০৮:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিপক্ষকে দমন নাকি প্রতিষ্ঠা

মো: তানজিম হোসাইন

হবিগঞ্জের ঘটনাকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ হিসেবে দেখলে পুরো রাজনৈতিক চিত্র বোঝা যাবে না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি এবং তার রাজনৈতিক বার্তা। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে এনসিপির কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা, হামলা বা বাধার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। রাজনীতিতে এমন পুনরাবৃত্ত ঘটনাই সাধারণত একটি প্যাটার্নের ইঙ্গিত দেয়।

সংসদীয় শক্তি, ভোটের হিসাব ও সাংগঠনিক বিস্তারের দিক থেকে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মাঠের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে বেশি দেখা যাচ্ছে এনসিপিকে। এর অর্থ হতে পারে, বিএনপির একটি অংশ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে কেবল বর্তমান আসনসংখ্যা দিয়ে নয়, বরং সম্ভাব্য ভোটব্যাংক ও জনমত গঠনের সক্ষমতা দিয়ে মূল্যায়ন করছে। তরুণ, শহরকেন্দ্রিক এবং পরিবর্তনমুখী ভোটারদের মধ্যে এনসিপির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় তারা বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

তবে এর আরেকটি দিকও আছে। এনসিপি নিজেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে “জুলাই আন্দোলনের উত্তরাধিকার” হিসেবে তুলে ধরতে চায়। ফলে সংঘাতের প্রতিটি ঘটনা তাদের জন্য রাজনৈতিক বয়ান তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করে। যখন কোনো নতুন দল নিজেকে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে থাকে, তখন বিরোধিতা ও বাধা অনেক সময় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়।

রাজনৈতিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে “backfire effect” বা “repression backlash” বলা হয়—যেখানে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা উল্টো তাকে সহানুভূতি ও বৈধতা এনে দেয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসও দেখিয়েছে, রাষ্ট্র বা ক্ষমতাসীন শক্তির কঠোর প্রতিক্রিয়া অনেক সময় আন্দোলন বা বিরোধী শক্তিকে আরও বিস্তৃত সমর্থন এনে দিয়েছে।

তাই মূল প্রশ্ন হামলা কে করেছে, সেটির পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ—এর রাজনৈতিক লাভ কার ঘরে যাচ্ছে? যদি প্রতিটি সংঘর্ষের পর এনসিপি আরও বেশি আলোচনায় আসে, সহানুভূতি পায় এবং নিজেদেরকে নিপীড়িত পক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে স্বল্পমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দীর্ঘমেয়াদে তারা রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। আর সেখানেই বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক পাঠটি লুকিয়ে আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

প্রতিপক্ষকে দমন নাকি প্রতিষ্ঠা

Update Time : ০৩:৫৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মো: তানজিম হোসাইন

হবিগঞ্জের ঘটনাকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ হিসেবে দেখলে পুরো রাজনৈতিক চিত্র বোঝা যাবে না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি এবং তার রাজনৈতিক বার্তা। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে এনসিপির কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা, হামলা বা বাধার অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। রাজনীতিতে এমন পুনরাবৃত্ত ঘটনাই সাধারণত একটি প্যাটার্নের ইঙ্গিত দেয়।

সংসদীয় শক্তি, ভোটের হিসাব ও সাংগঠনিক বিস্তারের দিক থেকে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মাঠের সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে বেশি দেখা যাচ্ছে এনসিপিকে। এর অর্থ হতে পারে, বিএনপির একটি অংশ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে কেবল বর্তমান আসনসংখ্যা দিয়ে নয়, বরং সম্ভাব্য ভোটব্যাংক ও জনমত গঠনের সক্ষমতা দিয়ে মূল্যায়ন করছে। তরুণ, শহরকেন্দ্রিক এবং পরিবর্তনমুখী ভোটারদের মধ্যে এনসিপির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় তারা বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

তবে এর আরেকটি দিকও আছে। এনসিপি নিজেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে “জুলাই আন্দোলনের উত্তরাধিকার” হিসেবে তুলে ধরতে চায়। ফলে সংঘাতের প্রতিটি ঘটনা তাদের জন্য রাজনৈতিক বয়ান তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করে। যখন কোনো নতুন দল নিজেকে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে থাকে, তখন বিরোধিতা ও বাধা অনেক সময় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়।

রাজনৈতিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে “backfire effect” বা “repression backlash” বলা হয়—যেখানে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা উল্টো তাকে সহানুভূতি ও বৈধতা এনে দেয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসও দেখিয়েছে, রাষ্ট্র বা ক্ষমতাসীন শক্তির কঠোর প্রতিক্রিয়া অনেক সময় আন্দোলন বা বিরোধী শক্তিকে আরও বিস্তৃত সমর্থন এনে দিয়েছে।

তাই মূল প্রশ্ন হামলা কে করেছে, সেটির পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ—এর রাজনৈতিক লাভ কার ঘরে যাচ্ছে? যদি প্রতিটি সংঘর্ষের পর এনসিপি আরও বেশি আলোচনায় আসে, সহানুভূতি পায় এবং নিজেদেরকে নিপীড়িত পক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে স্বল্পমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দীর্ঘমেয়াদে তারা রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। আর সেখানেই বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক পাঠটি লুকিয়ে আছে।