০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিডি ও তরুণীর অনশন উন্মোচিত চার ভাইয়ের অপরাধ সাম্রাজ্য


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাদারপুর ও ডিমভাঙ্গা এলাকায় অবাধ মাদক ব্যবসা, যুবসমাজ ধ্বংসের চক্রান্ত এবং প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে এক পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর পরপরই বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক তরুণীর অনশনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারপুর ডিমভাঙ্গা এলাকার মোঃ জামাল উদ্দীন (৪৬) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গোদাগাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন (জিডি নং- ১১৮৭, ট্র্যাকিং নং- WQUY SC)। জিডিতে ১ নম্বর বিবাদী মোঃ মাসুদ রানা (৩৭) ও ২ নম্বর বিবাদী মোঃ মনিরুল ইসলাম (৪৩)-সহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে এলাকা জুড়ে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে গত ১০ মে বিকেলে তারা প্রতিবাদকারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও জানা যায়।
​এদিকে, এই ঘটনার জের ধরে সম্প্রতি ওই পরিবারের আরেক সদস্য সোহেল রানার (৩২) ডিমভাঙ্গাস্থ বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন পলি (২৮) নামের এক তরুণী। পলি অভিযোগ করে জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং মাদকের ভীতি প্রদর্শন করে দীর্ঘদিন তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। অনশনরত তরুণীর দাবি, বর্তমানে তিনি গর্ভবতী এবং কোনো সুরাহা না হলে নিজের শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
​স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই পরিবারের সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে নদীপথে অবৈধ অস্ত্র ও হেরোইন পাচার করে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছে। অনুসন্ধানে চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলার তথ্য পাওয়া গেছে:
​মোঃ মনিরুল ইসলাম (৪৮): ৪ কেজি হেরোইন উদ্ধার মামলা, মারামারি, বিস্ফোরক আইন ও একাধিক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
​মোঃ মেহেদী হাসান (৪৪) ২০১২ সাল থেকে মাদক মামলাসহ সম্প্রতি বিস্ফোরক ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পলাতক আসামি।
​মোঃ আব্দুর রহিম টিসু (৩৮) বোয়ালিয়া ও গোদাগাড়ী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ ২০২৪ সালে ৪ কেজি ৩০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের প্রধান অভিযুক্ত।
​মোঃ সোহেল রানা (৩৮) একাধিক বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক মামলার পাশাপাশি ভুক্তভোগী তরুণীর দায়ের করা ধর্ষণ ও গর্ভপাত মামলার প্রধান অভিযুক্ত।
​গোদাগাড়ী থানার কর্মকর্তা (ওসি) জিডির ভিত্তিতে এএসআই মোঃ মজনু মিয়াকে ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযান জোরদার রয়েছে।                                                                                                                                                                                                      রাজশাহী গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

গোদাগাড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে জিডি ও তরুণীর অনশন উন্মোচিত চার ভাইয়ের অপরাধ সাম্রাজ্য

Update Time : ০৬:০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাদারপুর ও ডিমভাঙ্গা এলাকায় অবাধ মাদক ব্যবসা, যুবসমাজ ধ্বংসের চক্রান্ত এবং প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে এক পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এর পরপরই বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক তরুণীর অনশনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারপুর ডিমভাঙ্গা এলাকার মোঃ জামাল উদ্দীন (৪৬) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গোদাগাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন (জিডি নং- ১১৮৭, ট্র্যাকিং নং- WQUY SC)। জিডিতে ১ নম্বর বিবাদী মোঃ মাসুদ রানা (৩৭) ও ২ নম্বর বিবাদী মোঃ মনিরুল ইসলাম (৪৩)-সহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে এলাকা জুড়ে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে গত ১০ মে বিকেলে তারা প্রতিবাদকারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও জানা যায়।
​এদিকে, এই ঘটনার জের ধরে সম্প্রতি ওই পরিবারের আরেক সদস্য সোহেল রানার (৩২) ডিমভাঙ্গাস্থ বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন পলি (২৮) নামের এক তরুণী। পলি অভিযোগ করে জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং মাদকের ভীতি প্রদর্শন করে দীর্ঘদিন তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। অনশনরত তরুণীর দাবি, বর্তমানে তিনি গর্ভবতী এবং কোনো সুরাহা না হলে নিজের শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
​স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই পরিবারের সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে নদীপথে অবৈধ অস্ত্র ও হেরোইন পাচার করে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছে। অনুসন্ধানে চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলার তথ্য পাওয়া গেছে:
​মোঃ মনিরুল ইসলাম (৪৮): ৪ কেজি হেরোইন উদ্ধার মামলা, মারামারি, বিস্ফোরক আইন ও একাধিক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
​মোঃ মেহেদী হাসান (৪৪) ২০১২ সাল থেকে মাদক মামলাসহ সম্প্রতি বিস্ফোরক ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পলাতক আসামি।
​মোঃ আব্দুর রহিম টিসু (৩৮) বোয়ালিয়া ও গোদাগাড়ী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ ২০২৪ সালে ৪ কেজি ৩০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের প্রধান অভিযুক্ত।
​মোঃ সোহেল রানা (৩৮) একাধিক বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক মামলার পাশাপাশি ভুক্তভোগী তরুণীর দায়ের করা ধর্ষণ ও গর্ভপাত মামলার প্রধান অভিযুক্ত।
​গোদাগাড়ী থানার কর্মকর্তা (ওসি) জিডির ভিত্তিতে এএসআই মোঃ মজনু মিয়াকে ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অভিযান জোরদার রয়েছে।                                                                                                                                                                                                      রাজশাহী গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল