১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জঙ্গল সলিমপুরে কারাগার স্থাপনের পরিকল্পনা, অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধমুক্ত করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বর্তমান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে এমন কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধী গোষ্ঠীকে আর ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরে কোনো সন্ত্রাসীর অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই কারা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। পরবর্তীতে ভূমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শুধু কারাগার নয়, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এজন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে মানচিত্র পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সলিমপুর, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজন হলে হেলিকপ্টার সহায়তাও ব্যবহার করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের আস্তানার তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এসব অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, “জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিরাপদ সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে।”
সভায় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবির মহাপরিচালক, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ৫ দিন পর ওসি বদলি

জঙ্গল সলিমপুরে কারাগার স্থাপনের পরিকল্পনা, অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Update Time : ১০:৪২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধমুক্ত করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বর্তমান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে এমন কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধী গোষ্ঠীকে আর ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরে কোনো সন্ত্রাসীর অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই কারা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। পরবর্তীতে ভূমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শুধু কারাগার নয়, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এজন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে মানচিত্র পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সলিমপুর, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজন হলে হেলিকপ্টার সহায়তাও ব্যবহার করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের আস্তানার তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এসব অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, “জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিরাপদ সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে।”
সভায় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবির মহাপরিচালক, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।