১১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোর সদর এলএসডি, স্থানীয় খাদ্য সরবরাহ ও সংরক্ষণাগার অফিসে ​বিদ্যুৎ সংকটেও দিনের আলোয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বলছে বাতি-ফ্যান, উত্তোলন হয় না পতাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকার রাত ৮টার মধ্যে শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধসহ কঠোর নির্দেশনা জারি করার পরেও যশোর সদর এলএসডি স্থানীয় খাদ্য সরবরাহ ও সংরক্ষণাগারের, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র।

দেশে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের মধ্যেও অফিসটির স্কেল রুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপ্রয়োজনে জ্বলছে লাইট এবং ঘুরছে ফ্যান।

শুধু বিদ্যুৎ অপচয়ই নয়, সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটিতে নিয়মিত উত্তোলন করা হয় না জাতীয় পতাকা।

​সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর এলএসডির স্কেল রুমে কাউকে দেখা মেলেনি তার পরেও একের পর এক আলো ও ফ্যান চলতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে সিকিউরিটি অফিসার মেসবাহ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওখানে সবাই বসে।

বিদ্যুৎ ছিল না, তাই আমি চলে এসেছি, পরে আর ফ্যান-লাইট বন্ধ করা হয় নাই।

​অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের স্পষ্ট বিধিমালা থাকলেও যশোর সদর এলএসডি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সরকারি নিয়ম অমান্য করে চলেছেন দীর্ঘদিন ধরে।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার কারণ জানতে চাইলে খাদ্য পরিদর্শক আশরাফ ইউসুফ বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জেলা অফিস উত্তোলন করে।

আমি নিশ্চিত যে বিশেষ বিশেষ পর্ব বা দিবস ছাড়া প্রতিদিন পতাকা উত্তোলনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই আমার জানা মতে।

আপনি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। স্কেল রুমে বিদ্যুৎ অপচয়ের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, সেখানে লোকজনের আনাগোনা থাকে, হয়তো ভুলবশত কেউ লাইট-ফ্যান জ্বালিয়ে রেখে চলে গেছে।

​এই ধরনের অনিয়ম ও সরকারি নির্দেশনা অমান্যের বিষয়ে জানতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সেফাউর রহমানের মুঠোফোনে (০১৭২৩০৯৬৪৫৫) একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।

​সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরে একদিকে বিদ্যুৎ অপচয় এবং অন্যদিকে জাতীয় পতাকার প্রতি এমন উদাসীনতায় স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

যশোর সদর এলএসডি, স্থানীয় খাদ্য সরবরাহ ও সংরক্ষণাগার অফিসে ​বিদ্যুৎ সংকটেও দিনের আলোয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বলছে বাতি-ফ্যান, উত্তোলন হয় না পতাকা

Update Time : ০৪:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকার রাত ৮টার মধ্যে শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধসহ কঠোর নির্দেশনা জারি করার পরেও যশোর সদর এলএসডি স্থানীয় খাদ্য সরবরাহ ও সংরক্ষণাগারের, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র।

দেশে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের মধ্যেও অফিসটির স্কেল রুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপ্রয়োজনে জ্বলছে লাইট এবং ঘুরছে ফ্যান।

শুধু বিদ্যুৎ অপচয়ই নয়, সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটিতে নিয়মিত উত্তোলন করা হয় না জাতীয় পতাকা।

​সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর এলএসডির স্কেল রুমে কাউকে দেখা মেলেনি তার পরেও একের পর এক আলো ও ফ্যান চলতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে সিকিউরিটি অফিসার মেসবাহ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওখানে সবাই বসে।

বিদ্যুৎ ছিল না, তাই আমি চলে এসেছি, পরে আর ফ্যান-লাইট বন্ধ করা হয় নাই।

​অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের স্পষ্ট বিধিমালা থাকলেও যশোর সদর এলএসডি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সরকারি নিয়ম অমান্য করে চলেছেন দীর্ঘদিন ধরে।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার কারণ জানতে চাইলে খাদ্য পরিদর্শক আশরাফ ইউসুফ বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জেলা অফিস উত্তোলন করে।

আমি নিশ্চিত যে বিশেষ বিশেষ পর্ব বা দিবস ছাড়া প্রতিদিন পতাকা উত্তোলনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই আমার জানা মতে।

আপনি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। স্কেল রুমে বিদ্যুৎ অপচয়ের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, সেখানে লোকজনের আনাগোনা থাকে, হয়তো ভুলবশত কেউ লাইট-ফ্যান জ্বালিয়ে রেখে চলে গেছে।

​এই ধরনের অনিয়ম ও সরকারি নির্দেশনা অমান্যের বিষয়ে জানতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সেফাউর রহমানের মুঠোফোনে (০১৭২৩০৯৬৪৫৫) একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।

​সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরে একদিকে বিদ্যুৎ অপচয় এবং অন্যদিকে জাতীয় পতাকার প্রতি এমন উদাসীনতায় স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।