০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজাদপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ


‎​মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী
‎সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

‎সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে নানা আর্থিক অনিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ​এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে  উপজেলা মাধ্যমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তাকে। ‎​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,গত ৩১ আগস্ট তদন্তের অংশ হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য,ওই দিনই ছিলো প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়ার কর্মজীবনের শেষ কর্মদিবস।
‎​তদন্তের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য প্রধান শিক্ষক ১০ দিনের সময় চেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ​অভিযোগকারীদের দাবি,সরেজমিনে যাচাইয়ের সময় বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নানা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বিষয় গুলো বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ​এই দিকে অবসরে যাওয়ার মুহূর্তে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে মোঃ গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। তবে ঠিক কোন কোন নথিপত্র নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থান কী এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে—এই সব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ‎​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোঃ গোলাম কিবরিয়া বলেছেন,”আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলো সত্য নয়। আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব হিসাব- নিকাশ ও কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করব।” নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ‎​বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সাদিকুল ইসলাম বলেছেন,”আমরা মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সে সময় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়া অন্য নথির কথা বলে তাঁর ছেলে ও আরো একজন কে সঙ্গে নিয়ে স্কুলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছেন।”এই বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন,”অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। আর্থিক হিসাব-নিকাশ দাখিলের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক ১০ দিন সময় নিয়েছেন। পুরো হিসাব দাখিল না করায় তাঁকে এখনো চূড়ান্ত ছাড়পত্র (অব্যাহতি) দেওয়া হয়নি।”​ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে,মোঃ গোলাম কিবরিয়া ২০১৩ সালে রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট ছিলো তাঁর কর্মজীবনের শেষ দিন। অবসর গ্রহণের ঠিক শেষ মুহূর্তে আর্থিক অনিয়ম ও নথি গায়েবের অভিযোগ ওঠায় পুরো এলাকা জুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন ও সৃষ্টি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

শাহজাদপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

Update Time : ০৫:১৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‎​মোঃ মোসলেম উদ্দিন সিরাজী
‎সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

‎সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে নানা আর্থিক অনিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ​এই বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে  উপজেলা মাধ্যমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তাকে। ‎​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,গত ৩১ আগস্ট তদন্তের অংশ হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন নথিপত্র ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য,ওই দিনই ছিলো প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়ার কর্মজীবনের শেষ কর্মদিবস।
‎​তদন্তের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য প্রধান শিক্ষক ১০ দিনের সময় চেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ​অভিযোগকারীদের দাবি,সরেজমিনে যাচাইয়ের সময় বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নানা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। বিষয় গুলো বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ​এই দিকে অবসরে যাওয়ার মুহূর্তে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে মোঃ গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। তবে ঠিক কোন কোন নথিপত্র নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থান কী এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে—এই সব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ‎​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোঃ গোলাম কিবরিয়া বলেছেন,”আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলো সত্য নয়। আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব হিসাব- নিকাশ ও কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করব।” নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ‎​বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সাদিকুল ইসলাম বলেছেন,”আমরা মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সে সময় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়া অন্য নথির কথা বলে তাঁর ছেলে ও আরো একজন কে সঙ্গে নিয়ে স্কুলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছেন।”এই বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন,”অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। আর্থিক হিসাব-নিকাশ দাখিলের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক ১০ দিন সময় নিয়েছেন। পুরো হিসাব দাখিল না করায় তাঁকে এখনো চূড়ান্ত ছাড়পত্র (অব্যাহতি) দেওয়া হয়নি।”​ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে,মোঃ গোলাম কিবরিয়া ২০১৩ সালে রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট ছিলো তাঁর কর্মজীবনের শেষ দিন। অবসর গ্রহণের ঠিক শেষ মুহূর্তে আর্থিক অনিয়ম ও নথি গায়েবের অভিযোগ ওঠায় পুরো এলাকা জুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন ও সৃষ্টি হয়েছে।