০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ী মডেল থানায় নেই লাশবাহী গাড়ি, মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর বাড়ছে স্বজনদের দুর্ভোগ

 

উৎপল কুমার সরকার,
ব্যুরো চিফ,রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় নিজস্ব লাশবাহী গাড়ি ও মরদেহ সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজন, স্থানীয় জনগণ এবং পুলিশ প্রশাসন। বিশেষ করে চাপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কে ঘনঘন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও মরদেহ দ্রুত স্থানান্তরের ব্যবস্থা না থাকায় মানবিক ও প্রশাসনিক সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলার ওপর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়ক অতিক্রম করায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ কিংবা স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যানবাহনের অভাবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্স চালকরা মরদেহ বহনে অনীহা প্রকাশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনায় স্বজন হারানোর শোকের মধ্যেই মরদেহ পরিবহনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় দ্বিগুণ বা তিনগুণ ভাড়া দিয়েও সময়মতো গাড়ি পাওয়া যায় না। একটি মডেল থানায় এমন মৌলিক সেবার অভাব অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, থানায় নিজস্ব কোনো লাশবাহী গাড়ি কিংবা মরদেহ সংরক্ষণের নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় পুলিশকে নানা বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো কিংবা স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত মরদেহ মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে গরমের সময়ে দীর্ঘক্ষণ মরদেহ পড়ে থাকলে তা বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে দ্রুত যানবাহনের ব্যবস্থা না হওয়ায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
ওসি জানান, বেসরকারি যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে প্রায়ই প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়। অনেক চালক দুর্ঘটনায় নিহত রক্তাক্ত মরদেহ বহনে অস্বীকৃতি জানান, ফলে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। এতে একদিকে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, অন্যদিকে নিহতের স্বজনদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।
সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পরিষদ এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি লাশবাহী ভ্যানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বিষয়টিকে অত্যন্ত মানবিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষের শেষ বিদায় অন্তত সম্মানজনক ও ভোগান্তিমুক্ত হওয়া উচিত।
সচেতন মহল ও এলাকাবাসী রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত একটি স্থায়ী লাশবাহী গাড়ি বা ফ্রিজার ভ্যানের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং মানবিক সেবার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

গোদাগাড়ী মডেল থানায় নেই লাশবাহী গাড়ি, মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর বাড়ছে স্বজনদের দুর্ভোগ

Update Time : ০৪:৫০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

 

উৎপল কুমার সরকার,
ব্যুরো চিফ,রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় নিজস্ব লাশবাহী গাড়ি ও মরদেহ সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজন, স্থানীয় জনগণ এবং পুলিশ প্রশাসন। বিশেষ করে চাপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কে ঘনঘন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও মরদেহ দ্রুত স্থানান্তরের ব্যবস্থা না থাকায় মানবিক ও প্রশাসনিক সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলার ওপর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়ক অতিক্রম করায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ কিংবা স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যানবাহনের অভাবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্স চালকরা মরদেহ বহনে অনীহা প্রকাশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনায় স্বজন হারানোর শোকের মধ্যেই মরদেহ পরিবহনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় দ্বিগুণ বা তিনগুণ ভাড়া দিয়েও সময়মতো গাড়ি পাওয়া যায় না। একটি মডেল থানায় এমন মৌলিক সেবার অভাব অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, থানায় নিজস্ব কোনো লাশবাহী গাড়ি কিংবা মরদেহ সংরক্ষণের নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় পুলিশকে নানা বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো কিংবা স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত মরদেহ মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে গরমের সময়ে দীর্ঘক্ষণ মরদেহ পড়ে থাকলে তা বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে দ্রুত যানবাহনের ব্যবস্থা না হওয়ায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
ওসি জানান, বেসরকারি যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে প্রায়ই প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়। অনেক চালক দুর্ঘটনায় নিহত রক্তাক্ত মরদেহ বহনে অস্বীকৃতি জানান, ফলে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। এতে একদিকে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, অন্যদিকে নিহতের স্বজনদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।
সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পরিষদ এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি লাশবাহী ভ্যানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বিষয়টিকে অত্যন্ত মানবিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষের শেষ বিদায় অন্তত সম্মানজনক ও ভোগান্তিমুক্ত হওয়া উচিত।
সচেতন মহল ও এলাকাবাসী রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত একটি স্থায়ী লাশবাহী গাড়ি বা ফ্রিজার ভ্যানের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং মানবিক সেবার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।