০৯:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সার্জারি সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন, রোগীদের আস্থা বাড়াচ্ছেন ডা. এম. এ. আওয়াল (সোহেল)

 

এম আর সজিব,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। নিয়মিত অস্ত্রোপচার, দ্রুত রোগী মূল্যায়ন এবং সরকারি হাসপাতালেই জটিল সার্জারি সম্পন্ন হওয়ার ফলে জেলার মানুষের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা বাড়ছে বলে তারা দাবি করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এম. এ. আওয়াল (সোহেল) দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এবং এফসিপিএস (সার্জারি) ডিগ্রিধারী একজন জেনারেল, ল্যাপারোস্কোপিক ও কোলোরেক্টাল সার্জন। অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পিত্তথলির পাথর, হার্নিয়া, পাইলস, ফিসার, ফিস্টুলা, বৃহদন্ত্র ও মলদ্বারের বিভিন্ন রোগ, টিউমার এবং ক্যান্সারসহ নানা ধরনের অস্ত্রোপচারে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৪ জুলাই জামালগঞ্জ উপজেলার হুগলী গ্রামের বাসিন্দা ফজলু মিয়া (২৪) তীব্র অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নিয়ে সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন সকালে ওয়ার্ড রাউন্ডে রোগীদের মূল্যায়নের পর ডা. সোহেল প্রায় ১০ থেকে ১২ জন রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করেন। পরে একই দিন ধারাবাহিকভাবে তাদের অপারেশন সম্পন্ন করে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
রোগীদের স্বজনরা জানান, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে সার্জারির জন্য রোগীদের সিলেটে রেফার করা হতো। বর্তমানে সদর হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থব্যয়, সময়ক্ষেপণ এবং যাতায়াতের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষজ্ঞ সার্জনের নিয়মিত উপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময়ে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন স্বজন সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন-এর কাছেও একই ধরনের সন্তুষ্টির কথা তুলে ধরেন। তাদের মতে, জেলায় দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় জনবল এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে রোগী রেফারের হার আরও কমবে এবং দরিদ্র মানুষ নিজ জেলাতেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।
এছাড়া রোগী ও স্বজনদের দাবি, ডা. এম. এ. আওয়াল (সোহেল)-এর সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী সার্জারি বিভাগের অন্যান্য চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিয়া টিম, নার্স ও অপারেশন থিয়েটারের সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও সমন্বিতভাবে কাজ করায় চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হয়েছে এবং রোগীদের আস্থা বেড়েছে।

তবে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অপারেশনের সংখ্যা কতটা বেড়েছে, সিলেটে রেফারের হার কতটা কমেছে কিংবা সেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। ফলে রোগী ও স্বজনদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও, এ বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য সরকারি তথ্য, নিয়মিত পরিসংখ্যান এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সার্জারি সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন, রোগীদের আস্থা বাড়াচ্ছেন ডা. এম. এ. আওয়াল (সোহেল)

Update Time : ০৪:৪৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

এম আর সজিব,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। নিয়মিত অস্ত্রোপচার, দ্রুত রোগী মূল্যায়ন এবং সরকারি হাসপাতালেই জটিল সার্জারি সম্পন্ন হওয়ার ফলে জেলার মানুষের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা বাড়ছে বলে তারা দাবি করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এম. এ. আওয়াল (সোহেল) দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এবং এফসিপিএস (সার্জারি) ডিগ্রিধারী একজন জেনারেল, ল্যাপারোস্কোপিক ও কোলোরেক্টাল সার্জন। অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পিত্তথলির পাথর, হার্নিয়া, পাইলস, ফিসার, ফিস্টুলা, বৃহদন্ত্র ও মলদ্বারের বিভিন্ন রোগ, টিউমার এবং ক্যান্সারসহ নানা ধরনের অস্ত্রোপচারে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৪ জুলাই জামালগঞ্জ উপজেলার হুগলী গ্রামের বাসিন্দা ফজলু মিয়া (২৪) তীব্র অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নিয়ে সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন সকালে ওয়ার্ড রাউন্ডে রোগীদের মূল্যায়নের পর ডা. সোহেল প্রায় ১০ থেকে ১২ জন রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করেন। পরে একই দিন ধারাবাহিকভাবে তাদের অপারেশন সম্পন্ন করে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
রোগীদের স্বজনরা জানান, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে সার্জারির জন্য রোগীদের সিলেটে রেফার করা হতো। বর্তমানে সদর হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থব্যয়, সময়ক্ষেপণ এবং যাতায়াতের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষজ্ঞ সার্জনের নিয়মিত উপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময়ে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন স্বজন সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন-এর কাছেও একই ধরনের সন্তুষ্টির কথা তুলে ধরেন। তাদের মতে, জেলায় দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় জনবল এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে রোগী রেফারের হার আরও কমবে এবং দরিদ্র মানুষ নিজ জেলাতেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।
এছাড়া রোগী ও স্বজনদের দাবি, ডা. এম. এ. আওয়াল (সোহেল)-এর সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী সার্জারি বিভাগের অন্যান্য চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিয়া টিম, নার্স ও অপারেশন থিয়েটারের সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও সমন্বিতভাবে কাজ করায় চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হয়েছে এবং রোগীদের আস্থা বেড়েছে।

তবে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অপারেশনের সংখ্যা কতটা বেড়েছে, সিলেটে রেফারের হার কতটা কমেছে কিংবা সেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। ফলে রোগী ও স্বজনদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও, এ বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য সরকারি তথ্য, নিয়মিত পরিসংখ্যান এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।