০৯:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তিগঞ্জে বসতঘরে হামলা, লুটপাট ও দখলের অভিযোগে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা

 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং জোরপূর্বক বাড়ি দখলের অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা রোকসানা বেগম। তিনি সুনামগঞ্জের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৯ জুলাই ২০২৬ পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে, পরিবারের সদস্যদের মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় প্রধান আসামি সোহেদ আলম রামদা প্রদর্শন করে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেন। পরে অন্য আসামিরা আলমারি খুলে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ টাকা এবং জমির ধান বিক্রির ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী বাধা দিলে নারী আসামিরা তাকে চুল ধরে টেনে ঘরের বাইরে এনে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও অভিযুক্তদের সশস্ত্র অবস্থানের কারণে কেউ বাড়িতে প্রবেশের সাহস পাননি বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা সেখান থেকে সরে যায়। পরবর্তীতে বাদীর ভাই ও গ্রামবাসীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পিত্রালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া ১৪ জুলাই পুলিশ বাড়ি থেকে কিছু ধান, গরু ও কৃষি মেশিন উদ্ধার করে বাদীর ভাইয়ের জিম্মায় দেয় এবং বসতঘরে তালা লাগিয়ে রাখে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর আসামিপক্ষ বাদী, তার স্বামী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করে এবং ধারাবাহিকভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় তারা বাড়িতে ফিরতে পারেননি। পরে আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর ১৬ জুলাই বাড়িতে ফেরার উদ্যোগ নিলে অভিযুক্তরা পুলিশের দেওয়া তালা ভেঙে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা ঘরের অবশিষ্ট মূল্যবান মালামাল, ধান, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও জমির দলিলপত্র নিয়ে যায় এবং বসতঘর দখলে নেয়। এরপর থেকে বাদী ও তার পরিবার বাড়িছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, একাধিকবার থানায় সহযোগিতা চাইলেও পুলিশ তাকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়। বর্তমানে আসামিরা তার বসতঘর দখলে রেখে সব মালামাল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় সোহেদ আলম, আক্কল আলী, কুহিল, নুর ইসলাম, সামছু আলম, সূর্য আলম, অলি, সুনেকা, সফারুন, হুসনারা ও লাকীসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদী আদালতের কাছে অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

শান্তিগঞ্জে বসতঘরে হামলা, লুটপাট ও দখলের অভিযোগে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা

Update Time : ০৪:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং জোরপূর্বক বাড়ি দখলের অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা রোকসানা বেগম। তিনি সুনামগঞ্জের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৯ জুলাই ২০২৬ পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে, পরিবারের সদস্যদের মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় প্রধান আসামি সোহেদ আলম রামদা প্রদর্শন করে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেন। পরে অন্য আসামিরা আলমারি খুলে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ টাকা এবং জমির ধান বিক্রির ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী বাধা দিলে নারী আসামিরা তাকে চুল ধরে টেনে ঘরের বাইরে এনে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও অভিযুক্তদের সশস্ত্র অবস্থানের কারণে কেউ বাড়িতে প্রবেশের সাহস পাননি বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা সেখান থেকে সরে যায়। পরবর্তীতে বাদীর ভাই ও গ্রামবাসীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পিত্রালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া ১৪ জুলাই পুলিশ বাড়ি থেকে কিছু ধান, গরু ও কৃষি মেশিন উদ্ধার করে বাদীর ভাইয়ের জিম্মায় দেয় এবং বসতঘরে তালা লাগিয়ে রাখে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর আসামিপক্ষ বাদী, তার স্বামী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করে এবং ধারাবাহিকভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় তারা বাড়িতে ফিরতে পারেননি। পরে আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর ১৬ জুলাই বাড়িতে ফেরার উদ্যোগ নিলে অভিযুক্তরা পুলিশের দেওয়া তালা ভেঙে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা ঘরের অবশিষ্ট মূল্যবান মালামাল, ধান, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও জমির দলিলপত্র নিয়ে যায় এবং বসতঘর দখলে নেয়। এরপর থেকে বাদী ও তার পরিবার বাড়িছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, একাধিকবার থানায় সহযোগিতা চাইলেও পুলিশ তাকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়। বর্তমানে আসামিরা তার বসতঘর দখলে রেখে সব মালামাল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় সোহেদ আলম, আক্কল আলী, কুহিল, নুর ইসলাম, সামছু আলম, সূর্য আলম, অলি, সুনেকা, সফারুন, হুসনারা ও লাকীসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদী আদালতের কাছে অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।