০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বীরগঞ্জের দেবীপুরে হাঁসখেলার ধুম, পুরোনো ঐতিহ্যের নতুন উচ্ছ্বাস

 

গোকুল চন্দ্র রায়, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৬নং নিজপাড়া ইউনিয়নের দেবীপুর বাজার সংলগ্ন পুকুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাঁসখেলা। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ এই খেলাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

ঐতিহ্যবাহী হাঁসখেলা উপভোগ করতে পুকুরপাড়ে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। দর্শকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে দেবীপুর বাজার সংলগ্ন পুকুরপাড়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁসখেলার উদ্বোধন করেন ৬নং নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনিসুর রহমান আনিস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল কমিশনার অব কাস্টমস পায়েল পাশা, ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আলিম উদ্দিন, উপজেলা কৃষক দলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মহিলা ইউপি সদস্য রিনা বেগম, বলরামপুরের সমাজসেবক মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সমাজসেবক তাজকিনুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আয়োজক কমিটির সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী খেলাটি উপভোগ করতে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মকে দেশীয় খেলাধুলা ও গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তারা আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকসহ সব ধরনের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠমুখী ও সংস্কৃতিমুখী পরিবেশ তরুণদের সুস্থ চিন্তা ও ইতিবাচক কাজে উৎসাহিত করে। তাই সন্তানদের হাতে মাদক নয়, খেলাধুলার উপকরণ তুলে দিতে হবে এবং প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করতে হবে।

আয়োজক ও স্থানীয়রা জানান, হাঁসখেলার মতো গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনও সুদৃঢ় করে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অবসর সময়কে ইতিবাচক কাজে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতেও এ ধরনের আয়োজন ভূমিকা রাখতে পারে।

হাঁসখেলাকে ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে দিনভর মুখর ছিল পুরো এলাকা।
এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং নতুন প্রজন্ম একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে উৎসাহিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজক ও স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

বীরগঞ্জের দেবীপুরে হাঁসখেলার ধুম, পুরোনো ঐতিহ্যের নতুন উচ্ছ্বাস

Update Time : ০১:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

গোকুল চন্দ্র রায়, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৬নং নিজপাড়া ইউনিয়নের দেবীপুর বাজার সংলগ্ন পুকুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাঁসখেলা। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ এই খেলাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

ঐতিহ্যবাহী হাঁসখেলা উপভোগ করতে পুকুরপাড়ে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। দর্শকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে দেবীপুর বাজার সংলগ্ন পুকুরপাড়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁসখেলার উদ্বোধন করেন ৬নং নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনিসুর রহমান আনিস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল কমিশনার অব কাস্টমস পায়েল পাশা, ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আলিম উদ্দিন, উপজেলা কৃষক দলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মহিলা ইউপি সদস্য রিনা বেগম, বলরামপুরের সমাজসেবক মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সমাজসেবক তাজকিনুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আয়োজক কমিটির সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী খেলাটি উপভোগ করতে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মকে দেশীয় খেলাধুলা ও গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তারা আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকসহ সব ধরনের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠমুখী ও সংস্কৃতিমুখী পরিবেশ তরুণদের সুস্থ চিন্তা ও ইতিবাচক কাজে উৎসাহিত করে। তাই সন্তানদের হাতে মাদক নয়, খেলাধুলার উপকরণ তুলে দিতে হবে এবং প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করতে হবে।

আয়োজক ও স্থানীয়রা জানান, হাঁসখেলার মতো গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনও সুদৃঢ় করে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অবসর সময়কে ইতিবাচক কাজে ব্যস্ত রাখার মাধ্যমে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতেও এ ধরনের আয়োজন ভূমিকা রাখতে পারে।

হাঁসখেলাকে ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে দিনভর মুখর ছিল পুরো এলাকা।
এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং নতুন প্রজন্ম একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে উৎসাহিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজক ও স্থানীয়দের।