০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতিবৃষ্টিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষিদের মাথায় হাত মনিরামপুরে ফলন কম, লোকসানের আশঙ্কা

 

মাসুদ রায়হান স্টাফ রিপোর্টারঃ।

অতিবৃষ্টির কারণে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষিরা পড়েছেন বিপাকে। মাছের ঘেরের পাড়ে মাচাং তৈরি করে তরমুজ চাষ করে প্রতিবছর ভালো লাভ পেলেও চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ফলন কম হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেক চাষি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে মাচাং করে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে থাকেন কৃষকরা। অল্প জমিতে তুলনামূলক ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় দিন দিন এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তবে এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে তরমুজ গাছের বৃদ্ধি ও ফলনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
দত্তকোনা গ্রামের সফল তরমুজ চাষি মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমি কয়েক বছর ধরে মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে তরমুজ চাষ করে আসছি। এ বছর ১৬০ শতক জমির ঘেরের পাড়ে তরমুজ চাষ করেছি। চাষে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গাছে ফলন কম হয়েছে। এ বছর প্রথমবারের মতো তরমুজ তুলছি। তবে এবার খরচের টাকাও উঠবে না বলে আশঙ্কা করছি। এতে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, স্বাভাবিক আবহাওয়া থাকলে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ থেকে ভালো লাভ করা সম্ভব। কিন্তু চলতি মৌসুমে টানা বৃষ্টিতে গাছ ও ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না।
মাহবুবুর রহমানের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিটন সরকার। তিনি নিয়মিত তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শন করে চাষিকে প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
চাষিদের দাবি, আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতে প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

অতিবৃষ্টিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষিদের মাথায় হাত মনিরামপুরে ফলন কম, লোকসানের আশঙ্কা

Update Time : ০৯:১০:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

 

মাসুদ রায়হান স্টাফ রিপোর্টারঃ।

অতিবৃষ্টির কারণে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষিরা পড়েছেন বিপাকে। মাছের ঘেরের পাড়ে মাচাং তৈরি করে তরমুজ চাষ করে প্রতিবছর ভালো লাভ পেলেও চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ফলন কম হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেক চাষি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে মাচাং করে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে থাকেন কৃষকরা। অল্প জমিতে তুলনামূলক ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় দিন দিন এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তবে এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে তরমুজ গাছের বৃদ্ধি ও ফলনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
দত্তকোনা গ্রামের সফল তরমুজ চাষি মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমি কয়েক বছর ধরে মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে তরমুজ চাষ করে আসছি। এ বছর ১৬০ শতক জমির ঘেরের পাড়ে তরমুজ চাষ করেছি। চাষে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গাছে ফলন কম হয়েছে। এ বছর প্রথমবারের মতো তরমুজ তুলছি। তবে এবার খরচের টাকাও উঠবে না বলে আশঙ্কা করছি। এতে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, স্বাভাবিক আবহাওয়া থাকলে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ থেকে ভালো লাভ করা সম্ভব। কিন্তু চলতি মৌসুমে টানা বৃষ্টিতে গাছ ও ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না।
মাহবুবুর রহমানের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিটন সরকার। তিনি নিয়মিত তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শন করে চাষিকে প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
চাষিদের দাবি, আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতে প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।