১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরের কেশবপুরে টেন্ডার ছাড়াই মালামাল বিক্রির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের পুরোনো জানালার গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, লোহার পাইপ ও তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল কোনো ধরনের টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত ও সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বুলুর বিরুদ্ধে প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল বিক্রির অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিদ্যালয়ের ভাড়া দেওয়া প্রায় ৭৪টি বাণিজ্যিক দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার জন্য ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে। দুটি পৃথক অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মেহেরুন্নেসা মেরি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২০ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত ও সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বুলু ১১টি পুরোনো জানালার গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, লোহার পাইপ ও তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করেন।

অভিযোগে এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত সাংবাদিকদের জানান, পুরোনো গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ও লোহার পাইপ দুই লটে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এ টাকা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে কি না এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি দাবি করেন, এডহক কমিটির অনুমতি নিয়েই মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্যে টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান এবং স্থানীয়ভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কিন্তু এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।

তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ৭৪টি বাণিজ্যিক দোকানের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পূর্বের চুক্তি বহাল থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা আলোচনা ছাড়াই দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার জন্য তাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে।

এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

ব্যবসায়ী ডাক্তার সীমান্ত ও শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন। চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও বর্তমান এডহক কমিটি জামানত দ্বিগুণ করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত বলেন, বিদ্যালয়ের ৭৪টি দোকানের মধ্যে প্রায় ৩০টি দোকান প্রকৃত মালিকরা নিজেরা ব্যবসা না করে অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছেন।

এসব বিষয়ে ব্যবসায়ীদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দোকান সংস্কারের জন্য জামানত বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোনো মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্যই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে প্রকাশ্যে টেন্ডার আহ্বান করতে হবে। পাশাপাশি এলাকায় মাইকিং করে প্রচারের ব্যবস্থাও করতে হবে।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নতুন যোগদান করেছি।

সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের পুরোনো মালামাল বিক্রিতে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

যশোরের কেশবপুরে টেন্ডার ছাড়াই মালামাল বিক্রির অভিযোগ

Update Time : ০৬:৩৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের পুরোনো জানালার গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, লোহার পাইপ ও তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল কোনো ধরনের টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত ও সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বুলুর বিরুদ্ধে প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল বিক্রির অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিদ্যালয়ের ভাড়া দেওয়া প্রায় ৭৪টি বাণিজ্যিক দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার জন্য ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে। দুটি পৃথক অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মেহেরুন্নেসা মেরি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২০ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত ও সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বুলু ১১টি পুরোনো জানালার গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, লোহার পাইপ ও তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করেন।

অভিযোগে এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত সাংবাদিকদের জানান, পুরোনো গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ও লোহার পাইপ দুই লটে মোট ১ লাখ ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এ টাকা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে কি না এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি দাবি করেন, এডহক কমিটির অনুমতি নিয়েই মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্যে টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান এবং স্থানীয়ভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কিন্তু এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।

তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ৭৪টি বাণিজ্যিক দোকানের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পূর্বের চুক্তি বহাল থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা আলোচনা ছাড়াই দোকানের জামানত দ্বিগুণ করার জন্য তাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে।

এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

ব্যবসায়ী ডাক্তার সীমান্ত ও শহিদুল ইসলাম বলেন, তারা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন। চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও বর্তমান এডহক কমিটি জামানত দ্বিগুণ করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত বলেন, বিদ্যালয়ের ৭৪টি দোকানের মধ্যে প্রায় ৩০টি দোকান প্রকৃত মালিকরা নিজেরা ব্যবসা না করে অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছেন।

এসব বিষয়ে ব্যবসায়ীদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দোকান সংস্কারের জন্য জামানত বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোনো মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্যই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে প্রকাশ্যে টেন্ডার আহ্বান করতে হবে। পাশাপাশি এলাকায় মাইকিং করে প্রচারের ব্যবস্থাও করতে হবে।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নতুন যোগদান করেছি।

সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের পুরোনো মালামাল বিক্রিতে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।