০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত ৮০তম স্বাধীনতা দিবস দক্ষিণ ২৪ পরগনার ‘দ্বিতীয় শান্তিনিকেতন’ নলেজ সিটিতে

 

মোমিন আলি লস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা :
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের উস্তি থানার রাজারহাট মাদ্রাসা ঠেস বাসস্টপ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘা জমির উপর গড়ে ওঠা নলেজ সিটিতে যথাযথ মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হল ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিনভর চলে পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নলেজ সিটির কর্ণধার শিক্ষাবিদ আব্দুর রব, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বীর শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দেশাত্মবোধক গান ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
নলেজ সিটির ছাত্রছাত্রীদের আঁকা বিভিন্ন চিত্র ও শিল্পকর্মের প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করা হয়। দিনভর ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে নাচ, দেশাত্মবোধক গান, কুচকাওয়াজসহ একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দর্শকাসনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরাও।
‘দ্বিতীয় শান্তিনিকেতন’ হিসেবে গড়ে ওঠার স্বপ্ন
প্রায় ২০০ বিঘা জমির উপর শান্তিনিকেতনের আদলে গড়ে ওঠা এই নলেজ সিটিতে রয়েছে দিল্লি পাবলিক স্কুল, বিএড কলেজ, ল’ কলেজ, মেডিকেল কলেজ, ফার্মাসি কলেজসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর শীতকালে এখানে পৌষ মেলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নলেজ সিটির কর্ণধার শিক্ষাবিদ আব্দুর রব বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। জ্ঞান ও শিক্ষার আলোয় সমাজকে আলোকিত করা এবং আদর্শবান প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবাদর্শকে সামনে রেখে নলেজ সিটিকে একটি ‘দ্বিতীয় শান্তিনিকেতন’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। বিভেদ নয়, সম্প্রীতির বার্তা
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আব্দুর রব বলেন, বহু আত্মত্যাগ ও আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহীদদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব সকলের।
তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভাজন, দ্বন্দ্ব ও দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি না করে সকলকে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। “আমরা ভারতবাসী—ঐক্য ও সম্প্রীতির সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো”, এই বার্তাই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি।
বন্দেমাতরম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এই গান মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও ঐক্যের আবেগ তৈরি করেছিল। তাই বন্দেমাতরমকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ ও ধারণ করা উচিত।স্বাধীনতার আনন্দের পাশাপাশি ইতিহাস স্মরণের আহ্বান
আব্দুর রব বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করলেও সেই সময় দেশভাগের ফলে বহু মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছিল। স্বাধীনতার আনন্দের পাশাপাশি সেই বেদনাদায়ক ইতিহাসও নতুন প্রজন্মের জানা দরকার।
স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্নের ভারত গড়তে শিক্ষা, গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির উপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নলেজ সিটির এই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান চলে দিনভর। দেশাত্মবোধক আবহে নলেজ সিটির এই আয়োজন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক অনন্য পরিবেশের সাক্ষী হয়ে রইল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত ৮০তম স্বাধীনতা দিবস দক্ষিণ ২৪ পরগনার ‘দ্বিতীয় শান্তিনিকেতন’ নলেজ সিটিতে

Update Time : ১২:১৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

 

মোমিন আলি লস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা :
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের উস্তি থানার রাজারহাট মাদ্রাসা ঠেস বাসস্টপ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘা জমির উপর গড়ে ওঠা নলেজ সিটিতে যথাযথ মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হল ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিনভর চলে পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নলেজ সিটির কর্ণধার শিক্ষাবিদ আব্দুর রব, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বীর শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দেশাত্মবোধক গান ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
নলেজ সিটির ছাত্রছাত্রীদের আঁকা বিভিন্ন চিত্র ও শিল্পকর্মের প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করা হয়। দিনভর ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে নাচ, দেশাত্মবোধক গান, কুচকাওয়াজসহ একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দর্শকাসনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরাও।
‘দ্বিতীয় শান্তিনিকেতন’ হিসেবে গড়ে ওঠার স্বপ্ন
প্রায় ২০০ বিঘা জমির উপর শান্তিনিকেতনের আদলে গড়ে ওঠা এই নলেজ সিটিতে রয়েছে দিল্লি পাবলিক স্কুল, বিএড কলেজ, ল’ কলেজ, মেডিকেল কলেজ, ফার্মাসি কলেজসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর শীতকালে এখানে পৌষ মেলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নলেজ সিটির কর্ণধার শিক্ষাবিদ আব্দুর রব বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। জ্ঞান ও শিক্ষার আলোয় সমাজকে আলোকিত করা এবং আদর্শবান প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবাদর্শকে সামনে রেখে নলেজ সিটিকে একটি ‘দ্বিতীয় শান্তিনিকেতন’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। বিভেদ নয়, সম্প্রীতির বার্তা
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আব্দুর রব বলেন, বহু আত্মত্যাগ ও আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহীদদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব সকলের।
তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভাজন, দ্বন্দ্ব ও দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি না করে সকলকে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। “আমরা ভারতবাসী—ঐক্য ও সম্প্রীতির সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো”, এই বার্তাই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি।
বন্দেমাতরম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এই গান মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও ঐক্যের আবেগ তৈরি করেছিল। তাই বন্দেমাতরমকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ ও ধারণ করা উচিত।স্বাধীনতার আনন্দের পাশাপাশি ইতিহাস স্মরণের আহ্বান
আব্দুর রব বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভ করলেও সেই সময় দেশভাগের ফলে বহু মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছিল। স্বাধীনতার আনন্দের পাশাপাশি সেই বেদনাদায়ক ইতিহাসও নতুন প্রজন্মের জানা দরকার।
স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্নের ভারত গড়তে শিক্ষা, গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির উপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নলেজ সিটির এই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান চলে দিনভর। দেশাত্মবোধক আবহে নলেজ সিটির এই আয়োজন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক অনন্য পরিবেশের সাক্ষী হয়ে রইল।