
পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: দীর্ঘ ১২ বছরের আইনি জটিলতা ও মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়ে রংপুরের পীরগাছায় কান্দি ইউনিয়নের দাদন পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের ১ একর ৪৮ শতক জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আদালতের ঘোষণামূলক ডিক্রির ভিত্তিতে পেশাদার আমিনের মাধ্যমে জমিটি পরিমাপ ও সীমানা চিহ্নিত করা হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও ঈদগাহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঈদগাহ কমিটির সদস্য আব্দুল মজিদ জানান, ব্রিটিশ আমলের রেকর্ডে জমিটি সতীশচন্দ্র ও সেবায় চন্দ্র রায়ের নামে ঈদগাহ মাঠ হিসেবে উল্লেখ ছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৪০ সালের সিএস রেকর্ডে জমিটি নসিরুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির নামে রেকর্ড হওয়ায় মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে ১৯৬২ সালের খতিয়ানে ১ একর ৪৮ শতক জমি পুনরায় ‘পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠ’-এর নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। বর্তমান আরএস রেকর্ডেও জমিটি ঈদগাহ মাঠের নামেই রয়েছে।
মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে আদালতে ঘোষণামূলক ডিক্রির মামলা করা হয়। ২০২৩ সালের ২২ মে পীরগাছা সহকারী জজ আদালত জমিটি ঈদগাহ মাঠের মালিকানায় থাকার পক্ষে রায় দেন।
কমিটির সূত্র জানায়, ১ একর ৪৮ শতক জমির মধ্যে প্রায় ১ একর জমি স্থানীয় আবুল হোসেন দখলে রেখে ভোগ করছিলেন। সিএস রেকর্ডে তাঁর পিতার নাম থাকার দাবি করে তিনি স্বত্ব দাবি করে পৃথক মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত তাঁর করা মামলাটি খারিজ করে দেন।
আদালতের চূড়ান্ত ডিক্রি অনুযায়ী, জমিটি বিক্রি, বন্ধক, হস্তান্তর বা রদবদল করা যাবে না। এটি পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের স্বার্থে সংরক্ষিত থাকবে।
জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণকারী আমিন নাজমুল ইসলাম বলেন, ১৯৬২ সালের রেকর্ড ও বর্তমান আরএস রেকর্ডের নকশা অনুসরণ করে সঠিকভাবে জমি পরিমাপ করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বাধার সৃষ্টি হয়নি।
দীর্ঘ ১২ বছর পর ঈদগাহ মাঠের জমি উদ্ধার ও সীমানা নির্ধারণ হওয়ায় আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পাচুলিয়া ঈদগাহ মাঠের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান ও আব্দুল জলিল।
প্রতিনিধির নাম 



















