০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিয়াকৈরে মোবাইল অ্যাপস ভিত্তিক অনলাইন জুয়া খেলে ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ নিঃস্ব হচ্ছে নানা পরিবার

 

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর একটি শিল্পাঞ্চল মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক অনলাইন জুয়ার কবলে পড়ে ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গার্মেন্টস শ্রমিক, বেকার তরুণ-কেউ বাদ যাচ্ছে না। লেখাপড়া, কাজ-কর্ম, সংসার সব বাদ দিয়ে এখন একটাই নেশা,মুহূর্তেই লাখপতি হওয়ার স্বপ্ন। ফলাফল একটাই-নিঃস্বতা,ঋণের বোঝা,পরিবার ভাঙন এবং আত্মহত্যার হুমকি।

সরেজমিনে উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়, মৌচাক, সফিপুর, ও কালিয়াকৈর পৌর এলাকায় ঘুরে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। চায়ের দোকানের বেঞ্চ,ব্রিজের নিচে, গলির মোড়, নির্জন জায়গা-যেখানেই নেটওয়ার্ক মেলে সেখানেই জটলা বেঁধে বসে আছে তরুণের দল। হাতে স্মার্টফোন, স্ক্রিনে থ্রি পাত্তি, লুডু ক্লাব, ক্যাসিনো, বাজিনামের অ্যাপ। পাশেই বিকাশ-নগদ-রকেটের এজেন্ট। কেউ টাকা ঢালছে, কেউ হেরে কাঁদছে, কেউ আবার ধার করে খেলছে রিকভারির আশায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ শিক্ষার্থী জানায়, ভাই, প্রথমে ১০ টাকা দিয়ে ৫০ টাকা জিতছিলাম। লোভ লেগে গেল। এখন বাবার কাছে মিথ্যা বলে, বন্ধুর কাছ থেকে ধার করে প্রতিদিন ২-৩ হাজার টাকা হারাই। পড়ালেখা শেষ।

ভাঙছে পরিবার, ঝরছে চোখের পানি। একজন ভুক্তভোগী তরুণের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলে আমার ইন্টার ২য় বর্ষে পড়ত। মোবাইলে জুয়া খেলে এখন ৩ লাখ টাকা ঋণ। সুদের টাকা শোধ দিতে না পেরে ১৫ দিন ধরে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। আমার সংসারটা শেষ করে দিল এই মোবাইল।

কালিয়াকৈর পৌর এলাকার এক গার্মেন্টস শ্রমিকের স্ত্রী জানান, স্বামীর ১৮ হাজার টাকা বেতন। মাসের ১০ তারিখেই সব টাকা জুয়ার অ্যাপে শেষ। এখন বাচ্চার দুধ কিনতে পারি না। প্রতিদিন ঝগড়া, মারামারি।

কালিয়াকৈরের ৩টি কলেজ ও ৫টি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাসে ৭০% ছাত্রের মনোযোগ নেই। তারা ঘুমায়,নয়তো বেঞ্চের নিচে মোবাইল টেপে। পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ২০%। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও ঝরে পড়ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

কালিয়াকৈরে মোবাইল অ্যাপস ভিত্তিক অনলাইন জুয়া খেলে ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ নিঃস্ব হচ্ছে নানা পরিবার

Update Time : ০৭:২১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

 

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর একটি শিল্পাঞ্চল মোবাইল অ্যাপসভিত্তিক অনলাইন জুয়ার কবলে পড়ে ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গার্মেন্টস শ্রমিক, বেকার তরুণ-কেউ বাদ যাচ্ছে না। লেখাপড়া, কাজ-কর্ম, সংসার সব বাদ দিয়ে এখন একটাই নেশা,মুহূর্তেই লাখপতি হওয়ার স্বপ্ন। ফলাফল একটাই-নিঃস্বতা,ঋণের বোঝা,পরিবার ভাঙন এবং আত্মহত্যার হুমকি।

সরেজমিনে উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়, মৌচাক, সফিপুর, ও কালিয়াকৈর পৌর এলাকায় ঘুরে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। চায়ের দোকানের বেঞ্চ,ব্রিজের নিচে, গলির মোড়, নির্জন জায়গা-যেখানেই নেটওয়ার্ক মেলে সেখানেই জটলা বেঁধে বসে আছে তরুণের দল। হাতে স্মার্টফোন, স্ক্রিনে থ্রি পাত্তি, লুডু ক্লাব, ক্যাসিনো, বাজিনামের অ্যাপ। পাশেই বিকাশ-নগদ-রকেটের এজেন্ট। কেউ টাকা ঢালছে, কেউ হেরে কাঁদছে, কেউ আবার ধার করে খেলছে রিকভারির আশায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ শিক্ষার্থী জানায়, ভাই, প্রথমে ১০ টাকা দিয়ে ৫০ টাকা জিতছিলাম। লোভ লেগে গেল। এখন বাবার কাছে মিথ্যা বলে, বন্ধুর কাছ থেকে ধার করে প্রতিদিন ২-৩ হাজার টাকা হারাই। পড়ালেখা শেষ।

ভাঙছে পরিবার, ঝরছে চোখের পানি। একজন ভুক্তভোগী তরুণের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলে আমার ইন্টার ২য় বর্ষে পড়ত। মোবাইলে জুয়া খেলে এখন ৩ লাখ টাকা ঋণ। সুদের টাকা শোধ দিতে না পেরে ১৫ দিন ধরে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। আমার সংসারটা শেষ করে দিল এই মোবাইল।

কালিয়াকৈর পৌর এলাকার এক গার্মেন্টস শ্রমিকের স্ত্রী জানান, স্বামীর ১৮ হাজার টাকা বেতন। মাসের ১০ তারিখেই সব টাকা জুয়ার অ্যাপে শেষ। এখন বাচ্চার দুধ কিনতে পারি না। প্রতিদিন ঝগড়া, মারামারি।

কালিয়াকৈরের ৩টি কলেজ ও ৫টি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাসে ৭০% ছাত্রের মনোযোগ নেই। তারা ঘুমায়,নয়তো বেঞ্চের নিচে মোবাইল টেপে। পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ২০%। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও ঝরে পড়ছে।