১০:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেগা প্রকল্পে খুলছে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার ব্যবসা ও কৃষি অর্থনীতির নতুন দিগন্ত; ​​ঢাকার সঙ্গে কমাবে দূরত্ব

 

এ.এস.এম হামিদ হাসান
​কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলার দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষিত যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চার লেনের আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণসহ ব্রহ্মপুত্র নদে একাধিক সেতু নির্মাণের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

​সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও উন্নয়ন বাস্তবায়নে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন ও ডিও লেটার পেশ করেন। পরবর্তীতে এমপি জালাল উদ্দিনের এই আবেদনে অগ্রাধিকার প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পসমূহের নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেন।

​অনুমোদিত প্রধান মেগা প্রকল্পসমূহ:
​চার লেনের আধুনিক মহাসড়ক: কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে পাকুন্দিয়া থানাঘাট হয়ে টোক,কাপাসিয়া এবং রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপসচিব টিনা পাল স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, ইতোমধ্যে প্রকল্প পরিচালক (PD) নিয়োগসহ অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগোচ্ছে।

​ব্রহ্মপুত্র নদে জোড়া সেতু: পাকুন্দিয়ার মুনিয়াকান্দি বাজার থেকে পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার দপ্তরের বাজার পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ঐতিহাসিক ‘জোড়া সেতু’ নির্মাণের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো.উজ্জ্বল হোসেন জানিয়েছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে।

​উপজেলা সংযোগ সেতু প্রকল্প: কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার ভেতরে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সহজতর করতে ‘চরপুক্ষিয়া থেকে চর গোয়ালবাড়িয়া’ এবং ‘বৈরাগীরচর থেকে মনতলা’ পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র ও শাখা নদীর ওপর আরও দুটি পৃথক সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুটি সেতু প্রকল্পের জন্য পরিচালক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে সরেজমিনে প্রাথমিক কাজ চলমান।

​যোগাযোগ ব্যবস্থার এই অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহায়তায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়াবাসীর কাঙ্ক্ষিত সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার শতভাগ দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে।”

​প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজ শেষ হলে কিশোরগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ বিভাগের সঙ্গে ভ্রমণের সময় যেমন অর্ধেকে নেমে আসবে, তেমনই এই অঞ্চলের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন জনগণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

মেগা প্রকল্পে খুলছে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার ব্যবসা ও কৃষি অর্থনীতির নতুন দিগন্ত; ​​ঢাকার সঙ্গে কমাবে দূরত্ব

Update Time : ০৩:১৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

 

এ.এস.এম হামিদ হাসান
​কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলার দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষিত যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চার লেনের আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণসহ ব্রহ্মপুত্র নদে একাধিক সেতু নির্মাণের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

​সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও উন্নয়ন বাস্তবায়নে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন ও ডিও লেটার পেশ করেন। পরবর্তীতে এমপি জালাল উদ্দিনের এই আবেদনে অগ্রাধিকার প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পসমূহের নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেন।

​অনুমোদিত প্রধান মেগা প্রকল্পসমূহ:
​চার লেনের আধুনিক মহাসড়ক: কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে পাকুন্দিয়া থানাঘাট হয়ে টোক,কাপাসিয়া এবং রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপসচিব টিনা পাল স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, ইতোমধ্যে প্রকল্প পরিচালক (PD) নিয়োগসহ অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগোচ্ছে।

​ব্রহ্মপুত্র নদে জোড়া সেতু: পাকুন্দিয়ার মুনিয়াকান্দি বাজার থেকে পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার দপ্তরের বাজার পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ঐতিহাসিক ‘জোড়া সেতু’ নির্মাণের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো.উজ্জ্বল হোসেন জানিয়েছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে।

​উপজেলা সংযোগ সেতু প্রকল্প: কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার ভেতরে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সহজতর করতে ‘চরপুক্ষিয়া থেকে চর গোয়ালবাড়িয়া’ এবং ‘বৈরাগীরচর থেকে মনতলা’ পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র ও শাখা নদীর ওপর আরও দুটি পৃথক সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুটি সেতু প্রকল্পের জন্য পরিচালক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে সরেজমিনে প্রাথমিক কাজ চলমান।

​যোগাযোগ ব্যবস্থার এই অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহায়তায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়াবাসীর কাঙ্ক্ষিত সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার শতভাগ দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে।”

​প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজ শেষ হলে কিশোরগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ বিভাগের সঙ্গে ভ্রমণের সময় যেমন অর্ধেকে নেমে আসবে, তেমনই এই অঞ্চলের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন জনগণ।