০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিরোজপুরে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই ব্যক্তি আটক

মো. শামীম হোসাইন
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে দৈহারী নৌ পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার ভরতকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি কাঠ বডির ট্রলারে তল্লাশি করে এসব মাংস উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার খাসতবক গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে মো. খলিল (৪১) এবং একই উপজেলার তাফালবাড়িয়া গ্রামের চান মিয়া মাঝির ছেলে বাবুল ফরাজি (৪২)।
দৈহারী নৌ পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে উপজেলার বেলুয়া নদীর ভরতকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কাঠ বডির ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে ২২০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। পরে মাংস পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে খলিল ও বাবুল ফরাজিকে আটক করা হয়।
দৈহারী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভরতকাঠি খেয়াঘাট থেকে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বরগুনার পাথরঘাটা এলাকা থেকে বিভিন্ন নৌপথে নেছারাবাদে অবৈধভাবে হরিণের মাংস আনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কাঠ ও গোলপাতাবাহী ট্রলারসহ মাছ ধরার ট্রলারেও এসব মাংস পরিবহন করা হয়। পরে নেছারাবাদের বিভিন্ন স্থানে থাকা কথিত চোরাকারবারিদের কাছে এসব মাংস পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সময়ের অভিযানে হরিণের মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে আটক করা হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এই অবৈধ বাণিজ্য। তাঁদের আরও অভিযোগ, চোরাই পথে আনা এসব মাংস দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করায় কখনো কখনো পচা অবস্থায় বাজারজাত করা হয়। এমনকি হরিণের মাংসের সঙ্গে শিয়ালের মাংস মিশিয়ে গোপনে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণে আইনে মামলা রুজু করে আসামিদের পিরোজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে অভিযানে জব্দ করা ২২০ কেজি মাংসের পরবর্তী ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি। বন্য প্রাণী সংরক্ষণে আইন থাকা সত্ত্বেও নৌপথে হরিণের মাংসের অবৈধ পরিবহন ও বেচাকেনার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁরা এ চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

পিরোজপুরে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই ব্যক্তি আটক

Update Time : ০৩:০২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মো. শামীম হোসাইন
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে দৈহারী নৌ পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার ভরতকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি কাঠ বডির ট্রলারে তল্লাশি করে এসব মাংস উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার খাসতবক গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে মো. খলিল (৪১) এবং একই উপজেলার তাফালবাড়িয়া গ্রামের চান মিয়া মাঝির ছেলে বাবুল ফরাজি (৪২)।
দৈহারী নৌ পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে উপজেলার বেলুয়া নদীর ভরতকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কাঠ বডির ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে ২২০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। পরে মাংস পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে খলিল ও বাবুল ফরাজিকে আটক করা হয়।
দৈহারী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভরতকাঠি খেয়াঘাট থেকে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বরগুনার পাথরঘাটা এলাকা থেকে বিভিন্ন নৌপথে নেছারাবাদে অবৈধভাবে হরিণের মাংস আনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কাঠ ও গোলপাতাবাহী ট্রলারসহ মাছ ধরার ট্রলারেও এসব মাংস পরিবহন করা হয়। পরে নেছারাবাদের বিভিন্ন স্থানে থাকা কথিত চোরাকারবারিদের কাছে এসব মাংস পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সময়ের অভিযানে হরিণের মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে আটক করা হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এই অবৈধ বাণিজ্য। তাঁদের আরও অভিযোগ, চোরাই পথে আনা এসব মাংস দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করায় কখনো কখনো পচা অবস্থায় বাজারজাত করা হয়। এমনকি হরিণের মাংসের সঙ্গে শিয়ালের মাংস মিশিয়ে গোপনে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণে আইনে মামলা রুজু করে আসামিদের পিরোজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে অভিযানে জব্দ করা ২২০ কেজি মাংসের পরবর্তী ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি। বন্য প্রাণী সংরক্ষণে আইন থাকা সত্ত্বেও নৌপথে হরিণের মাংসের অবৈধ পরিবহন ও বেচাকেনার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁরা এ চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।