১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতি শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, এটি হলো সমাজ বদলের ইঞ্জিন

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সংঘাতমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ছাএ রাজনীতি দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ দিনের প্রধান প্রত্যাশা। ক্যাম্পাস গুলোতে দখল দারিত্ব, হানাহানি ও শক্তির প্রদর্শনের সংস্কৃতি বাদ দিয়ে সুস্থ সহাবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের রাজনীতি গড়ে ওঠা অত্যন্ত জরুরি।

রাজনীতি বলতে আমরা কি বুঝি ? রাষ্ট্রের বা সরকারের বা জনগণের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ – সুবিধা, ভালো – মন্দ নিয়ে কথা বলা বা সমলোচনা করা কি রাজনীতি নয় ? বর্তমানে দেশের অস্থিতিশীলতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কথা বলা কি রাজনীতি নয় ? তাহলে রাজনীতি কি শুধু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং না করার মাঝেই সীমাবদ্ধ ? নাকি চাঁদাবাজি, হল দখল, জমি দখল, খাল দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এই সব হল রাজনীতি।

ছাএ রাজনীতির আদর্শগত ভিত্তি হতে হবে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণের প্রতি নিবেদিত। এ ক্ষেত্রে ছাএ রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক এবং নৈতিক উন্নয়ন। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ তৈরি করতে হবে।

শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের রাজনীতি অবশ্যই সুশৃঙ্খল ও শিক্ষার্থী কেন্দ্রীক হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাদের নেতৃত্ব গুন বিকাশিত হয়। তবে বলপ্রয়োগ বা সংঘাতের রাজনীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে।

ছাএ রাজনীতি হচ্ছে দেশের গনতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম মূল্যবান ভিত্তি। ছাএ রাজনীতি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সচেতনতা, অধিকার সম্পর্কে ভাবতে শেখায়। ইতিহাসে দেখা যায়, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গনতান্ত্রিক সংগ্রামে ছাএ সমাজ কিন্তু অনেক বেশি গুরুত্ব বা অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে। সুস্থ আর সুন্দর ছাএ রাজনীতি শিক্ষার্থীদের যুক্তি, সংগঠিত, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠ দিয়ে কথা বলার সাহস জোগায়, তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন ছাএ রাজনীতি আদর্শচ্যুত হয়ে দলীয় স্বার্থ, সহিংসতা, ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। তাতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয় এবং অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যদি ও মূল আলোচনা ছাএ রাজনীতি নিয়ে কিন্তু আমার মতে, ছাএ রাজনীতি পৃথক কোন বিষয় নয়। এর সাথে শিক্ষক রাজনীতি, বিভিন্ন পেশাজীবীদের রাজনীতি, শ্রমজীবী সংগঠনের বিষয় গুলো সম্পৃক্ত। কোনটিকে অন্যটির থেকে পৃথক করে দেখার অবকাশ নেই।

দলীয় লেজুরভিত্তি ছাএ সংগঠন বা শিক্ষক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী সংগঠনের বিরোধিতা আমি ও করি কিন্তু সেই সঙ্গে এও বলতে চাই যে, গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই সব সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা ও অপরীসিম।

প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি প্রাপ্ত বয়স্কের অধিকার রয়েছে এবং উচিত ও প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সজাগ থাকা এবং সে আলোকে নিজের মতামত প্রদান করা। কোন আইন করে নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠী বা সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়, যদি না সে গোষ্ঠী বা সংগঠন আদর্শগত ভাবে হিংসাত্মক বা ধ্বংসাত্মক কাজে যুক্ত থাকে।

লেখক:
মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি
কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

রাজনীতি শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, এটি হলো সমাজ বদলের ইঞ্জিন

Update Time : ০২:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সংঘাতমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ছাএ রাজনীতি দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ দিনের প্রধান প্রত্যাশা। ক্যাম্পাস গুলোতে দখল দারিত্ব, হানাহানি ও শক্তির প্রদর্শনের সংস্কৃতি বাদ দিয়ে সুস্থ সহাবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের রাজনীতি গড়ে ওঠা অত্যন্ত জরুরি।

রাজনীতি বলতে আমরা কি বুঝি ? রাষ্ট্রের বা সরকারের বা জনগণের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ – সুবিধা, ভালো – মন্দ নিয়ে কথা বলা বা সমলোচনা করা কি রাজনীতি নয় ? বর্তমানে দেশের অস্থিতিশীলতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কথা বলা কি রাজনীতি নয় ? তাহলে রাজনীতি কি শুধু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং না করার মাঝেই সীমাবদ্ধ ? নাকি চাঁদাবাজি, হল দখল, জমি দখল, খাল দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এই সব হল রাজনীতি।

ছাএ রাজনীতির আদর্শগত ভিত্তি হতে হবে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণের প্রতি নিবেদিত। এ ক্ষেত্রে ছাএ রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক এবং নৈতিক উন্নয়ন। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ তৈরি করতে হবে।

শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের রাজনীতি অবশ্যই সুশৃঙ্খল ও শিক্ষার্থী কেন্দ্রীক হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাদের নেতৃত্ব গুন বিকাশিত হয়। তবে বলপ্রয়োগ বা সংঘাতের রাজনীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে।

ছাএ রাজনীতি হচ্ছে দেশের গনতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম মূল্যবান ভিত্তি। ছাএ রাজনীতি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সচেতনতা, অধিকার সম্পর্কে ভাবতে শেখায়। ইতিহাসে দেখা যায়, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গনতান্ত্রিক সংগ্রামে ছাএ সমাজ কিন্তু অনেক বেশি গুরুত্ব বা অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে। সুস্থ আর সুন্দর ছাএ রাজনীতি শিক্ষার্থীদের যুক্তি, সংগঠিত, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠ দিয়ে কথা বলার সাহস জোগায়, তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন ছাএ রাজনীতি আদর্শচ্যুত হয়ে দলীয় স্বার্থ, সহিংসতা, ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। তাতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয় এবং অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যদি ও মূল আলোচনা ছাএ রাজনীতি নিয়ে কিন্তু আমার মতে, ছাএ রাজনীতি পৃথক কোন বিষয় নয়। এর সাথে শিক্ষক রাজনীতি, বিভিন্ন পেশাজীবীদের রাজনীতি, শ্রমজীবী সংগঠনের বিষয় গুলো সম্পৃক্ত। কোনটিকে অন্যটির থেকে পৃথক করে দেখার অবকাশ নেই।

দলীয় লেজুরভিত্তি ছাএ সংগঠন বা শিক্ষক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী সংগঠনের বিরোধিতা আমি ও করি কিন্তু সেই সঙ্গে এও বলতে চাই যে, গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই সব সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা ও অপরীসিম।

প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি প্রাপ্ত বয়স্কের অধিকার রয়েছে এবং উচিত ও প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সজাগ থাকা এবং সে আলোকে নিজের মতামত প্রদান করা। কোন আইন করে নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠী বা সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়, যদি না সে গোষ্ঠী বা সংগঠন আদর্শগত ভাবে হিংসাত্মক বা ধ্বংসাত্মক কাজে যুক্ত থাকে।

লেখক:
মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি
কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।