০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: এক ডজন মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

​চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে এক ডজন (১২টি) মামলার এজাহারভুক্ত দুর্ধর্ষ আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরের দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে জীবননগর থানা পুলিশ।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে ও কুখ্যাত ডাকাত সুজাত শেখ (৩৫), একই এলাকার মৃত হবির ছেলে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আব্দুল জলিল (৫৯) এবং জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতাল পাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী রিনা সুলতানা (৪৫)।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) রুহুল কবীর খানের বিশেষ নির্দেশনা ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক চৌকস দল মঙ্গলবার ভোররাত থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে।

​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ডাকাতিসহ এক ডজন মামলার পলাতক আসামি সুজাত শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একই গ্রামের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল জলিল এবং হাসপাতাল পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিনা সুলতানা নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

​পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিশ্চিত করা হয়েছে:
​সুজাত শেখ (৩৫): পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, সুজাত শেখ এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধের অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিল।
​আব্দুল জলিল (৫৯): একটি মামলায় আদালতের মাধ্যমে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে সে দীর্ঘদিন যাবত পলাতক ছিল।
​রিনা সুলতানা (৪৫): ওয়ারেন্টভুক্ত অন্য একটি মামলার আসামি হিসেবে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অপরাধমুক্ত উপজেলা গড়তে তাদের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

​তিনি বলেন:
​”গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোরে সফল অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ৩ আসামিকে আজ দুপুরেই চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

​এলাকার সাধারণ মানুষ পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং চিহ্নিত অপরাধী সুজাত শেখ গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, চুয়াডাঙ্গাকে অপরাধমুক্ত রাখতে পুলিশের এই ধরনের কঠোর অভিযান যেন নিয়মিত চালু থাকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: এক ডজন মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩

Update Time : ০১:১২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

​চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে এক ডজন (১২টি) মামলার এজাহারভুক্ত দুর্ধর্ষ আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরের দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে জীবননগর থানা পুলিশ।

​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে ও কুখ্যাত ডাকাত সুজাত শেখ (৩৫), একই এলাকার মৃত হবির ছেলে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আব্দুল জলিল (৫৯) এবং জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতাল পাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী রিনা সুলতানা (৪৫)।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) রুহুল কবীর খানের বিশেষ নির্দেশনা ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক চৌকস দল মঙ্গলবার ভোররাত থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে।

​গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ডাকাতিসহ এক ডজন মামলার পলাতক আসামি সুজাত শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একই গ্রামের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল জলিল এবং হাসপাতাল পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিনা সুলতানা নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

​পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিশ্চিত করা হয়েছে:
​সুজাত শেখ (৩৫): পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, সুজাত শেখ এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধের অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিল।
​আব্দুল জলিল (৫৯): একটি মামলায় আদালতের মাধ্যমে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে সে দীর্ঘদিন যাবত পলাতক ছিল।
​রিনা সুলতানা (৪৫): ওয়ারেন্টভুক্ত অন্য একটি মামলার আসামি হিসেবে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অপরাধমুক্ত উপজেলা গড়তে তাদের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

​তিনি বলেন:
​”গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোরে সফল অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ৩ আসামিকে আজ দুপুরেই চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

​এলাকার সাধারণ মানুষ পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং চিহ্নিত অপরাধী সুজাত শেখ গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, চুয়াডাঙ্গাকে অপরাধমুক্ত রাখতে পুলিশের এই ধরনের কঠোর অভিযান যেন নিয়মিত চালু থাকে।