০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান “জামায়াত-এনসিপির মব রাজনীতিই আ’লীগের ফেরার পথ তৈরি করছে

রাসেল হোসেন ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-

নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বাংলাদেশে ফের সংগঠিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীরা সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বিদেশী মেহমানদের উপস্থিতিতে যেসব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে ‘মব’ বা কৃত্রিম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যে অশুভ চক্রান্ত চালাচ্ছে, তা প্রকারান্তরে ক্ষমতাচ্যুত ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ারই পথ সুগম করে দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর ও গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় বর্তমান রাজনৈতিক গতি প্রকৃতি ও সরকারের অবস্থান তুলে ধরে রাশেদ খান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জামায়াত ও এনসিপির দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিয়ে গা ঢাকা দেওয়া ফ্যাসিস্ট শক্তি আবারও মাঠে নামার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। তারা ভেবেছে মাত্র এক সপ্তাহের চক্রান্তেই এই সরকারের পতন ঘটিয়ে দেবে, যা একটি অলীক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। জামায়াতকে ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, তারা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত। এ দেশের সচেতন ও দেশপ্রেমিক জনগণ তাদের হাতে কখনো রাষ্ট্রের চাবুক তুলে দেবে না। ক্ষমতার মসনদে বসার স্বপ্ন দেখার আগে জামায়াত ও এনসিপিকে অন্তত আরও ১০ বছর বিরোধী দলের আসনে বসে দায়িত্বশীল রাজনীতির পাঠ নিতে হবে।”

বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের সাম্প্রতিক নানা কৌশলগত কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ মহল একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এসব উসকানিমূলক ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড সাধারণ জনগণ কখনো মেনে নেবে না। বিএনপিকে রাজনীতি থেকে চিরতরে মাইনাস করার গভীর ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি হুশিয়ারি দেন, “বিএনপিকে রাজপথ কিংবা রাজনীতি থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করবেন না। বিএনপি এই দেশের গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ; বিএনপি না থাকলে জামায়াত কিংবা এনসিপির মতো দলগুলোর রাজনৈতিক অস্তিত্বও বিপন্ন হবে। যদি ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঘটে, তবে যে নজিরবিহীন দমন-পীড়ন ও প্রতিহিংসার ঝড় নেমে আসবে, তা কল্পনা করার শক্তিও তাদের নেই।”

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করেন রাশেদ খান। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপি ইতোমধ্যেই যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এবং এ সংক্রান্ত সকল নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক দায়িত্ব দলের স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে দেশনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর ওপর অর্পণ করা হয়েছে। তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক মেধা, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা দিয়ে যথা সময়ে রাষ্ট্রপতি পদের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করবেন। এ সময় জামায়াত ও এনসিপির ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তারা জাতীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস দেখাচ্ছে না। আমরা আহ্বান জানাই তারা যেন প্রার্থী ঘোষণা করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, কারণ প্রতিযোগিতাই হলো গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, ঝিনাইদহ পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান শেখর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ঝিনাইদহে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান “জামায়াত-এনসিপির মব রাজনীতিই আ’লীগের ফেরার পথ তৈরি করছে

Update Time : ০৩:০২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

রাসেল হোসেন ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-

নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বাংলাদেশে ফের সংগঠিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীরা সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বিদেশী মেহমানদের উপস্থিতিতে যেসব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে ‘মব’ বা কৃত্রিম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যে অশুভ চক্রান্ত চালাচ্ছে, তা প্রকারান্তরে ক্ষমতাচ্যুত ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ারই পথ সুগম করে দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক ভাবগম্ভীর ও গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় বর্তমান রাজনৈতিক গতি প্রকৃতি ও সরকারের অবস্থান তুলে ধরে রাশেদ খান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জামায়াত ও এনসিপির দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিয়ে গা ঢাকা দেওয়া ফ্যাসিস্ট শক্তি আবারও মাঠে নামার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। তারা ভেবেছে মাত্র এক সপ্তাহের চক্রান্তেই এই সরকারের পতন ঘটিয়ে দেবে, যা একটি অলীক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। জামায়াতকে ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, তারা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত। এ দেশের সচেতন ও দেশপ্রেমিক জনগণ তাদের হাতে কখনো রাষ্ট্রের চাবুক তুলে দেবে না। ক্ষমতার মসনদে বসার স্বপ্ন দেখার আগে জামায়াত ও এনসিপিকে অন্তত আরও ১০ বছর বিরোধী দলের আসনে বসে দায়িত্বশীল রাজনীতির পাঠ নিতে হবে।”

বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের সাম্প্রতিক নানা কৌশলগত কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ মহল একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এসব উসকানিমূলক ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড সাধারণ জনগণ কখনো মেনে নেবে না। বিএনপিকে রাজনীতি থেকে চিরতরে মাইনাস করার গভীর ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি হুশিয়ারি দেন, “বিএনপিকে রাজপথ কিংবা রাজনীতি থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করবেন না। বিএনপি এই দেশের গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ; বিএনপি না থাকলে জামায়াত কিংবা এনসিপির মতো দলগুলোর রাজনৈতিক অস্তিত্বও বিপন্ন হবে। যদি ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঘটে, তবে যে নজিরবিহীন দমন-পীড়ন ও প্রতিহিংসার ঝড় নেমে আসবে, তা কল্পনা করার শক্তিও তাদের নেই।”

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করেন রাশেদ খান। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপি ইতোমধ্যেই যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এবং এ সংক্রান্ত সকল নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক দায়িত্ব দলের স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে দেশনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর ওপর অর্পণ করা হয়েছে। তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক মেধা, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা দিয়ে যথা সময়ে রাষ্ট্রপতি পদের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম প্রকাশ করবেন। এ সময় জামায়াত ও এনসিপির ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তারা জাতীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস দেখাচ্ছে না। আমরা আহ্বান জানাই তারা যেন প্রার্থী ঘোষণা করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়, কারণ প্রতিযোগিতাই হলো গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, ঝিনাইদহ পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান শেখর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল।