১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্সে কোস্ট গার্ড, অভিযান অব্যাহত

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

ছয় মাসে ৩,৪৮৫ টহল, ১১২ অভিযান; সর্বশেষ অভিযানে ১৬ নৌযানসহ ৪১ জন আটক
চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি, পাইরেসি, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতিতে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গরে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বহিঃনোঙরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে মাদক, অস্ত্র, চোরাচালান, মানবপাচার, ছিঁচকে চুরি ও পাইরেসি প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে বহিঃনোঙরে চুরি ও পাইরেসির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ৩ জাহাজে লুট’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে কোস্ট গার্ডের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সংবাদে উল্লেখিত তিনটি জাহাজের মধ্যে দুইটির ঘটনায় কোস্ট গার্ডকে অবহিত করার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে কোনো মালামাল চুরি হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষ কোস্ট গার্ডকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) এবং লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন প্রদান করেছে। তাই ওই জাহাজ থেকে মূল্যবান সরঞ্জাম লুটের দাবি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
অন্য একটি জাহাজের ঘটনায় চুরির সময় কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়নি। প্রায় ৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর শিপিং এজেন্ট বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে বোর্ডিং টিম পাঠিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে। কোস্ট গার্ড জানায়, বন্দর কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী জাহাজটিতে নিবন্ধিত ওয়াচম্যান থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোনো অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োজিত ছিল না, যা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কোস্ট গার্ড বলেছে, দেশের সামুদ্রিক খাতের ভাবমূর্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ছয় মাসে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন চট্টগ্রাম বহিঃনোঙর এলাকায় ৩ হাজার ৪৮৫টি টহল এবং ১১২টি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন অবৈধ মালামাল জব্দের পাশাপাশি ৩৪ জন চোরাচালানকারী ও ছিঁচকে চোরকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া মৎস্য আহরণের আড়ালে কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে বহিঃনোঙরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটিত হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব অপরাধ দমনে গত রাতেও বিসিজি আউটপোস্ট পতেঙ্গা বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬টি নৌযানসহ ৪১ জনকে আটক করেছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোস্ট গার্ডের জনবল ও প্রয়োজনীয় বোট-সরঞ্জামে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও বর্তমান সরকারের উদ্যোগে বাহিনীতে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজন এবং জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আভিযানিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চট্টগ্রাম বহিঃনোঙরে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্সে কোস্ট গার্ড, অভিযান অব্যাহত

Update Time : ০৫:২৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

ছয় মাসে ৩,৪৮৫ টহল, ১১২ অভিযান; সর্বশেষ অভিযানে ১৬ নৌযানসহ ৪১ জন আটক
চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি, পাইরেসি, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতিতে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গরে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বহিঃনোঙরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে মাদক, অস্ত্র, চোরাচালান, মানবপাচার, ছিঁচকে চুরি ও পাইরেসি প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে বহিঃনোঙরে চুরি ও পাইরেসির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে ৩ জাহাজে লুট’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে কোস্ট গার্ডের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সংবাদে উল্লেখিত তিনটি জাহাজের মধ্যে দুইটির ঘটনায় কোস্ট গার্ডকে অবহিত করার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতে কোনো মালামাল চুরি হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষ কোস্ট গার্ডকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) এবং লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন প্রদান করেছে। তাই ওই জাহাজ থেকে মূল্যবান সরঞ্জাম লুটের দাবি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
অন্য একটি জাহাজের ঘটনায় চুরির সময় কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়নি। প্রায় ৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর শিপিং এজেন্ট বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে বোর্ডিং টিম পাঠিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে। কোস্ট গার্ড জানায়, বন্দর কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী জাহাজটিতে নিবন্ধিত ওয়াচম্যান থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোনো অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োজিত ছিল না, যা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কোস্ট গার্ড বলেছে, দেশের সামুদ্রিক খাতের ভাবমূর্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ছয় মাসে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন চট্টগ্রাম বহিঃনোঙর এলাকায় ৩ হাজার ৪৮৫টি টহল এবং ১১২টি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন অবৈধ মালামাল জব্দের পাশাপাশি ৩৪ জন চোরাচালানকারী ও ছিঁচকে চোরকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া মৎস্য আহরণের আড়ালে কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে বহিঃনোঙরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটিত হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব অপরাধ দমনে গত রাতেও বিসিজি আউটপোস্ট পতেঙ্গা বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬টি নৌযানসহ ৪১ জনকে আটক করেছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোস্ট গার্ডের জনবল ও প্রয়োজনীয় বোট-সরঞ্জামে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও বর্তমান সরকারের উদ্যোগে বাহিনীতে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজন এবং জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আভিযানিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।