০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কটিয়াদীতে শাহীন ক্যাডেট একাডেমির পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক, অভিযোগ অস্বীকার কর্তৃপক্ষের

 

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় অবস্থিত ‘কটিয়াদী শাহীন বৃত্তি ও ক্যাডেট একাডেমি’ নামের একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পরিচালক মীর মোরশেদ এবং তার স্ত্রী, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা ইমরানা আহমেদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা কৌশলে অতিরিক্ত ফি আদায় করে আসছে। এর মধ্যে মাসে একাধিকবার ‘স্কুল পার্টি’র অজুহাতে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া, অতিরিক্ত দামে বই-খাতা ক্রয়ে বাধ্য করা এবং প্রশাসনিক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন ফান্ড তৈরির নামে টাকা আদায়ের ঘটনা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও লেখালেখি চলছিল।

​কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে কোনো কর্ণপাত না করায় অবশেষে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) এক ক্ষুব্ধ অভিভাবক কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ-এর কাছে ১৭টি সুনির্দিষ্ট অনিয়মের কথা উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ইউএনও অভিযোগটি গ্রহণ করেছেন এবং প্রাথমিক সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে বিষয়টি আমলে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

​ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে কটিয়াদীজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, বাণিজ্যিক স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে। প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই পরিচালক দম্পতির বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মীর মুর্শেদ ও তার স্ত্রী প্রধান শিক্ষক ইমরানা আহমেদ।

​পরিচালক মীর মুর্শেদ বলেন, “আমাদের স্কুলের ঈর্ষান্বিত সাফল্য এবং ক্রমাগত শিক্ষার্থী বৃদ্ধি দেখে একটি অসাধু চক্র শুরু থেকেই চক্রান্ত করে আসছে। তারা মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সামনে একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কথা রয়েছে, সম্ভবত তাদেরও এই অপপ্রচারে মদদ রয়েছে।”

​একই সুর মিলিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমরানা আহমেদ বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া কোনো আদালত নয় যে সেখানে কেউ কাউকে বিচার করবে। প্রান্তিক ও অবহেলিত অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল; আমরা শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করতে আসিনি। রাতারাতি একটি প্রতিষ্ঠান সফল হয়ে ওঠায় একটি গোষ্ঠী হিংসাত্মক হয়ে উঠেছে। এমনকি তারা আমাদের পরিবারকে নিয়ে নানা অশালীন মন্তব্য করছে, যা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের প্রতিটি কার্যক্রম শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কারো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার না চালিয়ে সরাসরি আমাদের কার্যালয়ে এসে কথা বলার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ জানান, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

কটিয়াদীতে শাহীন ক্যাডেট একাডেমির পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক, অভিযোগ অস্বীকার কর্তৃপক্ষের

Update Time : ০৪:৫৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

 

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় অবস্থিত ‘কটিয়াদী শাহীন বৃত্তি ও ক্যাডেট একাডেমি’ নামের একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পরিচালক মীর মোরশেদ এবং তার স্ত্রী, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা ইমরানা আহমেদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা কৌশলে অতিরিক্ত ফি আদায় করে আসছে। এর মধ্যে মাসে একাধিকবার ‘স্কুল পার্টি’র অজুহাতে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া, অতিরিক্ত দামে বই-খাতা ক্রয়ে বাধ্য করা এবং প্রশাসনিক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন ফান্ড তৈরির নামে টাকা আদায়ের ঘটনা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও লেখালেখি চলছিল।

​কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে কোনো কর্ণপাত না করায় অবশেষে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) এক ক্ষুব্ধ অভিভাবক কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ-এর কাছে ১৭টি সুনির্দিষ্ট অনিয়মের কথা উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ইউএনও অভিযোগটি গ্রহণ করেছেন এবং প্রাথমিক সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে বিষয়টি আমলে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

​ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে কটিয়াদীজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, বাণিজ্যিক স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে। প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই পরিচালক দম্পতির বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মীর মুর্শেদ ও তার স্ত্রী প্রধান শিক্ষক ইমরানা আহমেদ।

​পরিচালক মীর মুর্শেদ বলেন, “আমাদের স্কুলের ঈর্ষান্বিত সাফল্য এবং ক্রমাগত শিক্ষার্থী বৃদ্ধি দেখে একটি অসাধু চক্র শুরু থেকেই চক্রান্ত করে আসছে। তারা মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সামনে একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কথা রয়েছে, সম্ভবত তাদেরও এই অপপ্রচারে মদদ রয়েছে।”

​একই সুর মিলিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমরানা আহমেদ বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া কোনো আদালত নয় যে সেখানে কেউ কাউকে বিচার করবে। প্রান্তিক ও অবহেলিত অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল; আমরা শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করতে আসিনি। রাতারাতি একটি প্রতিষ্ঠান সফল হয়ে ওঠায় একটি গোষ্ঠী হিংসাত্মক হয়ে উঠেছে। এমনকি তারা আমাদের পরিবারকে নিয়ে নানা অশালীন মন্তব্য করছে, যা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের প্রতিটি কার্যক্রম শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কারো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার না চালিয়ে সরাসরি আমাদের কার্যালয়ে এসে কথা বলার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ জানান, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।