
মোঃ আলম খান, নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরসভার পশ্চিম শান্তিবাগ মহল্লায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পানি নিষ্কাশনে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাস্তার জায়গা দখল করে কয়েকটি স্থানে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে সেই কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ঘটনায় পৌর বিধি না মেনে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইকবাল মাস্টারের বিরুদ্ধে।
এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ড্রেন নির্মাণ, বিধিবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার (১৭ আগস্ট) কেন্দুয়া পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পশ্চিম শান্তিবাগের বাসিন্দারা।
অভিযোগে স্থানীয়রা জানান,সামান্য বৃষ্টি হলেই মহল্লার বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও সড়কে পানি জমে যায়। বর্ষা মৌসুমে সেই পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকায় দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ময়লা-আবর্জনা ও নোংরা পানি জমে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,পরিস্থিতি বিবেচনায় পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাস্তার পাশে প্রয়োজনীয় জায়গা না থাকায় কাজ এগোচ্ছে না। এর মধ্যে কয়েকটি স্থানে পৌর বিধি না মেনে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনা শুধু ড্রেন নির্মাণেই বাধা সৃষ্টি করছে না,ভবিষ্যতে পৌরসভার সড়ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
লিখিত অভিযোগে শিক্ষক ইকবাল মাস্টারের বিরুদ্ধে পৌরসভার নিয়মনীতি অনুসরণ না করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি,ভবন নির্মাণ নিয়ে এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় তৎকালীন ইউএনও মোঃ রিফাতুল ইসলাম নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন।
অভিযোগকারীদের দাবি,জরিমানা দেওয়ার পরও এবং বর্তমান পৌর প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও ফের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
তবে ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক ইকবাল মাস্টার।
কেন্দুয়া পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন,অভিযোগ পাওয়ার পর নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও একই বিষয়ে অভিযোগ হয়েছিল এবং তখন ইকবাল মাস্টার এক লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছিলেন।
কেন্দুয়া পৌরসভার পৌর প্রশাসক ও ইউএনও সানজিদা চৌধুরী বলেন,স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পশ্চিম শান্তিবাগের বাসিন্দারা দ্রুত মহল্লাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণ এবং পৌর বিধিবহির্ভূত স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ,দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ না করা হলে ভবিষ্যতে পৌরসভার সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হবে। তাই জনস্বার্থে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিনিধির নাম 



















