
আশরাফুল আলম সরকার
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়কে একটি ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের একাধিক ইউপি সদস্য। তাদের বক্তব্য, ভিডিওতে কোনো ধরনের টাকা লেনদেনের প্রমাণ নেই এবং বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়কে নিয়ে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে অনেকেই বলছেন, সেখানে সরাসরি টাকা গ্রহণ বা লেনদেনের কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।
দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা জানান, বাবুল চন্দ্র রায় প্রায় ছয় মাস আগে দেবীগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে আসছেন। কোনো প্রকল্পের অর্থ ছাড়ার আগে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে কাজের মান, পরিমাপ ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করেন।
দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, পিআইও অফিসের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি আমি দেখেছি। সেখানে পিআইওকে কোনো টাকা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। কেউ হয়তো নিজের টাকা গুনে ভিডিও ধারণ করে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। আমি নিজেও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ করেছি, কিন্তু কোনো সময় পিআইও আমার কাছে টাকা দাবি করেননি।
সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ভরত চন্দ্র রায় বলেন, আমি যেসব প্রকল্পের কাজ করেছি, সেগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন করেছি। কোনো প্রকল্পেই আমার কাছে টাকা চাওয়া হয়নি। ভিডিওতে টাকা গুনতে দেখা গেলেও সেই টাকা পিআইও গ্রহণ করেছেন এমন কোনো দৃশ্য নেই। আমরা তাকে টাকা নিতে দেখিনি।
১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি আমি দেখেছি। তবে সেখানে টাকা লেনদেনের কোনো বিষয় চোখে পড়েনি। প্রকল্পের কাজের সময় সাধারণত স্টেটমেন্ট, প্লেট ও স্ট্যাম্প বাবদ কিছু খরচ দিতে হয়। আমার কাছে মনে হয়েছে, পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়কে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে কোনো টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি। আমি ক্যালকুলেটরে ভ্যাট-ট্যাক্সের হিসাব করছিলাম। কারও কাছ থেকে কোনো টাকা গ্রহণ করিনি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে যে আমি টাকা নিয়েছি, তাহলে তা দেখাক। মূলত দুইজন ইউপি সদস্য ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ ভিডিও ধারণ ও প্রচার করেছে।
এদিকে, ভাইরাল ভিডিও প্রকাশের পর পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়কে বদলি করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্তও সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয় কয়েকজন ইউপি সদস্যের দাবি, ভিডিওতে কোনো টাকা গ্রহণের দৃশ্য না থাকায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 



















