০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটালীপাড়ায় জাল কাগজে দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ, দুই দলিল লেখক বহিষ্কার তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ

মোঃ শিহাব উদ্দিন
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রি করার অভিযোগে দুই দলিল লেখককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার কোটালীপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন এ আদেশ দেন।
সাময়িক বহিষ্কৃত দুই দলিল লেখক হলেন নাসির উদ্দিন শেখ (পিতা: মৃত নেহাল উদ্দিন, গ্রাম: বংকুরা) ও মিজানুর রহমান বুলবুল শরীফ (পিতা: মৃত শহীদুল শরীফ, গ্রাম: কাঠি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কোটালীপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে নাসির উদ্দিন শেখ ও মিজানুর রহমান বুলবুলসহ কয়েকজন দলিল লেখকের বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ওই দুই দলিল লেখকের বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কারের পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
মিজানুর রহমান বুলবুল বলেন, গত ১৫ জুলাই উনশিয়া গ্রামের মৃত ফহম মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম দলিল ও পর্চার কাগজপত্র নিয়ে তাঁর কাছে আসেন। নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, আমেনা বেগম জাল কাগজপত্র ব্যবহার করেছিলেন। এ ঘটনায় তাঁকে সাময়িক বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি নোটিশের লিখিত জবাব দিয়েছেন বলে জানান।
নাসির উদ্দিন শেখ বলেন, কিছুদিন আগে একটি দলিল রেজিস্ট্রির জন্য তিনি কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে ওই কাগজপত্র জাল বলে অভিযোগ ওঠে। এ কারণে তাঁকেও সাময়িক বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনিও যথাসময়ে নোটিশের জবাব দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে আমেনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক অভিযোগ করেন, কোটালীপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে ঘিরে একটি চক্রের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি ও রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে। তাঁরা অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কোটালীপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “দলিল রেজিস্ট্রির সময় জাল কাগজপত্র উপস্থাপনের সত্যতা পাওয়ায় নাসির উদ্দিন শেখ ও মিজানুর রহমান বুলবুলকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, নোটিশের জবাব পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

কোটালীপাড়ায় জাল কাগজে দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ, দুই দলিল লেখক বহিষ্কার তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ

Update Time : ০৩:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ শিহাব উদ্দিন
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রি করার অভিযোগে দুই দলিল লেখককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার কোটালীপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন এ আদেশ দেন।
সাময়িক বহিষ্কৃত দুই দলিল লেখক হলেন নাসির উদ্দিন শেখ (পিতা: মৃত নেহাল উদ্দিন, গ্রাম: বংকুরা) ও মিজানুর রহমান বুলবুল শরীফ (পিতা: মৃত শহীদুল শরীফ, গ্রাম: কাঠি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কোটালীপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে নাসির উদ্দিন শেখ ও মিজানুর রহমান বুলবুলসহ কয়েকজন দলিল লেখকের বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ওই দুই দলিল লেখকের বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কারের পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
মিজানুর রহমান বুলবুল বলেন, গত ১৫ জুলাই উনশিয়া গ্রামের মৃত ফহম মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম দলিল ও পর্চার কাগজপত্র নিয়ে তাঁর কাছে আসেন। নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, আমেনা বেগম জাল কাগজপত্র ব্যবহার করেছিলেন। এ ঘটনায় তাঁকে সাময়িক বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি নোটিশের লিখিত জবাব দিয়েছেন বলে জানান।
নাসির উদ্দিন শেখ বলেন, কিছুদিন আগে একটি দলিল রেজিস্ট্রির জন্য তিনি কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে ওই কাগজপত্র জাল বলে অভিযোগ ওঠে। এ কারণে তাঁকেও সাময়িক বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনিও যথাসময়ে নোটিশের জবাব দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে আমেনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক অভিযোগ করেন, কোটালীপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে ঘিরে একটি চক্রের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি ও রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে। তাঁরা অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কোটালীপাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “দলিল রেজিস্ট্রির সময় জাল কাগজপত্র উপস্থাপনের সত্যতা পাওয়ায় নাসির উদ্দিন শেখ ও মিজানুর রহমান বুলবুলকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, নোটিশের জবাব পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।