১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিয়াকৈরে যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধুকে হত্যার হুমকি

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাবার কাছ থেকে নেওয়া যৌতুকের ১৮ লাখ টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী ও তার ননদের জামাই এর বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি এবং বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ এনে শুক্রবার রাতে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী স্ত্রী মৌসুমী আক্তার । অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,প্রায় ১৩ বছর আগে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর গ্রামের মোঃ সেলিম হোসেন (৩৫), পিতা-মোঃআলাল সিকদার, মৌসুমী আক্তারকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১২ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,বিয়ের পর বিদেশে যাওয়ার সময় সেলিম হোসেন অভিযোগকারীর বাবার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে প্রায় দুই বছর আগে কালিয়াকৈর উপজেলার মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় স্বামীর অংশে প্রাপ্ত ৫ শতাংশ জমির ওপর অভিযোগকারীর বাবার দেওয়া আরও ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট একটি আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। বাবার অর্থে নির্মিত বাড়ির একটি কক্ষে কন্যা সন্তান সহ দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছেন বাদী মৌসুমী আক্তার। সেই সাথে ঐ বাড়ির বাকী চারটি কক্ষ ভাড়া দিয়ে মেয়েকে নিয়ে প্রাপ্ত ভাড়ার টাকায় জীবিকা নির্বাহ করছেন মৌসুমী আক্তার।অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বামীর বোনজামাই মোঃ ফারুক হোসেন (৪১), পিতা-মৃত আফাজ উদ্দিন, সাং-টান, কালিয়াকৈরের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা দায়ের করেছিলেন তিনি। ওই মামলায় ফারুক হোসেন কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন।
মৌসুমী আক্তারের দাবি, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মৌসুমীর ননদের স্বামী ফারুক হোসেন এর কুপ্ররোচনায় স্বামী সেলিম হোসেন তাদের ভরণপোষণ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে স্বামী সেলিম হোসেন বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন। এরপর ফারুক হোসেনের মাধ্যমে তার কাছে আরো ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ায় অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে,গত ৪ জুন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে স্বামী সেলিম হোসেন ও ননদের স্বামী ফারুক হোসেন এর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাদী মৌসুমিকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ নানা রকম ভয়-ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করেন । এসময় অভিযোগকারী বাবার পাওনা ১৮ লাখ টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা টাকা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে বাড়ি না ছাড়লে তাকে ও তার নাবালিকা মেয়েকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম মৌসুমী কর্তৃক অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

কালিয়াকৈরে যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধুকে হত্যার হুমকি

Update Time : ০৩:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাবার কাছ থেকে নেওয়া যৌতুকের ১৮ লাখ টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী ও তার ননদের জামাই এর বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি এবং বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ এনে শুক্রবার রাতে কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী স্ত্রী মৌসুমী আক্তার । অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,প্রায় ১৩ বছর আগে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর গ্রামের মোঃ সেলিম হোসেন (৩৫), পিতা-মোঃআলাল সিকদার, মৌসুমী আক্তারকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১২ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,বিয়ের পর বিদেশে যাওয়ার সময় সেলিম হোসেন অভিযোগকারীর বাবার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে প্রায় দুই বছর আগে কালিয়াকৈর উপজেলার মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় স্বামীর অংশে প্রাপ্ত ৫ শতাংশ জমির ওপর অভিযোগকারীর বাবার দেওয়া আরও ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট একটি আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। বাবার অর্থে নির্মিত বাড়ির একটি কক্ষে কন্যা সন্তান সহ দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছেন বাদী মৌসুমী আক্তার। সেই সাথে ঐ বাড়ির বাকী চারটি কক্ষ ভাড়া দিয়ে মেয়েকে নিয়ে প্রাপ্ত ভাড়ার টাকায় জীবিকা নির্বাহ করছেন মৌসুমী আক্তার।অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বামীর বোনজামাই মোঃ ফারুক হোসেন (৪১), পিতা-মৃত আফাজ উদ্দিন, সাং-টান, কালিয়াকৈরের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা দায়ের করেছিলেন তিনি। ওই মামলায় ফারুক হোসেন কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন।
মৌসুমী আক্তারের দাবি, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মৌসুমীর ননদের স্বামী ফারুক হোসেন এর কুপ্ররোচনায় স্বামী সেলিম হোসেন তাদের ভরণপোষণ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে স্বামী সেলিম হোসেন বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন। এরপর ফারুক হোসেনের মাধ্যমে তার কাছে আরো ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ায় অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে,গত ৪ জুন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে স্বামী সেলিম হোসেন ও ননদের স্বামী ফারুক হোসেন এর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাদী মৌসুমিকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ নানা রকম ভয়-ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করেন । এসময় অভিযোগকারী বাবার পাওনা ১৮ লাখ টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা টাকা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে বাড়ি না ছাড়লে তাকে ও তার নাবালিকা মেয়েকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম মৌসুমী কর্তৃক অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।