০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‍্যাব-৯ ও ১১ এর যৌথ অভিযানে তাহিরপুর হত্যা মামলার পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার

 

এম আর সজিব, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্য অপরাধ দমনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে মাদক উদ্ধার, হত্যা মামলা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে র‍্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি যে কোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র‍্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ গঠনে কাজ করছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহত আঙ্গুর মিয়া সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার রাজাই এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও একই এলাকার বাসিন্দা। গত ১৭ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ১ মিনিটে তাহিরপুর থানাধীন চাঁনপুর বিওপি’র বিজিবি সদস্যরা ভারতীয় বিড়িসহ কয়েকজন চোরাকারবারিকে ধাওয়া করলে তারা আঙ্গুর মিয়ার বাড়ির উঠানে ভারতীয় বিড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ওই বিড়ি জব্দ করে নিয়ে যান।
বিজিবি সদস্যরা চলে যাওয়ার পর অভিযুক্তরা আঙ্গুর মিয়ার বাড়িতে এসে তাকে ওই ঘটনার জন্য দায়ী করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে একই দিন রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আঙ্গুর মিয়ার ভাতিজা তাকে ফোন করে বাড়ির পিছনে টর্চলাইটের আলো দেখতে পাওয়ার কথা জানায়। এরপর তিনি বাড়ির পিছনের দিকে গেলে আর ফিরে আসেননি।
কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে সংবাদ পাওয়া যায় যে, রাজাই এলাকার একটি পতিত কৃষি জমিতে আঙ্গুর মিয়ার মরদেহ পড়ে রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা তার রক্তাক্ত মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই র‍্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ এবং র‍্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ৩১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন দক্ষিণ গোলাকান্দাইল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানার মামলা নং-২২, তারিখ-১৮/০৫/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ এর এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর পলাতক আসামি হেলাল মিয়া (২০)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত হেলাল মিয়া তাহিরপুর উপজেলার রাজাই গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিমের ছেলে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

র‍্যাব-৯ ও ১১ এর যৌথ অভিযানে তাহিরপুর হত্যা মামলার পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার

Update Time : ০৩:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

 

এম আর সজিব, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্য অপরাধ দমনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে মাদক উদ্ধার, হত্যা মামলা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে র‍্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি যে কোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র‍্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ গঠনে কাজ করছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহত আঙ্গুর মিয়া সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার রাজাই এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও একই এলাকার বাসিন্দা। গত ১৭ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ রাত আনুমানিক ১২টা ১ মিনিটে তাহিরপুর থানাধীন চাঁনপুর বিওপি’র বিজিবি সদস্যরা ভারতীয় বিড়িসহ কয়েকজন চোরাকারবারিকে ধাওয়া করলে তারা আঙ্গুর মিয়ার বাড়ির উঠানে ভারতীয় বিড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ওই বিড়ি জব্দ করে নিয়ে যান।
বিজিবি সদস্যরা চলে যাওয়ার পর অভিযুক্তরা আঙ্গুর মিয়ার বাড়িতে এসে তাকে ওই ঘটনার জন্য দায়ী করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে একই দিন রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আঙ্গুর মিয়ার ভাতিজা তাকে ফোন করে বাড়ির পিছনে টর্চলাইটের আলো দেখতে পাওয়ার কথা জানায়। এরপর তিনি বাড়ির পিছনের দিকে গেলে আর ফিরে আসেননি।
কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে সংবাদ পাওয়া যায় যে, রাজাই এলাকার একটি পতিত কৃষি জমিতে আঙ্গুর মিয়ার মরদেহ পড়ে রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা তার রক্তাক্ত মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই র‍্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ এবং র‍্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ৩১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন দক্ষিণ গোলাকান্দাইল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানার মামলা নং-২২, তারিখ-১৮/০৫/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ এর এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর পলাতক আসামি হেলাল মিয়া (২০)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত হেলাল মিয়া তাহিরপুর উপজেলার রাজাই গ্রামের মৃত আব্দুল হেকিমের ছেলে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।