০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগে অর্থ লেনদেনের মিথ্যা অভিযোগ: প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতির তীব্র প্রতিবাদ ও সংবাদ সম্মেলন

মোঃরাজু মিয়া সোহাগ,নীলফামারীঃ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপালঝাড় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক ও নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সংবলিত বিভিন্ন পোস্ট ও সংবাদ প্রচারের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমান এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ২০২২–২০২৪ মেয়াদের সাবেক সভাপতি ও ১০,নং শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জামান।
এক লিখিত বিবৃতিতে প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমান দাবি করেন, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি ফেসবুক আইডি ও পেজে তার, বিদ্যালয়ের এবং সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেনের যে অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য, এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে ৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে গোপালঝাড় এলাকার মৃত ফজলার রহমানের ছেলে আলমগীর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে বিদ্যালয়ে দুইজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে গোপনে ব্যাকডেটে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেন, যা তার দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
প্রধান শিক্ষক জানান, ৩১ জুলাই ২০২৩ তারিখে দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকায় অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল।তবে সেই নিয়োগ বিভিন্ন জঠিলতার কারণে সম্পন্ন হয়নি।কিন্তুু সে সময় প্রচলিত জনবল কাঠামো-২০২১ অনুযায়ী আবেদনকারীর সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর এবং ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল অষ্টম শ্রেণি পাস। তার দাবি, আলমগীর উক্ত নিয়োগে আবেদন করেননি এবং নির্ধারিত যোগ্যতার শর্তও পূরণ করেননি। এরপরও চাকরির দাবি পূরণ না হওয়ায় তিনি বিভিন্নভাবে চাপ, ভয়ভীতি, অপপ্রচার ও ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় ৫ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে নীলফামারীর বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
লিখিত বিবৃতিতে হামিদুর রহমান বলেন, তিনি কখনোই আলমগীরের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণ করেননি এবং চাকরির বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অপরদিকে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও ১০, নং শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জামান পৃথক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কার্যক্রম বিভিন্ন জটিলতার কারণে সম্পন্ন হয়নি। তার দাবি, আলমগীর ওই নিয়োগে আবেদন করেননি এবং নির্ধারিত বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্তও পূরণ করেননি। এরপরও চাকরি না পেয়ে তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, চাকরির বিষয়ে আলমগীরের সঙ্গে তার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি এবং প্রচারিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর।
প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতি উভয়েই প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি যাচাই-বাছাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগে অর্থ লেনদেনের মিথ্যা অভিযোগ: প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতির তীব্র প্রতিবাদ ও সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৪:১৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মোঃরাজু মিয়া সোহাগ,নীলফামারীঃ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপালঝাড় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক ও নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সংবলিত বিভিন্ন পোস্ট ও সংবাদ প্রচারের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমান এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ২০২২–২০২৪ মেয়াদের সাবেক সভাপতি ও ১০,নং শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জামান।
এক লিখিত বিবৃতিতে প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমান দাবি করেন, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি ফেসবুক আইডি ও পেজে তার, বিদ্যালয়ের এবং সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেনের যে অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য, এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে ৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে গোপালঝাড় এলাকার মৃত ফজলার রহমানের ছেলে আলমগীর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে বিদ্যালয়ে দুইজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে গোপনে ব্যাকডেটে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেন, যা তার দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
প্রধান শিক্ষক জানান, ৩১ জুলাই ২০২৩ তারিখে দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকায় অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল।তবে সেই নিয়োগ বিভিন্ন জঠিলতার কারণে সম্পন্ন হয়নি।কিন্তুু সে সময় প্রচলিত জনবল কাঠামো-২০২১ অনুযায়ী আবেদনকারীর সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর এবং ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল অষ্টম শ্রেণি পাস। তার দাবি, আলমগীর উক্ত নিয়োগে আবেদন করেননি এবং নির্ধারিত যোগ্যতার শর্তও পূরণ করেননি। এরপরও চাকরির দাবি পূরণ না হওয়ায় তিনি বিভিন্নভাবে চাপ, ভয়ভীতি, অপপ্রচার ও ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় ৫ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে নীলফামারীর বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
লিখিত বিবৃতিতে হামিদুর রহমান বলেন, তিনি কখনোই আলমগীরের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণ করেননি এবং চাকরির বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অপরদিকে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও ১০, নং শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জামান পৃথক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কার্যক্রম বিভিন্ন জটিলতার কারণে সম্পন্ন হয়নি। তার দাবি, আলমগীর ওই নিয়োগে আবেদন করেননি এবং নির্ধারিত বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্তও পূরণ করেননি। এরপরও চাকরি না পেয়ে তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, চাকরির বিষয়ে আলমগীরের সঙ্গে তার কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি এবং প্রচারিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর।
প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতি উভয়েই প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি যাচাই-বাছাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।