০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমডিএ’র হাল ধরলেন মোতাহার হোসেন তালুকদার; মূল চ্যালেঞ্জ যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন

 

​মামুনুর রশীদ মামুন,ময়মনসিংহ:
ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠ ও সংস্কৃতির রাজধানীখ্যাত বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (এমডিএ)-এর নতুন চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মোতাহার হোসেন তালুকদারকে। গত ১১ জুন (বুধবার) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে আগামী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। ​এই নিয়োগের মাধ্যমে ময়মনসিংহের সামগ্রিক নগর উন্নয়ন, টেকসই পরিকল্পনা ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধিতে এক নতুন দূরদর্শী নেতৃত্বের সূচনা হলো। দীর্ঘ সময় ধরে ময়মনসিংহের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কাজ করার সুবাদে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এই নিয়োগ ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ​অভিজ্ঞতার আলোকে নাগরিক সংকট ও বাস্তবতা: সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করছেন, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহের ভূ-প্রকৃতি, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং নাগরিক সংকটগুলো নিয়ে কাজ করায় শহরের বাস্তব সমস্যাগুলো তার নখদর্পণে। বিভাগীয় শহর হওয়ার পর থেকে ময়মনসিংহের ওপর যে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামলাতে বেশ কিছু পুঞ্জীভূত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখন সময়ের দাবি। ​উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে মূলত তিনটি প্রধান সংকটের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে: ​তীব্র যানজট নিরসন: শহরের কেন্দ্রস্থল ও প্রবেশদ্বারগুলোতে সৃষ্ট তীব্র যানজট দূর করতে বাইপাস সড়ক, ফ্লাইওভার এবং বিকল্প যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
​আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা মুক্তি: অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংকট দূর করে বর্ষাকালীন কৃত্রিম বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান। ​আবাসিক পরিকল্পনা ও সবুজায়ন: কৃষিজমি ও জলাশয় রক্ষা করে সুপরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ‘গ্রিন সিটি’ বা সবুজায়ন প্রকল্প জোরদার করা।
​“লক্ষ্য—আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী”: নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান–
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন—
​”ময়মনসিংহকে একটি আধুনিক, সম্পূর্ণ বাসযোগ্য এবং সুপরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রধানতম লক্ষ্য। এমডিএ-কে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং শতভাগ জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে আমি নগরবাসী, প্রশাসন ও সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
​মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন ও এমডিএ’র ভবিষ্যৎ: ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এমডিএ) হলো এই অঞ্চলের নগরায়ণ, মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ভূমি ব্যবহারের যৌক্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক-সেতুসহ বড় ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক প্রতিষ্ঠান। ​নগরায়ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতদিন ধরে আবাসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার যে ধীরগতি ছিল, নতুন দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে তা কেটে যাবে। মোতাহার হোসেন তালুকদারের গতিশীল নেতৃত্বে থমকে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত গতি পাবে এবং ময়মনসিংহ একটি আদর্শ মডেল বিভাগীয় শহর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সাধারণ নগরবাসীর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

এমডিএ’র হাল ধরলেন মোতাহার হোসেন তালুকদার; মূল চ্যালেঞ্জ যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন

Update Time : ০৪:০২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

 

​মামুনুর রশীদ মামুন,ময়মনসিংহ:
ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠ ও সংস্কৃতির রাজধানীখ্যাত বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (এমডিএ)-এর নতুন চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মোতাহার হোসেন তালুকদারকে। গত ১১ জুন (বুধবার) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে আগামী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। ​এই নিয়োগের মাধ্যমে ময়মনসিংহের সামগ্রিক নগর উন্নয়ন, টেকসই পরিকল্পনা ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধিতে এক নতুন দূরদর্শী নেতৃত্বের সূচনা হলো। দীর্ঘ সময় ধরে ময়মনসিংহের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কাজ করার সুবাদে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এই নিয়োগ ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ​অভিজ্ঞতার আলোকে নাগরিক সংকট ও বাস্তবতা: সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করছেন, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহের ভূ-প্রকৃতি, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং নাগরিক সংকটগুলো নিয়ে কাজ করায় শহরের বাস্তব সমস্যাগুলো তার নখদর্পণে। বিভাগীয় শহর হওয়ার পর থেকে ময়মনসিংহের ওপর যে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামলাতে বেশ কিছু পুঞ্জীভূত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখন সময়ের দাবি। ​উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে মূলত তিনটি প্রধান সংকটের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে: ​তীব্র যানজট নিরসন: শহরের কেন্দ্রস্থল ও প্রবেশদ্বারগুলোতে সৃষ্ট তীব্র যানজট দূর করতে বাইপাস সড়ক, ফ্লাইওভার এবং বিকল্প যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
​আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা মুক্তি: অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংকট দূর করে বর্ষাকালীন কৃত্রিম বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান। ​আবাসিক পরিকল্পনা ও সবুজায়ন: কৃষিজমি ও জলাশয় রক্ষা করে সুপরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ‘গ্রিন সিটি’ বা সবুজায়ন প্রকল্প জোরদার করা।
​“লক্ষ্য—আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী”: নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান–
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার নিজের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন—
​”ময়মনসিংহকে একটি আধুনিক, সম্পূর্ণ বাসযোগ্য এবং সুপরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রধানতম লক্ষ্য। এমডিএ-কে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং শতভাগ জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে আমি নগরবাসী, প্রশাসন ও সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
​মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন ও এমডিএ’র ভবিষ্যৎ: ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এমডিএ) হলো এই অঞ্চলের নগরায়ণ, মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ভূমি ব্যবহারের যৌক্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক-সেতুসহ বড় ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক প্রতিষ্ঠান। ​নগরায়ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতদিন ধরে আবাসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার যে ধীরগতি ছিল, নতুন দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে তা কেটে যাবে। মোতাহার হোসেন তালুকদারের গতিশীল নেতৃত্বে থমকে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত গতি পাবে এবং ময়মনসিংহ একটি আদর্শ মডেল বিভাগীয় শহর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সাধারণ নগরবাসীর।