০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরের সদর উপজেলায় বিএসটিআই অনুমোদনহীন দই মিস্টির কারখানায় রমরমা বানিজ্য :স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

 

​যশোর প্রতিনিধি :

যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দই ও মিষ্টির দোকান ও কারখানা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি, ক্ষতিকর রং ও কেমিক্যাল ব্যবহার এবং বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্র না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে পড়ছে, পাশাপাশি সরকারও হারাচ্ছে বড় অঙ্কের রাজস্ব।

​স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মিষ্টি ও দইয়ের দোকানে বিএসটিআইয়ের কোনো ছাড়পত্র নেই। এর মধ্যে হাশিমপুর বাজারের বরিশাল হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট (প্রো: ফরিদ আহমেদ), ইছালি বাজার ৩ নং ওয়ার্ডের নুর সুইটস (প্রো: নুর আলী), খাজুরা বাজারের আল-আমিন সুইটস (প্রো: ওহাব), মনোহরপুর বাজারের সিফাদ হোটেল (প্রো: সিরাজুল ইসলাম), কাসিমপুর ৬ নং ওয়ার্ড স্কুলের সামনের হুমায়রা মিষ্টান্ন ভান্ডার (প্রো: বিপুল হোসেন) এবং আমবটতলা বাজারের রাহমানিয়া হোটেল (প্রো: রবিউল ইসলাম রুবেল) ও লাবণী হোটেল (প্রো: মতিয়ার রহমান) উল্লেখযোগ্য।

​এসব দোকান ও কারখানায় কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা জায়গায় দই ও মিষ্টি তৈরি করা হচ্ছে। আমবটতলা বাজারের রাহমানিয়া হোটেলে মিষ্টি ও দই তৈরিতে ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানায় জিলাপি তৈরিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ‘হাইডোজ’ ব্যবহার করার প্রমাণ মিলেছে।

​অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়রা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক বিপুল হোসেন জানান, খাদ্যদ্রব্য তৈরি ও বিক্রির ক্ষেত্রে যে বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্র লাগে, সে বিষয়ে তারা অবগত নন।

​অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট তদারকি দল সরজমিনে পরিদর্শনে গেলে ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত দাঁড় করান। বছরের পর বছর ধরে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন।

​এ বিষয়ে বিএসটিআই-এর উপপরিচালক (সিএম) প্রকৌশলী আসলাম শেখ জানান, যশোর সদর উপজেলায় প্রায় ২২ থেকে ২৩টি দই-মিষ্টির দোকানের বিএসটিআই ছাড়পত্র রয়েছে। তবে বেশিরভাগ মিষ্টির কারখানা ও দোকানেরই কোনো অনুমোদন নেই। দোকানগুলোতে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দই তৈরি করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

​এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহল ও ভোক্তারা মনে করছেন, মিষ্টি ও দইয়ের দোকানগুলোতে দ্রুত বিএসটিআইয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করতে এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

যশোরের সদর উপজেলায় বিএসটিআই অনুমোদনহীন দই মিস্টির কারখানায় রমরমা বানিজ্য :স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব

Update Time : ০৪:০২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

 

​যশোর প্রতিনিধি :

যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দই ও মিষ্টির দোকান ও কারখানা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি, ক্ষতিকর রং ও কেমিক্যাল ব্যবহার এবং বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্র না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে পড়ছে, পাশাপাশি সরকারও হারাচ্ছে বড় অঙ্কের রাজস্ব।

​স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মিষ্টি ও দইয়ের দোকানে বিএসটিআইয়ের কোনো ছাড়পত্র নেই। এর মধ্যে হাশিমপুর বাজারের বরিশাল হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট (প্রো: ফরিদ আহমেদ), ইছালি বাজার ৩ নং ওয়ার্ডের নুর সুইটস (প্রো: নুর আলী), খাজুরা বাজারের আল-আমিন সুইটস (প্রো: ওহাব), মনোহরপুর বাজারের সিফাদ হোটেল (প্রো: সিরাজুল ইসলাম), কাসিমপুর ৬ নং ওয়ার্ড স্কুলের সামনের হুমায়রা মিষ্টান্ন ভান্ডার (প্রো: বিপুল হোসেন) এবং আমবটতলা বাজারের রাহমানিয়া হোটেল (প্রো: রবিউল ইসলাম রুবেল) ও লাবণী হোটেল (প্রো: মতিয়ার রহমান) উল্লেখযোগ্য।

​এসব দোকান ও কারখানায় কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা জায়গায় দই ও মিষ্টি তৈরি করা হচ্ছে। আমবটতলা বাজারের রাহমানিয়া হোটেলে মিষ্টি ও দই তৈরিতে ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানায় জিলাপি তৈরিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ‘হাইডোজ’ ব্যবহার করার প্রমাণ মিলেছে।

​অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়রা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক বিপুল হোসেন জানান, খাদ্যদ্রব্য তৈরি ও বিক্রির ক্ষেত্রে যে বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্র লাগে, সে বিষয়ে তারা অবগত নন।

​অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট তদারকি দল সরজমিনে পরিদর্শনে গেলে ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত দাঁড় করান। বছরের পর বছর ধরে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন।

​এ বিষয়ে বিএসটিআই-এর উপপরিচালক (সিএম) প্রকৌশলী আসলাম শেখ জানান, যশোর সদর উপজেলায় প্রায় ২২ থেকে ২৩টি দই-মিষ্টির দোকানের বিএসটিআই ছাড়পত্র রয়েছে। তবে বেশিরভাগ মিষ্টির কারখানা ও দোকানেরই কোনো অনুমোদন নেই। দোকানগুলোতে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দই তৈরি করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

​এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহল ও ভোক্তারা মনে করছেন, মিষ্টি ও দইয়ের দোকানগুলোতে দ্রুত বিএসটিআইয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করতে এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।