০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবননগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলা: নারীসহ একই পরিবারের ৪ জন আহত, থানায় মামলা

​মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

​চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় দুই নারীসহ একই পরিবারের অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটার অবাধ ব্যবহারে রক্তাক্ত ওই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির পক্ষ থেকে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

​গত শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার হাসাদা ইউনিয়নের পনেরসতী গ্রামের রাজেনের বাড়ির সামনে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

​হামলার শিকার হয়ে বর্তমানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন একই পরিবারের চার সদস্য:
​আব্দুল খালেক
​মোছাঃ সায়রা বেগম (আব্দুল খালেকের স্ত্রী)
​মোঃ তুষার ইমরান (আব্দুল খালেকের ছেলে)
​মোছাঃ সোনিয়া খাতুন (আব্দুল খালেকের মেয়ে)
​এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় ওই পরিবারের পক্ষ নিতে যাওয়া আরও কয়েকজন নারীও প্রতিপক্ষের সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ির কাজের সূত্রে বাইরে থাকা সায়রা বেগম কাজ শেষে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। তিনি পনেরসতী গ্রামের রাজেনের বাড়ির সামনে পৌঁছামাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষরা পূর্ব শত্রুতার জেরে তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়।

​হবি মালিতা ও তার সহযোগীরা রামদা, হাতুড়ি, লোহার রড, দা, শাবল ও লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সায়রা বেগমকে বেধড়ক মারধর ও জখম করে। সায়রা বেগমের আর্তচিৎকারে তার স্বামী আব্দুল খালেক, ছেলে তুষার ইমরান এবং মেয়ে সোনিয়া খাতুন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন।

​এতে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাদের পরিবারের ওপর চড়াও হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপ ও এলোপাতাড়ি পিটুনিতে পরিবারের চার সদস্যই গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা আব্দুল খালেকের পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ও নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ সোনিয়া খাতুন বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার জীবননগর থানায় চারজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযুক্ত আসামিরা হলেন:
​হবি মালিতা (৫০) – পিতা: মৃত ইসাহাক মালিতা (গ্রাম: পনেরসতী, হাসাদা ইউনিয়ন)
​সুজন মালিতা (২৬) – পিতা: হবি মালিতা
​সবুজ মালিতা (২২) – পিতা: হবি মালিতা
​মোছাঃ সুরজিনা বেগম (৪০) – স্বামী: হবি মালিতা (পিতা: মোঃ আমজাদ)

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জীবননগর থানার ইন্সপেক্টর ওসি (অপারেশনস্) অনুপ দাস জানান, “পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী সোনিয়া খাতুন বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার চারজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। তবে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

​নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের স্বার্থে নিরীহ পরিবারের ওপর এমন পৈশাচিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অবিলম্বে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে সাহস না পায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

জীবননগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলা: নারীসহ একই পরিবারের ৪ জন আহত, থানায় মামলা

Update Time : ০৫:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

​মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

​চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় দুই নারীসহ একই পরিবারের অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটার অবাধ ব্যবহারে রক্তাক্ত ওই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির পক্ষ থেকে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

​গত শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার হাসাদা ইউনিয়নের পনেরসতী গ্রামের রাজেনের বাড়ির সামনে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

​হামলার শিকার হয়ে বর্তমানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন একই পরিবারের চার সদস্য:
​আব্দুল খালেক
​মোছাঃ সায়রা বেগম (আব্দুল খালেকের স্ত্রী)
​মোঃ তুষার ইমরান (আব্দুল খালেকের ছেলে)
​মোছাঃ সোনিয়া খাতুন (আব্দুল খালেকের মেয়ে)
​এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় ওই পরিবারের পক্ষ নিতে যাওয়া আরও কয়েকজন নারীও প্রতিপক্ষের সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ির কাজের সূত্রে বাইরে থাকা সায়রা বেগম কাজ শেষে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। তিনি পনেরসতী গ্রামের রাজেনের বাড়ির সামনে পৌঁছামাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষরা পূর্ব শত্রুতার জেরে তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়।

​হবি মালিতা ও তার সহযোগীরা রামদা, হাতুড়ি, লোহার রড, দা, শাবল ও লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সায়রা বেগমকে বেধড়ক মারধর ও জখম করে। সায়রা বেগমের আর্তচিৎকারে তার স্বামী আব্দুল খালেক, ছেলে তুষার ইমরান এবং মেয়ে সোনিয়া খাতুন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন।

​এতে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাদের পরিবারের ওপর চড়াও হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপ ও এলোপাতাড়ি পিটুনিতে পরিবারের চার সদস্যই গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা আব্দুল খালেকের পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ও নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ সোনিয়া খাতুন বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার জীবননগর থানায় চারজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযুক্ত আসামিরা হলেন:
​হবি মালিতা (৫০) – পিতা: মৃত ইসাহাক মালিতা (গ্রাম: পনেরসতী, হাসাদা ইউনিয়ন)
​সুজন মালিতা (২৬) – পিতা: হবি মালিতা
​সবুজ মালিতা (২২) – পিতা: হবি মালিতা
​মোছাঃ সুরজিনা বেগম (৪০) – স্বামী: হবি মালিতা (পিতা: মোঃ আমজাদ)

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জীবননগর থানার ইন্সপেক্টর ওসি (অপারেশনস্) অনুপ দাস জানান, “পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী সোনিয়া খাতুন বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার চারজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। তবে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

​নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের স্বার্থে নিরীহ পরিবারের ওপর এমন পৈশাচিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অবিলম্বে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে সাহস না পায়।