপাস সড়কের পাশে তাদের ফেলে রেখে ডিমবোঝাই পিক-আপটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় গাড়ির মালিক মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এসআই মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালীতে অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর মহাসড়ক থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার নোয়াখালীর সেনবাগ দক্ষিণ বাজারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে লুণ্ঠিত ডিমের ক্রেতা এবং ডাকাত দলের সদস্যদের পূর্বপরিচিত জসিম উদ্দিনের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত পিক-আপ, ৯৮টি খালি ডিমের ক্যারেট ও ডিম বিক্রির ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় জসিম উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তারা বিভিন্ন জেলার সড়ক ও মহাসড়কে নিয়মিত ডাকাতি করে আসছিলেন।

জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান সরকার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

নরসিংদীর মনোহরদীতে ডিমের পিক-আপ ডাকাতির সময় গ্রেফতার-৫

Update Time : ১১:৪৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মোঃ মোবারক হোসেন নাদিিম
নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং রোজ রবিবার নরসিংদীর মনোহরদীতে ডিমবোঝাই পিক-আপ গাড়ি ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত পিক-আপ গাড়ি, ৯৮টি ডিমের খালি ক্যারেট ও ডিম বিক্রির ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিক-আপ, দেশীয় অস্ত্র ও মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে এবং পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার নোয়াখালী থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বড়নগর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে ইমন (২৮), একই গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে রিফাত হৃদয় (২৮), কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুন্না ওরফে রুমান (২৭), কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ভূঁইয়ারপাড় গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে রহমত আলী ওরফে জিল্লুর এবং নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভার আবু তাহেরের ছেলে জসিম উদ্দিন (৬০)।

রোববার দুপুর ১২টায় মনোহরদী থানার হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিবপুর সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান সরকার। এ সময় মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, এসআই শহীদুজ্জামান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ সড়কের একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের চঙ্গভান্ডা এলাকায় ইসমাইল হোসেনের বাড়ির সামনে ডিমবোঝাই পিক-আপটি আটকে দেয় ডাকাতরা। দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গাড়ির চালক ও তার সহযোগীর হাত-পা বেঁধে ডাকাতদের ব্যবহৃত পিক-আপে তুলে নেয় তারা। পরে হেতেমদী-সাগরদী বাইপাস সড়কের পাশে তাদের ফেলে রেখে ডিমবোঝাই পিক-আপটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় গাড়ির মালিক মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এসআই মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালীতে অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর মহাসড়ক থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার নোয়াখালীর সেনবাগ দক্ষিণ বাজারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে লুণ্ঠিত ডিমের ক্রেতা এবং ডাকাত দলের সদস্যদের পূর্বপরিচিত জসিম উদ্দিনের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত পিক-আপ, ৯৮টি খালি ডিমের ক্যারেট ও ডিম বিক্রির ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় জসিম উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তারা বিভিন্ন জেলার সড়ক ও মহাসড়কে নিয়মিত ডাকাতি করে আসছিলেন।

জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান সরকার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।