০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীন সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সুযোগের পাশাপাশি বেড়েছে ভুয়া তথ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের চ্যালেঞ্জ

 

মোঃ মাহবুব আলম

স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা এবং তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্বাধীন গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্র, সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং জনগণের কাছে সত্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কারণে সাংবাদিকতাকে গণতন্ত্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বলা হয়।

বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ সংবাদ পরিবেশনের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। ভুয়া তথ্য, গুজব, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় সত্য তথ্য আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন গণমাধ্যম বিশ্লেষকেরা।

গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীন সাংবাদিকতা জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে। সরকার বা ক্ষমতাসীনদের ভুল সিদ্ধান্ত, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনসমক্ষে আসে। এর ফলে জনগণ সচেতন হয় এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

তবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকরা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। রাজনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি অনেক ক্ষেত্রে তাদের পেশাগত স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং জনগণের জানার অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য যাচাই, বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি। পক্ষপাতদুষ্ট বা যাচাইবিহীন সংবাদ পরিবেশন গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। তাই স্বাধীনতা ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশ অপরিহার্য। এজন্য সংবাদমাধ্যমকে ভয় ও চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিক মান উন্নয়নের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ নির্ভরযোগ্য ও সত্য তথ্যের অবাধ প্রবাহই একটি কার্যকর ও সুসংহত গণতন্ত্রের ভিত্তি।

স্বাধীন সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি জনগণের অধিকার রক্ষা, রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তাই গণতন্ত্রের স্বার্থেই স্বাধীন সাংবাদিকতার সুরক্ষা ও বিকাশ আজ সময়ের দাবি।

লেখক: মোঃ মাহবুব আলম
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক খোলা বাজার
সভাপতি, সেন্ট্রাল মাল্টিমিডিয়া ইউনিট, ডিজিটাল ফিউচার মিডিয়া লিমিটেড

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

স্বাধীন সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সুযোগের পাশাপাশি বেড়েছে ভুয়া তথ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের চ্যালেঞ্জ

Update Time : ০৪:১৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

 

মোঃ মাহবুব আলম

স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা এবং তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্বাধীন গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্র, সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং জনগণের কাছে সত্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কারণে সাংবাদিকতাকে গণতন্ত্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বলা হয়।

বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ সংবাদ পরিবেশনের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। ভুয়া তথ্য, গুজব, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় সত্য তথ্য আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন গণমাধ্যম বিশ্লেষকেরা।

গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাধীন সাংবাদিকতা জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে। সরকার বা ক্ষমতাসীনদের ভুল সিদ্ধান্ত, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনসমক্ষে আসে। এর ফলে জনগণ সচেতন হয় এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

তবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকরা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। রাজনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি অনেক ক্ষেত্রে তাদের পেশাগত স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং জনগণের জানার অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য যাচাই, বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি। পক্ষপাতদুষ্ট বা যাচাইবিহীন সংবাদ পরিবেশন গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। তাই স্বাধীনতা ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশ অপরিহার্য। এজন্য সংবাদমাধ্যমকে ভয় ও চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিক মান উন্নয়নের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ নির্ভরযোগ্য ও সত্য তথ্যের অবাধ প্রবাহই একটি কার্যকর ও সুসংহত গণতন্ত্রের ভিত্তি।

স্বাধীন সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি জনগণের অধিকার রক্ষা, রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তাই গণতন্ত্রের স্বার্থেই স্বাধীন সাংবাদিকতার সুরক্ষা ও বিকাশ আজ সময়ের দাবি।

লেখক: মোঃ মাহবুব আলম
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক খোলা বাজার
সভাপতি, সেন্ট্রাল মাল্টিমিডিয়া ইউনিট, ডিজিটাল ফিউচার মিডিয়া লিমিটেড