
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরকারি জায়গা দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। এবার নগরীর জজকোর্ট রোডে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত ড্রেন দখল করে সড়কের চলাচলের জায়গা সংকুচিত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি পথচারী ও যাত্রীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, জজকোর্ট রোডের গায়েব আসিফের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ড্রেনের জায়গা ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ব্যবহারের আওতায় নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে ড্রেনের ওপর জায়গা ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে স্থাপনা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের অংশ সড়কের দিকে সম্প্রসারিত হওয়ায় মূল সড়কের চলাচলযোগ্য অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে সড়কের প্রায় ১২ ফুট জায়গা দখলের কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে জজকোর্ট এলাকার মতো ব্যস্ত স্থানে প্রতিদিন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, পথচারীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। ফলে সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় যানজটের পাশাপাশি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ড্রেন ও সড়কের জায়গা ব্যক্তিগত ব্যবহারে চলে যাওয়ার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো? সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয়রা আরও বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত, ড্রেন, সড়কের জায়গা কিংবা সরকারি জমি দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে সড়কের স্বাভাবিক প্রশস্ততা কমে যাচ্ছে এবং নগরবাসীর চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে।
তাদের ভাষ্য, “কুমিল্লা শহরটা যেন মগের মুল্লুক। যে যেভাবে পারছে, সেভাবেই সরকারি জায়গা দখলের প্রতিযোগিতায় নামছে।” তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে সিটি করপোরেশনের জায়গা ও ড্রেনের সীমানা নির্ধারণ করা হোক। যদি সরকারি জায়গা দখলের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী দখলমুক্ত করে সড়কের স্বাভাবিক প্রশস্ততা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে পথচারী ও যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেন দখলের বিষয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং কার্যকর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
প্রতিনিধির নাম 



















