০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভৈরবে মাইক্রোবাসের ভাড়া নিয়ে রণক্ষেত্র:দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাট, এসপির অভিযানে পরিস্থিতি শান্ত

 

​এ.এস.এম হামিদ হাসান
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

​কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের গাড়ি ভাড়া নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক।

সংঘর্ষ চলাকালে মহাসড়ক অবরোধ, দেদারসে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সুপার (এসপি) নিজে সশরীরে মাঠে নামেন এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ভৈরব উপজেলার একটি মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে গাড়ি ভাড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এই সামান্য বিরোধ তীব্র রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। একপক্ষ অপরপক্ষের ওপর অতর্কিত ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

​বিকেলের দিকে উভয় পক্ষের হাজার হাজার মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এতে করে মহাসড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা চরম ভোগান্তিতে ফেলে সাধারণ যাত্রীদের। ​ভাঙচুর ও লুটপাটের তাণ্ডব ​সংঘর্ষ চলাকালীন উগ্র আন্দোলনকারীরা প্রতিপক্ষের বেশ কিছু দোকানপাটে হামলা চালায়। ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি বেশ কিছু দোকানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। পুরো এলাকায় এক থমথমে ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

​​পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) স্বয়ং অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে অ্যাকশনে যায়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ সীমিত পরিসরে টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করে মহাসড়ক থেকে অবরোধকারীদের হটিয়ে দেয়।

​সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে ভৈরব থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

ভৈরবে মাইক্রোবাসের ভাড়া নিয়ে রণক্ষেত্র:দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাট, এসপির অভিযানে পরিস্থিতি শান্ত

Update Time : ০৪:০১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

 

​এ.এস.এম হামিদ হাসান
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

​কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের গাড়ি ভাড়া নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক।

সংঘর্ষ চলাকালে মহাসড়ক অবরোধ, দেদারসে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সুপার (এসপি) নিজে সশরীরে মাঠে নামেন এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ভৈরব উপজেলার একটি মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে গাড়ি ভাড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এই সামান্য বিরোধ তীব্র রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। একপক্ষ অপরপক্ষের ওপর অতর্কিত ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

​বিকেলের দিকে উভয় পক্ষের হাজার হাজার মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এতে করে মহাসড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা চরম ভোগান্তিতে ফেলে সাধারণ যাত্রীদের। ​ভাঙচুর ও লুটপাটের তাণ্ডব ​সংঘর্ষ চলাকালীন উগ্র আন্দোলনকারীরা প্রতিপক্ষের বেশ কিছু দোকানপাটে হামলা চালায়। ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি বেশ কিছু দোকানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। পুরো এলাকায় এক থমথমে ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

​​পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) স্বয়ং অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে অ্যাকশনে যায়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ সীমিত পরিসরে টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করে মহাসড়ক থেকে অবরোধকারীদের হটিয়ে দেয়।

​সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে ভৈরব থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।