০৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধুনটের তারাকান্দি ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় ও মেলা অনুষ্ঠিত

আব্দুল মজিদ (স্টাফ রিপোর্টার )     ‎            বগুড়ার ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের তারাকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার লোকজ বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ ঘোড়দৌড়কে ঘিরে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে তারাকান্দি মধ্যপাড়া সোয়েব সড়ক স্মরণী সংলগ্ন মাঠে সৃষ্টি হয় উৎসবের আবহ। ‎স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ ঘোড়দৌড় দেখতে সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মাঠের চারপাশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। ঘোড়ার ক্ষিপ্র ছুট আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়। ‎দুপুর ২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ঘোড়াগুলো মাঠের নির্ধারিত পথে দ্রুতগতিতে ছুটে চললে মুহূর্তেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা। পছন্দের ঘোড়সওয়ার ও প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে দর্শকদের করতালি, উল্লাস ও হর্ষধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। ‎ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে মাঠের আশপাশে বসে নানা ধরনের অস্থায়ী দোকান। শিশুদের খেলনা, মুখরোচক খাবার, মিষ্টি, বিভিন্ন ধরনের লোকজ সামগ্রীসহ বাহারি পণ্যের পসরা নিয়ে দোকানিরা হাজির হন। ফলে ঘোড়দৌড়ের পাশাপাশি মেলায়ও ছিল মানুষের সরব উপস্থিতি। শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর গ্রামীণ মেলার চিরচেনা পরিবেশে ফিরে আসে হারিয়ে যাওয়া এক টুকরো বাংলার আবহ। ‎অনুষ্ঠিত ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও মেলার উদ্বোধন করেন ৭নং এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহাদৎ হোসেন পিষ্টন। ‎আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে ঘোড়দৌড়ের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। তাই এ সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর পরিচয় তুলে ধরতে প্রতিবছর এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ‎স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের মেলা শুধু বিনোদনের উপলক্ষ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতি। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।” ‎স্থানীয়দের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিনোদনের যুগেও ঘোড়দৌড়ের মতো লোকজ আয়োজন মানুষের মধ্যে যে প্রাণের টান তৈরি করে, তার প্রমাণ মিলেছে তারাকান্দি মধ্যপাড়ার এ আয়োজনে। এমন উদ্যোগ নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জীবন্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ধুনটের তারাকান্দি ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় ও মেলা অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৪:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আব্দুল মজিদ (স্টাফ রিপোর্টার )     ‎            বগুড়ার ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের তারাকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার লোকজ বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ ঘোড়দৌড়কে ঘিরে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে তারাকান্দি মধ্যপাড়া সোয়েব সড়ক স্মরণী সংলগ্ন মাঠে সৃষ্টি হয় উৎসবের আবহ। ‎স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ ঘোড়দৌড় দেখতে সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মাঠের চারপাশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। ঘোড়ার ক্ষিপ্র ছুট আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়। ‎দুপুর ২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ঘোড়াগুলো মাঠের নির্ধারিত পথে দ্রুতগতিতে ছুটে চললে মুহূর্তেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা। পছন্দের ঘোড়সওয়ার ও প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে দর্শকদের করতালি, উল্লাস ও হর্ষধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। ‎ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে মাঠের আশপাশে বসে নানা ধরনের অস্থায়ী দোকান। শিশুদের খেলনা, মুখরোচক খাবার, মিষ্টি, বিভিন্ন ধরনের লোকজ সামগ্রীসহ বাহারি পণ্যের পসরা নিয়ে দোকানিরা হাজির হন। ফলে ঘোড়দৌড়ের পাশাপাশি মেলায়ও ছিল মানুষের সরব উপস্থিতি। শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর গ্রামীণ মেলার চিরচেনা পরিবেশে ফিরে আসে হারিয়ে যাওয়া এক টুকরো বাংলার আবহ। ‎অনুষ্ঠিত ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও মেলার উদ্বোধন করেন ৭নং এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহাদৎ হোসেন পিষ্টন। ‎আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে ঘোড়দৌড়ের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। তাই এ সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর পরিচয় তুলে ধরতে প্রতিবছর এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ‎স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের মেলা শুধু বিনোদনের উপলক্ষ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতি। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।” ‎স্থানীয়দের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিনোদনের যুগেও ঘোড়দৌড়ের মতো লোকজ আয়োজন মানুষের মধ্যে যে প্রাণের টান তৈরি করে, তার প্রমাণ মিলেছে তারাকান্দি মধ্যপাড়ার এ আয়োজনে। এমন উদ্যোগ নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জীবন্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন তারা।