০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরের চৌগাছায় বরাদ্দ পর্যাপ্ত থাকার পরেও কৃষকদের সারের জন্য হাহাকার: সারের সংকট নিয়ে কৃষকের মাঝে অসন্তোষ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের চৌগাছায় আমন মৌসুমে সারের সংকট নিয়ে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার পর্যাপ্ত থাকার কথা থাকলেও ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্রে চাহিদামতো সার মিলছে না, ডিলাররা বলছেন সার সংকট।

কেউ কেউ বাড়তি টাকা দিলে সার পাওয়ার অভিযোগও করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমকে সামনে রেখে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চৌগাছায় বিভিন্ন ধরনের মোট ৫ হাজার ৫৭৭ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ২ হাজার ৮৫০ টন, টিএসপি ১ হাজার ৭০ টন, ডিএপি ৯১৩ টন এবং এমওপি ৭৫৯ টন।

শুধু আগস্ট মাসেই বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৭৪৯ টন সার। ফলে কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি থাকার কথা নয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কৃষকদের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা।

চৌগাছা পৌর এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, সরকারি দামে সার কিনতে একাধিকবার ডিলারের দোকানে গিয়েও তিনি খালি হাতে ফিরেছেন। তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দিলে সার পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের কৃষক বাবু হোসেনের ভাষ্য, “সার বাজারে আছে, কিন্তু সাধারণ কৃষকের জন্য পাওয়া কঠিন। বেশি দাম দিতে পারলে অনেক সময় সার পাওয়া যায়।”

একই অভিযোগ করেছেন স্বরুপদাহ, আন্দারকোটা, খড়িঞ্চা নওদাপাড়া ও বহিলাপোতা গ্রামের কয়েকজন কৃষক। তাদের দাবি, ডিলারের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়েও নির্ধারিত দামে সার পাননি। শেষ পর্যন্ত বাইরে থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে।

চৌগাছা উপজেলায় বর্তমানে বিসিআইসির ১৬ জন এবং বিএডিসির ২১ জনসহ মোট ৩৭ জন মূল ডিলার রয়েছেন। তাদের অধীনে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় কাজ করছেন ১১০ জন সাব-ডিলার। মূল ডিলারদের কাছ থেকে সার নিয়ে এসব সাব-ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানোর কথা।

তবে অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ডিলার মাসের শেষ দিকে সার উত্তোলন করে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করেন। আবার কিছু সাব-ডিলার কাগজে-কলমে বিক্রয় দেখিয়ে সার মজুত রাখার মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলাররা।

বিসিআইসি ডিলার হোসেন ট্রেডার্সের মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, সাময়িকভাবে কিছুটা সমস্যা হলেও বর্তমানে সার সংকট নেই। আগস্টের বরাদ্দ পাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হোসাইন জানান, কৃষকেরা অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার ব্যবহার করায় অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়। পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করতে পারেন। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কৃষকদের দাবি, শুধু বরাদ্দের পরিমাণ প্রকাশ করলেই হবে না। কোন ডিলার কত সার উত্তোলন করেছেন, কতটুকু বিক্রি করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত কত সার কৃষকের হাতে পৌঁছেছে—তার নিয়মিত হিসাব ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাহলেই প্রকৃত সংকটের কারণ বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

যশোরের চৌগাছায় বরাদ্দ পর্যাপ্ত থাকার পরেও কৃষকদের সারের জন্য হাহাকার: সারের সংকট নিয়ে কৃষকের মাঝে অসন্তোষ

Update Time : ১২:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের চৌগাছায় আমন মৌসুমে সারের সংকট নিয়ে কৃষকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার পর্যাপ্ত থাকার কথা থাকলেও ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্রে চাহিদামতো সার মিলছে না, ডিলাররা বলছেন সার সংকট।

কেউ কেউ বাড়তি টাকা দিলে সার পাওয়ার অভিযোগও করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমকে সামনে রেখে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চৌগাছায় বিভিন্ন ধরনের মোট ৫ হাজার ৫৭৭ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ২ হাজার ৮৫০ টন, টিএসপি ১ হাজার ৭০ টন, ডিএপি ৯১৩ টন এবং এমওপি ৭৫৯ টন।

শুধু আগস্ট মাসেই বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৭৪৯ টন সার। ফলে কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি থাকার কথা নয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কৃষকদের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা।

চৌগাছা পৌর এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, সরকারি দামে সার কিনতে একাধিকবার ডিলারের দোকানে গিয়েও তিনি খালি হাতে ফিরেছেন। তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দিলে সার পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের কৃষক বাবু হোসেনের ভাষ্য, “সার বাজারে আছে, কিন্তু সাধারণ কৃষকের জন্য পাওয়া কঠিন। বেশি দাম দিতে পারলে অনেক সময় সার পাওয়া যায়।”

একই অভিযোগ করেছেন স্বরুপদাহ, আন্দারকোটা, খড়িঞ্চা নওদাপাড়া ও বহিলাপোতা গ্রামের কয়েকজন কৃষক। তাদের দাবি, ডিলারের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়েও নির্ধারিত দামে সার পাননি। শেষ পর্যন্ত বাইরে থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে।

চৌগাছা উপজেলায় বর্তমানে বিসিআইসির ১৬ জন এবং বিএডিসির ২১ জনসহ মোট ৩৭ জন মূল ডিলার রয়েছেন। তাদের অধীনে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় কাজ করছেন ১১০ জন সাব-ডিলার। মূল ডিলারদের কাছ থেকে সার নিয়ে এসব সাব-ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানোর কথা।

তবে অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ডিলার মাসের শেষ দিকে সার উত্তোলন করে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করেন। আবার কিছু সাব-ডিলার কাগজে-কলমে বিক্রয় দেখিয়ে সার মজুত রাখার মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলাররা।

বিসিআইসি ডিলার হোসেন ট্রেডার্সের মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, সাময়িকভাবে কিছুটা সমস্যা হলেও বর্তমানে সার সংকট নেই। আগস্টের বরাদ্দ পাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হোসাইন জানান, কৃষকেরা অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার ব্যবহার করায় অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়। পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করতে পারেন। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কৃষকদের দাবি, শুধু বরাদ্দের পরিমাণ প্রকাশ করলেই হবে না। কোন ডিলার কত সার উত্তোলন করেছেন, কতটুকু বিক্রি করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত কত সার কৃষকের হাতে পৌঁছেছে—তার নিয়মিত হিসাব ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাহলেই প্রকৃত সংকটের কারণ বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।