১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই দফা পতাকা বৈঠকের পরেও সমাধান মেলেনি পুশইনের শিকার ১১ জনের

 

জাহাঙ্গীর আলম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার ১১ জনের ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত। প্রায় ৪২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠকের পরেও কোনো সমাধান মেলেনি।

জানা যায়, ৫ জুন (শুক্রবার) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে ওই পুশইন প্রতিহত করলে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখার কাছে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই তীব্র তাপদাহে রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন তারা।

এদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৪ জন শিশুসহ এক গর্ভবতী নারী রয়েছেন। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবে পরিস্থিতি ক্রমশই সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।

পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের গত মাসের ২৬ মে আটক করে । আটকের পর প্রায় ১২ দিন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে ছেড়ে দেয়।

স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের জমির আইলে বসে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মানবিক কারণে আশপাশের গ্রামবাসীরা শুকনো খাবার ও পানি পৌঁছে দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। ভারত সরকারের অবৈধ ‘পুশইন’-এর শিকার হয়ে জীবনের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন এই অসহায় মানুষেরা। তীব্র তাপপ্রবাহের মাঝে, খোলা আকাশের নিচে একই জায়গায় কেটে গেছে দীর্ঘ ৪২টি ঘণ্টা। জল-খাবারের তীব্র সংকট আর প্রকৃতির রুদ্ররূপের সামনে দাঁড়িয়ে তারা আজ দিশেহারা। দীর্ঘ সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে আটকে থাকায় শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসুস্থতার লক্ষণও দেখা দিয়েছে।

দিনাজপুর (৪২) বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ প্রমাণসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হস্তান্তর করা হলে আমরা গ্রহণ করব। তা না হলে কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন গ্রহণ করা হবে না।এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

দুই দফা পতাকা বৈঠকের পরেও সমাধান মেলেনি পুশইনের শিকার ১১ জনের

Update Time : ০৪:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

 

জাহাঙ্গীর আলম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার ১১ জনের ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত। প্রায় ৪২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠকের পরেও কোনো সমাধান মেলেনি।

জানা যায়, ৫ জুন (শুক্রবার) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে ওই পুশইন প্রতিহত করলে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখার কাছে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই তীব্র তাপদাহে রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন তারা।

এদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৪ জন শিশুসহ এক গর্ভবতী নারী রয়েছেন। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবে পরিস্থিতি ক্রমশই সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।

পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের গত মাসের ২৬ মে আটক করে । আটকের পর প্রায় ১২ দিন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে ছেড়ে দেয়।

স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের জমির আইলে বসে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মানবিক কারণে আশপাশের গ্রামবাসীরা শুকনো খাবার ও পানি পৌঁছে দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। ভারত সরকারের অবৈধ ‘পুশইন’-এর শিকার হয়ে জীবনের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন এই অসহায় মানুষেরা। তীব্র তাপপ্রবাহের মাঝে, খোলা আকাশের নিচে একই জায়গায় কেটে গেছে দীর্ঘ ৪২টি ঘণ্টা। জল-খাবারের তীব্র সংকট আর প্রকৃতির রুদ্ররূপের সামনে দাঁড়িয়ে তারা আজ দিশেহারা। দীর্ঘ সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে আটকে থাকায় শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসুস্থতার লক্ষণও দেখা দিয়েছে।

দিনাজপুর (৪২) বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ প্রমাণসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হস্তান্তর করা হলে আমরা গ্রহণ করব। তা না হলে কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন গ্রহণ করা হবে না।এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।