০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের পর কালা মোবারকসহ গ্রেপ্তার ৪

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলি বিনিময়ের পর বড় সাজ্জাদ বাহিনীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, খুনি ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন ও সাতটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোররাতে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ফটিকছড়ি থানার পুলিশ লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় ওয়াজ পল্লানের বাড়িতে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মোহাম্মদ মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক (৩৭), মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)।
অভিযানে একটি ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তল, একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি দেশীয় পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, এর মধ্যে তরাস পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি, ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তলটি ইতালির তৈরি এবং রিভলবারটি পাকিস্তানের তৈরি।
এ ছাড়া ৯ এমএম পিস্তলের ১৮ রাউন্ড, ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তলের পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন এবং সাতটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার মোবারক পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত আসামি। ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম পিস্তলটি প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ত্রটির উৎস ও অপরাধীদের হাতে পৌঁছানোর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাদের প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত। ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরীর সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, বড় সাজ্জাদের নির্দেশে সংঘটিত বিভিন্ন খুন ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মোবারকের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ফটিকছড়ি ও আশপাশের এলাকায় নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের পর কালা মোবারকসহ গ্রেপ্তার ৪

Update Time : ০৩:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলি বিনিময়ের পর বড় সাজ্জাদ বাহিনীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, খুনি ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন ও সাতটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোররাতে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ফটিকছড়ি থানার পুলিশ লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় ওয়াজ পল্লানের বাড়িতে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মোহাম্মদ মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক (৩৭), মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)।
অভিযানে একটি ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তল, একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি দেশীয় পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, এর মধ্যে তরাস পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি, ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তলটি ইতালির তৈরি এবং রিভলবারটি পাকিস্তানের তৈরি।
এ ছাড়া ৯ এমএম পিস্তলের ১৮ রাউন্ড, ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তলের পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন এবং সাতটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার মোবারক পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত আসামি। ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম পিস্তলটি প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। অস্ত্রটির উৎস ও অপরাধীদের হাতে পৌঁছানোর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাদের প্রধান শুটার হিসেবে পরিচিত। ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরীর সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, বড় সাজ্জাদের নির্দেশে সংঘটিত বিভিন্ন খুন ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মোবারকের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ফটিকছড়ি ও আশপাশের এলাকায় নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।