০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসকনের নামে অনুদান, জমির মালিকানা নিয়ে নতুন বিতর্ক অর্থ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি খোকসায় ইসকন মন্দির নির্মাণের কথা বলে ভক্তদের থেকে টাকা তুলে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে সনাতন শংকর দাস (শুভ) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী উদ্যোক্তা ও কুষ্টিয়া জেলা ইসকন কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ প্রকাশে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ১৮ই আগস্ট খোকসা ইসকন মন্দিরের উদ্যোক্তা ও আমেরিকা প্রবাসী নিধি গৌর দাস তাঁর ফেসবুক আইডি (“Nidhi Das”) থেকে জানান, মন্দির নির্মাণের কথা বলে ৬০ লাখ টাকার তথ্য দিয়ে অনুদান তোলা হয়। কিন্তু কোনো নিয়ম না মেনে মোট ১০ শতাংশের বেশি জমির মধ্যে ২.২ শতাংশ জমি ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘ’ নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে, যেখানে শুভ নিজেই স্বাক্ষর করে পরিচালকের পদ দাবি করছেন। বাকি প্রায় ৮ শতাংশ জমি শুভর দুই সহযোগী ড. হরগোবিন্দ এবং শংকপানির নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় ইসকনের অনুমোদন কিংবা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ছাড়া এই জমি কেনা হয়েছে। ফলে আইনগতভাবে এ জমির সাথে ইসকনের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি ইতিমধ্যে ঘটনার তথ্যপ্রমাণ সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এ বিষয়ে শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের কোষাধ্যক্ষ সংকপানী দাস এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, জেলা কমিটির সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী সবকিছুই জানেন এবং তাঁর অনুমতিতেই তাঁরা এসব কাজ করেছেন। তবে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “আমি কোনো অনুমতি দেওয়ার মালিক নই। সব বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার কেবল ঢাকা ইসকন হেড অফিসের। আপনারা তাদের কাছে জানতে চান যে হেড অফিসের কোনো লিখিত অনুমতিপত্র তাদের কাছে আছে কিনা।” পরবর্তীতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নামহট্ট সংঘের কোষাধ্যক্ষের কাছে সেই লিখিত অনুমতিপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ইসকন কুষ্টিয়া মন্দিরের সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী ঘটনাটিকে সরাসরি ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইস্কনে ‘পরিচালক’ বলে কোনো পদ নেই। শুভ নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজস্ব রশিদ ছাপিয়ে টাকা তুলেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি বা আমাকে না জানিয়ে গোপনে শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের নামে জমিটি কেনা হয়, যেখানে ইসকনের নামও রাখা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুভ আমার সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন।” অভিযোগের বিষয়ে সনাতন শংকর দাস (শুভ)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসপাতাল মোড়ে সাংবাদিকদের সামনে এলেও কাজের বাহানা দিয়ে দ্রুত সটে পড়েন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। উল্টো স্থানীয় কিছু মাধ্যম ব্যবহার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অনুদানের অর্থ ও জমি নিয়ে এমন অনিয়মের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করছেন স্থানীয় সাধারণ ভক্তরা।                                                                                    শামীম হাসান খান কুষ্টিয়া

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ইসকনের নামে অনুদান, জমির মালিকানা নিয়ে নতুন বিতর্ক অর্থ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ

Update Time : ০৬:৩২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি খোকসায় ইসকন মন্দির নির্মাণের কথা বলে ভক্তদের থেকে টাকা তুলে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে সনাতন শংকর দাস (শুভ) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী উদ্যোক্তা ও কুষ্টিয়া জেলা ইসকন কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ প্রকাশে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ১৮ই আগস্ট খোকসা ইসকন মন্দিরের উদ্যোক্তা ও আমেরিকা প্রবাসী নিধি গৌর দাস তাঁর ফেসবুক আইডি (“Nidhi Das”) থেকে জানান, মন্দির নির্মাণের কথা বলে ৬০ লাখ টাকার তথ্য দিয়ে অনুদান তোলা হয়। কিন্তু কোনো নিয়ম না মেনে মোট ১০ শতাংশের বেশি জমির মধ্যে ২.২ শতাংশ জমি ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘ’ নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে, যেখানে শুভ নিজেই স্বাক্ষর করে পরিচালকের পদ দাবি করছেন। বাকি প্রায় ৮ শতাংশ জমি শুভর দুই সহযোগী ড. হরগোবিন্দ এবং শংকপানির নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় ইসকনের অনুমোদন কিংবা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ছাড়া এই জমি কেনা হয়েছে। ফলে আইনগতভাবে এ জমির সাথে ইসকনের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি ইতিমধ্যে ঘটনার তথ্যপ্রমাণ সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এ বিষয়ে শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের কোষাধ্যক্ষ সংকপানী দাস এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, জেলা কমিটির সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী সবকিছুই জানেন এবং তাঁর অনুমতিতেই তাঁরা এসব কাজ করেছেন। তবে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “আমি কোনো অনুমতি দেওয়ার মালিক নই। সব বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার কেবল ঢাকা ইসকন হেড অফিসের। আপনারা তাদের কাছে জানতে চান যে হেড অফিসের কোনো লিখিত অনুমতিপত্র তাদের কাছে আছে কিনা।” পরবর্তীতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নামহট্ট সংঘের কোষাধ্যক্ষের কাছে সেই লিখিত অনুমতিপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ইসকন কুষ্টিয়া মন্দিরের সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী ঘটনাটিকে সরাসরি ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইস্কনে ‘পরিচালক’ বলে কোনো পদ নেই। শুভ নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজস্ব রশিদ ছাপিয়ে টাকা তুলেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি বা আমাকে না জানিয়ে গোপনে শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের নামে জমিটি কেনা হয়, যেখানে ইসকনের নামও রাখা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুভ আমার সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন।” অভিযোগের বিষয়ে সনাতন শংকর দাস (শুভ)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসপাতাল মোড়ে সাংবাদিকদের সামনে এলেও কাজের বাহানা দিয়ে দ্রুত সটে পড়েন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। উল্টো স্থানীয় কিছু মাধ্যম ব্যবহার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অনুদানের অর্থ ও জমি নিয়ে এমন অনিয়মের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করছেন স্থানীয় সাধারণ ভক্তরা।                                                                                    শামীম হাসান খান কুষ্টিয়া