০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে লামার বাজারে টেকসই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

 

বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, টেকনাফ: কক্সবাজার

পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের লামার বাজারে বুধবার (১০ জুন) এক গণপরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘টেকসই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর অর্থায়নে, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর কারিগরি সহায়তায় এবং এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের বাস্তবায়নে পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন। সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সরওয়ার হোছাইন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি বেলাল উদ্দিন, জেলে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস, ইউএনডিপি ও এনজিও ফোরামের প্রতিনিধিবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার সাধারণ জনগণ।

কর্মসূচির শুরুতে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্যের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

পরে অংশগ্রহণকারীরা লামার বাজার ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় বাজার এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করা হয়। স্থানীয় জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

টেকনাফে লামার বাজারে টেকসই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

Update Time : ০৪:২২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

 

বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, টেকনাফ: কক্সবাজার

পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের লামার বাজারে বুধবার (১০ জুন) এক গণপরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘টেকসই কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর অর্থায়নে, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর কারিগরি সহায়তায় এবং এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের বাস্তবায়নে পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন। সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সরওয়ার হোছাইন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি বেলাল উদ্দিন, জেলে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস, ইউএনডিপি ও এনজিও ফোরামের প্রতিনিধিবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার সাধারণ জনগণ।

কর্মসূচির শুরুতে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্যের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

পরে অংশগ্রহণকারীরা লামার বাজার ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় বাজার এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করা হয়। স্থানীয় জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।