
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) সংবাদদাতাঃ
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে আপন চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন আল আমিন নামে এক ব্যক্তি। উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের মেসন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী আল আমিনের দাবি, মেসন্ডা গ্রামে তাদের বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। তার চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর কবির ও আলমগীর কবির ওই সম্পত্তি নিজেদের ইচ্ছামতো বিএস রেকর্ড করে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে তিনি বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ান।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে বিরোধপূর্ণ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওই জমিতে এক পক্ষ চাষাবাদ করছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিটি বার্ষিক নগদ খাজনার ভিত্তিতে চাষাবাদের জন্য বর্গা দেওয়া হয়েছে। আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে জমিটি চাষাবাদের জন্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে।
আল আমিন অভিযোগ করে বলেন, “এটি আমাদের বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তি। তারা না থাকার সুযোগে আমার চাচাতো ভাইরা জোরপূর্বক জমির বিএস রেকর্ড নিজেদের নামে করে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বর্তমানে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এরপরও আদালতের বিষয়টি উপেক্ষা করে ওই জমিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে আলমগীর কবির বলেন, “বিরোধপূর্ণ জমি আমাদের মায়ের নামে এবং বিএস রেকর্ডীয় সম্পত্তি। আমরা দীর্ঘদিন বাড়িতে না থাকায় জমিটি নগদ খাজনার ভিত্তিতে চাষাবাদের জন্য দেওয়া হয়েছে। সেই সূত্রেই বর্তমানে সেখানে চাষাবাদ করা হচ্ছে। আমার চাচাতো ভাইরা জমিটির মালিকানা দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো দলিল দেখাতে পারেনি। বরং তারাই আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে।”
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার এএসআই মো. জিকুর উল্লাহ বলেন, “আদালতের আদেশ অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ জমিতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় নোটিশ জারি করা হয়েছে। আদালতের আদেশ কেউ অমান্য করলে বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির কারণে এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আদালতের আদেশ ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রতিনিধির নাম 



















